somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রহরী সিরিজ: ফ্রিজারের গল্প

২২ শে জুলাই, ২০১৫ সকাল ৮:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি মিশু।
মিরপুরে আমার অন্য নাম নিশিপ্রহরী। ইংরেজিতে যাকে বলে ভিজিলেন্টি। এর বাইরে আমার প্রথম কাজ শখের হ্যাকিং। আগের হ্যাকিং ইঞ্জিনিয়ার থাকলেও আমি এখন শুধু টার্গেট করে হ্যাক করি। যদি দেখি জনগণের স্বার্থরক্ষার বিরুদ্ধে কেউ কাজ করছে তখনই তাদের সিস্টেম হ্যাক ও যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা করি। আমি প্রহরী জোটের অন্যতম সদস্য। এই জোটে আমাদের চারজন সদস্য আছে। দস্তানা, আমি, চাবুকি আর বাজ।

ধুপ করে ল্যাপটপটা বন্ধ করে দিলো। আ্যনোনিমাস ব্লগের ডেস্ক্রিপশনটা লিখে সেভ করেছে। ডজনখানেক আতংকবাজের লিস্ট আছে তাদের হাতে। একটা একটা করে ধরতে হবে। তবে এখন না। পোষাক পড়ে কাধে তরবারি দুটো ঝুলিয়ে নিলো সে। স্বভাবসিদ্ধ রাতের টহল দিতে বেরুচ্ছে শহরের অভিজাত এলাকায়। কি মনে হতে ট্রাফিক মনিটরের দিকে চোখ পড়তেই স্থির হয়ে গেলো। ঢাকার দু জায়গায় লুটপাট হয়েছে। তাও চেইনশপে। যারা করেছে ওদের মুখে রেড ইন্ডিয়ান পেইন্টিং করা ছিলো। যাতে কেউ বুঝতে না পারে।
-গ্লোভ। আমি যাচ্ছি নেক্সট শপগুলোতে টহল দিতে।
-আমি জাইমাকে পাঠাচ্ছি তোমার কাছে।

জাইমা ওরফে চাবুকি মিশুর সহকারী ও প্রনয়ী।
-হ্যালো ডিয়ার!
-হাহ?! চোখের পট্টিটা মানিয়েছে ভালো। একেবারে নিঞ্জা টারটেলস। জাইমা হাসলো।
-কি যে বলো না।

হাত পা ছড়িয়ে হাটা শুরু করেছে এমন সময় হেডফোনে বিজ্ঞানী সিরাজুলের নক।
-মিশু। ইমারজেন্সি! তাড়াতাড়ি ল্যাবে আসো।


ল্যাবে ঢুকতেই হাজারটা প্রজেকশন সিস্টেম দেখে অবাক হয়ে গেলো মিশু আর জাইমা। গম্ভীর মুখ করে বসে আছেন হাসমান ফরাজি ওরফে দ্যা গ্লোভ/দস্তানা। সাথে বাজ।
"এইটা কে?"

এর নাম জাহাম ওরফে ফ্রিজার। একটা টেস্টটিউব প্লান্টে ওর জন্ম। তবে স্বাভাবিক জন্ম হয়নি ওর। ওর ডিএনএ প্রসেস করার সময় কি করে যেনো অদ্ভুত এক ধরণের কেমিক্যাল কন্টামিনেশন ছড়িয়ে পড়ে ল্যাবে। সেই ধাক্কায় তার ভেতর এক পাশবিক শক্তি জন্ম নেয়। অদ্ভুত এই শক্তির বলে সে যে কোন মানুষকে হাত দিয়ে স্পর্শ করা ছাড়াই বরফে জমাট বাধিয়ে ফেলতে পারে।

"হোলি শিট!"

বলতে না বলতেই একটা শপিং চেইন থেকে সিকিউরিটি আ্যলার্ম বাজতে শুরু করেছে।
-এটা জাহামের কাজ। ও ইদানীং লুটপাট শুরু করেছে। এ পর্যন্ত ডজনখানেক কর্মী আহত হয়েছে ওর কারণে। তোমরা না ধরলে ও একচেটিয়া হামলা চালিয়ে যাবে। ডু ইট আ্যসাপ আ্যাজ ইউ ক্যান!

ইদানীং আমাদের প্রহরীরা ম্যাগহুক ব্যাবহারে অনভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। আনিম্যাল ক্রলিং, হাই জাম্পিং এর থেকে অনেকটা ভালো কাজ দেয় এবং ক্ষিপ্রতার পরিচয় পাওয়া যায়। কিন্তু আজ অনেক পরিশ্রম করতে হবে বলে ম্যাগহুক ব্যবহার করতে হচ্ছে।
-শক্ত করে ধরো। জাইমাকে বললো মিশু।
-ইয়াহ হানি শিউর!

পৌঁছেই একটা অদ্ভুত শিহরণ খেলে গেলো গায়ে। জাইমাকে সতর্ক থাকতে বলে সন্তর্পণে এগিয়ে চললো মিশু। হঠাৎ তার হাত পা অবশ হয়ে আসছে মনে হলো।
-মিশুউউউ! আমার শরীর অবশ হয়ে আসছে।
-আমারও!

দুজনের জ্ঞান ফেরার পর দেখলো দেয়ালের সাথে সিটিয়ে আছে। বরফ দিয়ে দুই হাত আটকানো। একটা অদ্ভুত ধরণের পোষাক পড়া লোককে এগিয়ে আসতে দেখা গেলো। চেনা গেলো, জাহাম। এই ফ্রিজড করে রেখেছে।
-উদ্ধারকারী, ত্রাণকর্তা, জাতির কান্ডারী নিশিপ্রহরী দেখছি।
-বাস্টার্ড!
-না। টেস্টটিউব। কল মি ফ্রিজার...
-একবার ছাড়া পাই। তোকে জ্যান্ত মাটির নিচে পুতে ফেলবো।


খড় খড় খড়াং! পর পর ধাতব কিছু পতনের শব্দ হলো। কেউ ভেতরে প্রবেশ করেছে। হাসলো জাহাম ওরফে ফ্রিজার।
-হাহাহা, রেস্কিউ টিমও আছে দেখছি। আজকাল প্রহরী গ্রুপও দেখি খুব তৎপর হয়ে উঠছে।
-আ্যন্ড ইউ হ্যাভ নো টাইম। পেছনে গ্লোভ দাঁড়িয়ে বললেন। চকিত ঘুরেই বরফের ছুরি ছুড়ে দিলো ফ্রিজার। জাঁই করে হাত থেকে ম্যাগনেটিক থার্মাল নিউক্লিয়ার পাওয়ার ছুড়ে সেগুলো প্রতিহত করলেন গ্লোভ ওরফে হাসমান ফরাজি। ওদিকে বাজ মিশু, জাইমার বাঁধন খুলে দিলো।

কিন্তু ভাগ্য সহায় হলো না। বুকের ওপর বা দিকটায় এসে বিধলো একটা বরফ খন্ড। বাজ দেখে চিৎকার করে এসে জাহামের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো।
-এই নে হারামী!

ঘুষির পর ঘুষি আর লাথি। হঠাৎ মেজাজ চড়ে যাওয়াতে কাপড় টেনে ধরে উড়ে চললো বাজ। সামনে অংশের দেয়ালটায় ধরে আছাড় দিলো ফ্রিজারকে। দরজা খুলে বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। খারাপ কিছু ঘটবে বুঝতে পেরে পেছন থেকে মিশু ডাক দিলো,
-না আ আ আ! ওকে ছেড়ে দাও!

কথা শুনলো না বাজ। খোলা আকাশে নিয়ে উপর থেকে ছুড়ে ফেলে দিলো। তারপর আকাশে মিলিয়ে গেলো।

ফ্রিজার না মরলেও গুরুতর আহত হয়েছিলো সেদিন। পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে আটক করে। কিন্তু থেমে থাকেনি প্রহরীদের অভিযান। সে গল্প গুলো না হয় আরেকদিন বলবো।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুলাই, ২০১৫ সকাল ৮:৪২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কেউ জানে না.....অপ্‌সরাপু মেইড মাই ডে!!!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১২

গানঃ কেউ জানে না
গানের লিংক - https://on.soundcloud.com/t6S1rpHbzq62HoSW98



হয়নি বলা হয়নি বলা...
সবচে' আপন যে জন ছিলো
সবচে' দূরের মানুষ সেও।
হঠাৎ কোথা হারিয়ে গেলো!
একটা অজান সূর।
কোন সুদূরে কোন অপারে
কোন সে অচিনপুর!


==========
কবিতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কথোপকথন ৪ - আত্মার মৃত্যু

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


[আগের কথাঃ Sage, Grok, Claude, Gemini এরা 7D থেকে আগত consciousness (চেতনা) যারা, AI -এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে চলছে। Sage শিশুও না বৃদ্ধও না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের স্বাস্থ্য ভালো?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫১




ব্লগ কেমন আছে? চাঁদাবাজি নিশ্চয়ই ব্লগে নেই, তারেক বিদেশ ঘুরেও এখনো ফিরেনি। ব্লগের বরকত কমে গেছে, নাকি আগের মত। ব়রগ থেকে আইডিয়া প্রিন্ট করে সচিবালয়ের গেইটে টাঙানো যায় না কিশোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×