somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মায়ের মুখে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি - 03

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০০৭ রাত ২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নদীতে গুটি কয়েকটা নৌকা। মনি খালাম্মা দৌড়ে গিয়ে একটা নৌকায় উঠে পড়লেন। জোর গলায় বললেন, এই নৌকা আমাদের রিজার্ভ করা ! আমরা সবাই আটসাট হয়ে সেই নৌকায় গিয়ে বসলাম। অন্য নৌকা গুলোও দ্রুত ভর্তি হয়ে গেছে। আমাদের নৌকা ছেড়ে দিয়েছে, এ যাত্রায় বুঝি বেঁচে গেলাম।

নৌকা মাত্রই ওপার ভিড়েছে, ওমনি গোলাগুলি শুরু হয়ে গেলো। পাকিস্তানী আর্মিরা নদীর ওপার থেকে গুলি ছুড়ছে আমাদের দিকে। নদীর দু'পাড়ের মানুষ উর্দ্ধশ্বাসে দৌড়ে পালাচ্ছে। কয়েকজন সেখানেই শেষ। নৌকা থেকে অনেকে ঝাপ দিয়ে পড়লো মাঝ নদীতে। আমি ছোট্ট সেলিম কে এক হাতে আর অন্য হাতে সুটকেস নিয়ে দৌড়ে পালালাম। শত মানুষের ধল সেখানে। এক মহিলাকে দেখলাম চিৎকার করে কাদছে, গোলাগুলির সময় সে তার বাচ্চা কে কোথায় যেন ফেলে আসছে।

কত মাইলের পর মাইল যে হেটেছি তার কোন হিসাব নাই। পথে আমাদের সাথে এস.এম হলের এক ছাত্রের দেখা। 25 মার্চের সেই কালরাতে সে হলের ম্যানহোলের ভিতর লুকিয়ে ছিল। ম্যানহোলের ঢাকনার উপর দিয়ে কত বুটের আওয়াজ যে কানে এসেছে। প্রতিটা ক্ষণ তাকে মৃতু্যর প্রহর গুনতে হয়েছিল। পড়ে গভীর রাতে কিভাবে যেন পালিয়ে আসতে পেরেছে। সে কখনো আমাদের ব্যাগ বহন করে কখনো ছোট্ট সেলিম কে কোলে নিয়ে অনেকখানি পথ এগিয়ে দিয়েছে। আরেক লোক সদর ঘাট থেকে এসেছে। সে দেখেছে লঞ্চ টার্মিনালে রক্তের বন্যা আর লাশের স্তুপ।

শহর থেকে হাজার হাজার মানুষ গ্রামে আসছে। গ্রামের মানুষরা কেউ মিষ্টি আলু, রুটি, ভাত, বাচ্চাদের জন্য দুধ দিয়ে আমাদের মত ঘর ছাড়া মানুষদের সাহায্য করছে। আমাদের ব্যাগে রুটি ছিল কিন্তু খাওয়া হয়নি। আসলে ঐ সময়ে খাওয়া যায় না।

সন্ধ্যার দিকে আমরা আমাদের গন্তব্যে পৌছালাম। আমাদের দেখে নানা দৌড়ে আসলেন, চোখের পানি মুছে বললেন "তোরা বেঁচে আসোছ ! আমি মনে করছি তোরা সবাই শেষ" মা কে জিজ্ঞেস করলো, জামাই কই? কিন্তু, আমরা জানি না আব্বা কোথায় ?

- অসমাপ্ত -

[link|http://www.somewhereinblog.net/jhorohowa/post/28704598| gv
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফের 'রসগোল্লা'

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৫ ই জুন, ২০২১ রাত ৮:৪৮


মুজতবা আলী সাহেবের ‘রসগোল্লা’ গল্প পড়ে রসগোল্লার রস আস্বাদন করেননি এমন বাঙ্গালী সাহিত্যপ্রেমী খুঁজে পাওয়া দুস্কর!
কোত্থেকে যেন জেনেছিলাম রসগোল্লার উদ্ভাবক কলকাতার এক ময়রা আর সেটা উদ্ভাবিত হয়েছিল এই বিংশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালোবাসলে ভালোবাসা' ই ফিরে আসে ! ( বাদল দিনের চিঠি )

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ১৫ ই জুন, ২০২১ রাত ১১:৩২


ভালোবাসলে ভালোবাসাই ফিরে আসে ঠিক!

তুমিময় একটা শহর! ক্যাম্পাসের শীত গ্রীষ্ম, নিউ মার্কেটের বই স্টেশনারি, গাউছিয়া চাঁদনি চকের টিপ চুড়ি, ধানমন্ডি ছুঁয়ে সংসদের রাস্তায় তারুণ্যের উত্তালদিন। বয়সের সিড়ি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফুল নেবে গো..................( গোলাপ রহস্য)

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১৫ ই জুন, ২০২১ রাত ১১:৪৭



বিশ্ব জুড়ে জুন মাসটিকে বলা হয় গোলাপের মাস। এই জুনকে স্মরণে লেখাটি উৎসর্গিত।


ফুল ভালোবাসেন না এমন মানুষ সম্ভবত নেই । ফুলের জন্যে ভালোবাসা কেমন হবে, কবি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আরিশের প্রথম জন্মদিন

লিখেছেন হাবিব স্যার, ১৬ ই জুন, ২০২১ রাত ১২:০৮



আমার ছেলে আরিশ রহমান।
আরিশ রহমান ছাড়াও ওর আরো একটা নাম রয়েছে। আসওয়াদ। নামটি রেখেছেন আরিশের নানু। আসওয়াদ নামে ডাকলে সাড়া দেয় বেশি। ছেলে আমার হাঁটতে শিখেছে প্রায় এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরীমনিকে যারা “মক্কার খেজুর” মনে করেন, ছবি এবং কথাগুলো তাদের জন্য।

লিখেছেন আসিফ শাহনেওয়াজ তুষার, ১৬ ই জুন, ২০২১ রাত ১২:৩৬


মাস দেড়েক আগে রোজার ভেতর সারাদেশে যখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউটা আসলো, তখন পরীমনি দুবাই গিয়েছিলো অবকাশ যাপন করতে । সোশ্যাল মিডিয়ায় সে তখন এমন কিছু আয়েশী জীবনের ছবি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×