বঙ্গবন্ধু নাস্তা করছিলেন, পাশে বসা খোন্দকার মোশতাক। বঙ্গবন্ধু উনার রাতের স্বপ্ন বলছিলেন। কাল রাতে নাকি উনাকে উনার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস কুরবানী দিতে বলা হয়েছে। উনার সবচেয়ে প্রিয় হলেন খোন্দকার মোশতাক। রসিকতা করে বলছিলেন, মোশতাককেই কুরবানী দিয়ে দিবেন ভাবছেন।
র'(RAW) এর কর্মকর্তা কাউ বঙ্গবন্ধুর কাছে খবর নিয়ে এসেছেন, জেনারেল জিয়ার বাড়িতে লে.কর্ণেল ওসমানী, কর্ণেল ফারুক এবং মেজর রশীদ এক মিটিং এ বসেছিলেন। অখানে উনাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করা হচ্ছিলো। বঙ্গবন্ধু উনাকে একপ্রকার তাড়িয়ে দিলেন। বললেন, "আপনি যাদের কথা বলতে এসেছেন ওরা আমার সন্তানসম।''
১৫ আগস্ট এই 'সন্তানসমদের' হাতেই সপরিবারে মারা গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু, সবচেয়ে প্রিয় মোশতাক হয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট।
ক্যাপ্টেন আসাদ আর ক্যাপ্টেন জলিলকে খুব পছন্দ করতেন খালেদ মোশররফ। ক্যাপ্টেন আসাদকে যুদ্ধের সময় নিজের জীবনের সাথে খেলে বাঁচিয়েছিলেন। সিপাহী বিদ্রোহের সময় খালেদ মোশাররফের বুকে গুলি চালিয়েছিলেন এই দুই অতি পছন্দের অফিসারই।
জেনারেল জিয়া তখন বন্দী। ৭ নভেম্বর কর্ণেল তাহের গেলেন উনাকে উদ্ধার করতে। সিপাহীদের সহায়তায় মুক্ত করে নিয়ে এলেন জেনারেল জিয়াকে। জিয়া এর পরে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। সামরিক আদালতে বিচার হয়েছিলো কর্ণেল তাহেরের। জিয়ার আমলেই জিয়ার প্রত্যক্ষ্যেই ফাসিতে ঝুলেছিলেন এই বিপ্লবী।
জেনারেল মঞ্জুর জেনারেল জিয়ার ডান হাত ছিলেন বলেই মনে করা হয়। কাছে কাছে থাকতেন, জিয়া উনাকে কাছে রাখতেন। ধারণা করা হয়, চট্টগ্রাম ক্যান্টনম্যান্টে সে রাতে জেনারেল মঞ্জুরের সম্মতিতেই হত্যা করা হয় জেনারেল জিয়াকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

