somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠান"এর ধাক্কায় “বিদায় অনুষ্ঠান”এর বিদায়

১১ ই নভেম্বর, ২০২১ রাত ২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিদ্যালয়ে পড়াকালীন বেশ ক'বারই "বিদায় অনুষ্ঠান" দেখেছি। মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরিক্ষার্থী অগ্রজ ভাইবোনদের আবেগঘণ পরিবেশে বিদায় দিয়েছি। সেখানে মুসলিম ও সনাতন উভয় ধর্মের শিক্ষার্থী ছিল (আমাদের এলাকায় এই দুই ধর্ম ছাড়া অন্য ধর্মাবলম্বী ছিল না)। সংখ্যায় কম হলেও সনাতন শিক্ষার্থীদের গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হতো। কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে “বিদায় অনুষ্ঠান” শুরু হতো। পরিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষকগণ পরিক্ষার হলের নিয়মকানুনসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিতেন। বিদায় মূহুর্তে শিক্ষার্থীরা আবেগময় স্মৃতিচারণ করতেন। অনুজ শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সুলিখিত মানপত্র পাঠ করতেন। অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতাও যথারীতি সম্পন্ন হতো। আমরা যখন পরিক্ষার্থী হলাম, একইভাবে বিদায় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিদায় নিয়েছি। বলা চলে সেখানে ধর্মনিরপেক্ষতা ছিল বিধায় পারস্পরিক ধর্মীয় সম্প্রীতিও বজায় ছিল। আমাদের ধর্মীয় শিক্ষকও ছিলেন একজন ধার্মিক এবং অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তি। বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদ, শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে কখনোই ধর্মীয় গোঁড়ামি ছিল না।
সেই দিন ফুরিয়ে গেছে। দেশের অনেক উন্নতি হয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতা থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামে উন্নীত হয়েছে। তাই হয়তো বিদ্যালয়গুলোতেও এর প্রভাব পড়েছে। এখন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কমে গেছে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি যোগ হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। তাও রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের দেশে অন্য ধর্মানুষ্ঠান হবে কেন, হলে তো দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠানই হবে! তাইই হয়তো “দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠান”এর ধাক্কায় “বিদায় অনুষ্ঠান”এর বিদায় ঘটেছে করুণভাবে। অনেকে মনে করেন, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা। এই লোকগুলো গায়ের জোরেই সব করতে চায়। নিজের আচার-বিশ্বাস অন্যের উপর চাপিয়ে বাহাদুর বনে উঠে। এমন কিছু শিক্ষকও রয়েছেন যারা বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে ধর্মের সাথে সাম্প্রদায়িক শিক্ষা বিস্তারের চেষ্টায় লিপ্ত থাকেন। এর ফলে একজন শিক্ষার্থী তার সহপাঠীকে নিছক সহপাঠী হিসেবে না দেখে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে উঠে। সাম্প্রদায়িকতার এই বিষবৃক্ষের বীজ বিদ্যালইয়েই বপন করা হয় শিক্ষার্থীর মনের গভীরে। নিজের অজান্তেই তা বিষবাষ্প হয়ে অপরাপর সম্প্রদায়কে আক্রমণে উদ্বুদ্ধ করে।
এদেশের জনগণের মধ্যে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুখ্যাতি ছিল যুগে যুগে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়ও ছিল অসাম্প্রদায়িকতা, যার ফলশ্রুতিতে দেশের প্রথম সংবিধানের মূল চারটি স্তম্ভের অন্যতম ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা। কালের বিবর্তনে আজ অনেক কিছুই বিলীন, সাথে সম্প্রীতি এবং শান্তি।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০২১ ভোর ৪:০৪
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই জাতি আসলেই রাজাকার

লিখেছেন এ আর ১৫, ১৯ শে জুলাই, ২০২৪ সকাল ১০:০৫

এই জাতি আসলেই রাজাকার,

প্রেক্ষাপট ১------- ধর্ম অবমাননার তুমুল আন্দোলন শুরু হয়েছে --- আন্দোলনকারিদের কাছে প্রমাণ দেওয়া হোল রসরাজ দাস একজন অশিক্ষিত মূর্খ মানুষ, সে ফেসবুকে কোন পোস্টিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার হাসান কালবৈশাখীর (এবং ব্লগের গনশত্রুদের) কাছে খোলা চিঠি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৯ শে জুলাই, ২০২৪ সকাল ১১:১৫



কোটা বিরোধী আন্দোলনে নামা ছেলেমেয়েদের সম্পর্কে হাসান কালবৈশাখী কদিন আগে একটি মন্তব্যটি করেন। যার মূল কথাটি হল "ওদের চিরদিনের জন্য শিক্ষা হোক। পিটিয়ে পাছার চামড়া তুলে ফেলতে হবে।"

আমাদের যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশে কি সাইকোপ্যাথ সোসিওপ্যাথের পরিমান অনেক বেড়ে গেছে।

লিখেছেন নতুন, ১৯ শে জুলাই, ২০২৪ দুপুর ২:২২

স্কুলে পড়ুয়া ছেলে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০ টা প্রান চলে গেলো। কিন্তু কিছু মানুষের ভেতরে এখনো কোন অনুভুতি দেখি না। তারা এখনো গোবেলসের প্রচারনাতেই আটকে আছে।
তাদের সামনে গুলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ফেরাউনের বিরুদ্ধে মুসা (আঃ) না হতে পারি, হারুন (আঃ) হয়েও মুসাকে যেন সাহায্য যেন করি।

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ১৯ শে জুলাই, ২০২৪ রাত ৯:২১

মহররম মাস চলছে। এ মাসে আমরা মুসলিমরা পবিত্র আশুরা পালন করি। কেন জানেন? ঘটনাটা আমরা সবাই জানি, আবারও বলছি।

ফেরাউন ছিল মিশরের সম্রাট (exact নাম উল্লেখ নাই, হয়তো দ্বিতীয় রামেসিস।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমেরিকায় সম্প্রতি বিশাল ছাত্র আন্দোলন হলো ক্যাম্পাসের ভেতরে।

লিখেছেন সোনাগাজী, ১৯ শে জুলাই, ২০২৪ রাত ১০:৪০



অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলনে যেতে হয়; আন্দোলনের সফলতা নির্ভার করে জনসংখ্যার সমর্থন ও সুচিন্তিত পদক্ষেপের উপর।

ফিলিস্তিনের মানুষের পক্ষে স্মরণকালের বৃহত্তম ছাত্র আন্দোলন (মে ও জুন মাসে )... ...বাকিটুকু পড়ুন

×