somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের খলেরা-বর্ণচোরা (গল্প সিরিজ)

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

-আরে খাচ্ছো না কেনো?
-উঁ উঁ উঁ।
-বাবা খাও।
-না!
-দেখো যদি না খাও তাহলে বস্তা পাগল চলে আসবে।
-গররর...

দৌড়ে গিয়ে শিহাব কার্বাডের ভেতর লুকোয়। তার মা খুঁজতে হয়রান হয়ে গেলেন। নাসরিনের একমাত্র ছেলে শিহাব। স্বামী ব্যবসায়ী। কাল ছেলের জন্মদিন অথচ ছেলের আজ অদ্ভুত আচরণে কেমন জানি লাগছে। ছেলেকে খুঁজতে কার্বাডের সামনে এলেন। অথচ ছেলে এদিকে এসেছিলো কিন্তু খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একটু করে কার্বাডের দরজা খুলে দেখলেন ভেতরটা। খালি কাপড়। হঠাৎ একটু উপরে তাকালেন। কাপড় যেখানে টাঙ্গানো হ্যাঙ্গারে সেখানে তাকিয়ে ভালোভাবে লক্ষ্য করলেন কাপড়ের পাড়ের রংয়ের শেষ প্রান্তটা একটা ছোট্ট মানুষের মাথার আকৃতি ধারণ করে। এক সেকেন্ড হতবিহ্বল হয়ে তাকিয়ে রইলেন। তার খানিক পরেই জ্ঞান হারালেন।

এ ঘটনাটি ঘটে আজ থেকে সতেরো বছর আগে। শিহাব এখন ভাগ্যদোষে বস্তিতে। তার বাবা মাকে সেদিনই রাতে এক প্রতাপশালী নেতা লোকজন পাঠিয়ে খুন করে। ভাগ্যক্রমে শিহাবের রং ও অবয়ব পাল্টানোর অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। তাই সেদিন খুনের সময় শিহাব অদ্ভুতভাবে ডাইনিং টেবিলের তলটায় লেপ্টে গিয়েছিলো। এই অদ্ভুত ক্ষমতার জন্য তাকে আশেপাশের সবাই বর্ণচোরা ডাকতে শুরু করে।

সেই বাড়িটার কি হলো? প্রভাবশালী নেতা সেই দোতলা বাড়িটাকে হেডকোয়ার্টার বানায়। শিহাব তার অতীত ভোলেনি। বুঝে নেয় কিভাবে তার ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিয়েছে নেতা।

এবং সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে শুরু করেছে ঠিক যে সময়টা দেশে ক্রিটিক্যাল একটা অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কথায় আসা যাক, প্রভাবশালী নেতার নাম নাসির। খুব বড়সড় ধরণের দাঁও মেরেছে যৌবনে। তার সেই দাঁও মারাতে ফেলে ফুঁপে উঠেছে ব্যবসাপাতি। চালের আড়তটা খুঁজে পেয়েছে বর্ণচোরা। এক রাতে ঢুকে বস্তাগুলো ফুটো করে দিলো।
-কেডা করছে এই কাম?
-স্যার ঠিক জানিনা।
-খুইজা বাইর কর।

সেদিন রাতে অদ্ভুত কান্ড ঘটলো। নাসিরের বাসার পাশ দিয়ে যেই বিশাল মাঠটা ছিলো তাতে হঠাৎ করে বিকট বিস্ফোরণ হয়ে ধ্বস নামে। তারও কিছুদিন পর নাসিরের নতুন কেনা পাজেরো অল্প সময়ের জন্য বেচে যায়। একটা লরি ট্রাক এসে ঠিক দু ইঞ্চি ফাক থাকতে পাশ দিয়ে চলে যায়।

এসব প্রত্যেকটি ঘটনার সাথে বর্ণচোরা ওরফে শিহাব জড়িত। সে চেয়েছিলো আস্তে আস্তে নাসিরকে ভীতসন্ত্রস্ত করে তুলতে। তবে সে খুনোখুনিতে জড়াতে চায়নি। কিন্তু একদিন...... মস্ত এক ভুল করে বসলো। নাসিরের ঠিক মূল জায়গায় আঘাত করার প্ল্যানে একজন চলে আসলো।

শিহাব যেদিন নাসিরের মার্কেট এ একটা ভয়াবহ বিস্ফোরণের প্ল্যান করেছিলো সেদিন সে জানতো না যে একজন মন্ত্রী আসবে উদ্বোধন করতে। এবং সেই মারাত্নক ভুলটা সেদিনই হলো। মন্ত্রী থেকে দশ গজ দুরে বিস্ফোরণ হলো। যেখানে প্ল্যান মোতাবেক কারো ক্ষতি হওয়ার কথা ছিলো না, সেখানে দুজন প্রচন্ড আহত হয়ে হাসপাতালে যায়। পরদিন একজন মারা যায়।

বিষয়টা সরকারের নজরে আসে। বর্ণচোরাকে ধরিয়ে দিতে হুলিয়া জারি করা হয় এবং মন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যাহত হওয়ায় আর একটি মামলা করা হয়। এতে ক্ষেপে যায় বর্ণচোরা। প্ল্যান করে নেতাকে খুন করার।

সেই রাত......

আকাশের দিকে তাকিয়ে মা কে খুজছিলো শিহাব।
"মা আজ তোমার খুনিকে খুন করবো।"

ঠিক রাত বারোটার কাটা ছুলো।
আস্তে আস্তে দেয়ালের সাথে লেপ্টে গিয়ে ঢুকে গেলো নাসিরের বাড়ির ভেতর। নাসির হিসাব নিকাশ শেষ করছিলো। এমন সময় খেয়াল করলো অদ্ভুত কি একটা দেয়াল থেকে খুব সাবধানে নেমে আসছে। ঘ্যাচ করে নাসিরের গলায় ছুরি বসিয়ে দিলো।
-কে কে তুমি?
-আগে বল আমার বাবা মাকে তুই খুন করেছিস কেনো?
-আমি না। ঐ মন্ত্রীই খুন করিয়েছে। কিন্তু কেকে তুমি?
-আমি? বর্ণচোরা......
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:২৪

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

হয়তো আজ টেলিফোনও অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মতো স্মার্ট হতো!



একসময় মানুষের দূর-দূরান্তে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল টেলিফোন। মোবাইল ফোনের মতোই টেলিফোন দিয়ে কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×