somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজেশ চক্রবর্তী জিতু
ভাল কিছু করার মাধ্যমে আগে নিজেকে সংশোধন করতে চেষ্টা কর। বিনয়ের সহিত স্বাধীন মতামত প্রকাশ কর। বই পড়ে বই হয়ে যেও না। মনে রেখ, তোমার ভাল কাজের ফল একদিন তুমি পাবেই পাবে।

বিধির বিধান

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৮:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রতিদিনের মত অফিস থেকে বের হয়ে ক্লান্তিময় শরীরে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে আছি গাড়ির অপেক্ষায়। কিন্তু হঠাৎ এক পশলা বৃষ্টি এসে আমাকে পুরোটা ভিজিয়ে দিল যেহেতু আমার কাছে ছাতা ছিল না। ক্লান্তিময় শরীরে অনেকটা স্বস্তি অনুভব করছিলাম তখন। কিন্তু বৃষ্টিতে একটাই ভিজেছি যে আমার হাতে থাকা কিছু কাগজপত্র এবং আমি সম্পূর্ণটাই ভিঁজে সিক্ত হয়ে গেলাম। ঠিক একটু পর লক্ষ্য করলাম একটি মেয়ে একটু দূরে দাড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। রহস্যময় মেয়েটির হাসি দেখে এবার অস্বস্তি্ই বোধ করলাম। মেয়েটি আমার কাছে এগিয়ে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করল আমি কোথায় যাব। আমার গন্তব্যটা তাকে বললাম। সে আমার মতই গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিল অনেকক্ষণ ব্যাপি। মেয়েটি শহরে নতুন এসেছে তাই কিছু চিনতে পারছেনা বলে জানাল আমাকে। জানিনা কতটুকু সত্য কথা মেয়েটি আমাকে বলল। এইদিকে গাড়িতেও প্রচুর ভিড় তাই একটা রিকশা নিলাম আমি। আজকালকার পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে একটা অচেনা শহরে একটা অসহায় মেয়েকে এভাবে এত রাতে একা রেখে চলে আসাটা কাপুরুষতা ভাবলাম তাই মেয়েটিকে আমার সাথে যাবে কিনা জিজ্ঞেস করতেই সে আমার রিকশাই উঠে গেল। আমার মনে সন্দেহই লাগল ব্যাপারটা। চেনা জানা ছাড়া একটা মেয়ে হুট করে একটা অপরিচিত ছেলের সাথে যাওয়া ব্যাপারটা কেমন এলোমেলোই লাগল।। মেয়েটির সাথে হালকা কথাবার্তা চলতেই লাগল রিক্সার ভিতর।। কিন্তু মেয়েটিকে যাই জিজ্ঞেস করি শুধুই হেসেই যাচ্ছে।। মেয়েটি পরীক্ষা সেন্টার থেকে পরীক্ষা দিয়েই বাসায় যাবার উদ্দেশ্যেই গাড়ির জন্য দাড়িয়ে ছিল।। মাস্টার্স ফাইনাল বর্ষের ছাত্রী ছিল সে। মাঝে মাঝে আমার কিছু প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে আর হাসছে।। যা্ই হোক, মেয়েটির হাসির মাঝে কেমন একটা দুঃখের ছাপ লক্ষ্য করলাম। একটু পর আমিও দুষ্টুমি করে বললাম, আজকে বৃষ্টিতে ভিজে একটা নতুন বন্ধুর সাথে পরিচিত হলাম। মেয়েটি আবার হাসল আর এবার আমাকে উত্তর দিলো, কোনও লাভ নেই। অবাক হয়ে জানতে চাইলাম আমি, কেন এটা বললেন? মেয়েটি উত্তর দিল- সে একজন ক্যান্সার রোগী। ডাক্তাররা জানিয়ে দিয়েছে সে আর বেশিদিন বাঁচবেনা। হঠাৎ যেন আমার মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়ল কারণ মেয়েটার এত সুন্দর হাসির মাঝে এত দুঃখ লুকিয়ে আছে দেখে। আমার বুঝতে আর বাকি রইল না মেয়েটির মিষ্টি হাসির মাঝে অনেক দুঃখ লুকিয়ে আছে। আমিও স্তব্ধ হয়ে গেলাম। মেয়েটি আমাকে ভারাক্রান্ত মনে বলল- তারও বাঁচতে খুব ইচ্ছে করে, বন্ধুদের সাথে হাসি খুশিতে দিন কাটাতে খুব ইচ্ছে করে।। মেয়েটির মনে অনেক বড় আশা ছিল অনেক বড় হবে জীবনে। আমার যদি কোনও অন্তিম ক্ষমতা থাকত তাহলে আমি তখনই আমার আয়ুর অর্ধেক তাকে ভাগ করে দিয়ে দিতাম। কিন্তু আমার কাছে তাকে ভরশা দেবার মত কোনও কথাই ছিল না। প্রকৃতির অমোঘ বিধানে সবাইকেই এক সময় যেতে হবেই এই পৃথিবী ছেড়ে কিন্তু এভাবে যাওয়ার কথা কেউ ভাবতেই পারেনা। হঠাৎ আমাদের রিকশার চাকাটাও নষ্ট হয়ে গেল। রিকশাওয়ালা আমাদের দুজনকে নামিয়ে দিল।। এখনো অনেক পথ বাকি দুজনের গন্তব্যটা। আজকে ভাগ্যটা খুব খারাপ দুজনের। দুজনে অনেক্ষণ হাটতে লাগলাম। মেয়েটিকে যথাসাধ্য তার গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে আমিও চলে আসলাম। কিন্তু আমার মনটা অনেক খারাপ হয়ে আছে মেয়েটার জন্য।। এত কথার মাঝে মেয়েটির নামটাও জানা হল না আমার। আজও মেয়েটির নাম জানিনা আমি কিন্তু মনের মাঝে সেই মেয়েটার জন্য অনেক কষ্ট লুকিয়ে রইল। যেখানেই থাকুক মেয়েটির দীর্ঘায়ু কামনা করি আমি। সৃষ্টিকর্তা মেয়েটির মনের বাসনা পূর্ণ করুক, ভাল রাখুক।

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৮:০৭
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:০১


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/30393976|প্রথম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:০৩



আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

২০১০, এক-এগারোর পর থেকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত- যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে দাঁড়িয়েছিল, যারা গুম, নির্যাতন, কারাবাস, মামলা, চাকরি হারানো, পরিবার ভেঙে যাওয়া- সবকিছুর মূল্য দিয়েছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর্কাইভ থেকে: তান্নুদের বাড়ি-১

লিখেছেন অর্ক, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ফিরতে হলো কিম্ভূতকিমাকার ত্রিভুজাকৃতি ঘরে। পরিযায়ী পাখিদের ঈর্ষা হয়। মানুষের পৃথিবীতে শুধু দূষণ। রুক্ষ পাথুরে সড়ক—পর্বতারোহণ যেমন কষ্টদায়ক। নভেম্বরের শেষেও শীত নেই। যদিও আজ আর শীতের অপেক্ষায় থাকি না। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা কি সত্যি প্রত্যাবর্তন করবেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩




নানা খবর আর প্রচার প্রোপাগান্ডা শুরু হয়েছে পতিত স্বৈরাচার হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তন নিয়ে। রাজপথে এর কোনও উল্লেখযোগ্য প্রভাব না থাকলেও অনলাইনে আওয়ামী লিগারদের প্রচার প্রোপাগান্ডা আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×