somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাইফুদ্দিনকে সঠিক ব্যবহার করা হয়নি কেনো

০৯ ই মার্চ, ২০১৮ বিকাল ৪:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শিরোনাম দেখে অনেকেই ভাবতে পারেন, তাকে তো সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং বল হাতে খারাপ করাতেই বাদ দেওয়া হয়েছে, এতে দোষের কি? আপাত দৃষ্টিতে এটাই মনে হতে পারে সবার কাছে। এর আগে ভাবতে হবে সাইফুদ্দিনকে পেস অলরাউন্ডার হিসেবে বাংলাদেশ টিমে নেওয়া হয়েছে। যেহেতু পেস অলরাউন্ডার আমাদের দেশে নেই এবং একের পর এক অনেককেই সুযোগ দিলেও কেহই থিতু হতে পারছে না, সেহেতু আগের সবারদের যেমন তেমন সর্বশেষ দলে পেস অলরাউন্ডার হিসেবে যোগ দেওয়া সাইফুদ্দিনকে কি সঠিক ব্যবহার করা হয়েছে।

পাঠক খেয়াল করুন, সাইফুদ্দিন প্রতিশ্র“তিশীল পেস অলরাউন্ডার। জাতীয় দলের হয়ে ইতিমধ্যে ৬টি টি২০ ম্যাচ খেলেছেন। সেখানে চারবার ব্যাট হাতে নেমেছেন অপরাজিত ৩৯, ২৩ ও ২০ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। তার মধ্যে আফ্রিকার মাটিতে ছিল ৩৯ ও ২৩ রানের ইনিংস, এই ইনিংসগুলো খেলেছেন বোলারের জায়গায় ব্যাট করতে নেমে। বল হাতে ২ উইকেট বেস্টে ৪ উইকেট শিকার করেছেন।

যেহেতু সাইফুদ্দিন আফ্রিকার মাটিতেও টি২০ ম্যাচে ৭ নাম্বার পজিশনে ব্যাট করতে নেমে ২৭ বলে ৩৯ রানের ইনিংস খেলেছেন এবং পরের ম্যাচেই ৮ নাম্বার পজিশনে ব্যাট করতে নেমে ২৩ রান করেছেন। সেহেতু ধরে নিতে হবে সাইফুদ্দিন ব্যাট হাতে সফল। সামর্থ্য আছে তার।

বাংলাদেশের পেস অলারউন্ডারদের অবস্থা হলো এমন যে, তাকে ব্যাট করতে হবে ৮/৯ নাম্বার পজিশনে, ৭ পজিশনে সুযোগ পাওয়া মানে বিশাল ব্যাপার। সাইফুদ্দিনের বেলাতেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ব্যাট হাতে সফল হলেও তাকে সামনে সুযোগ দেওয়া হয়নি। উল্টো বল হাতে বাজে করার পরও তার হাতে ৪ ওভার বল করাতে গিয়ে বারবার বল তুলে দিয়ে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। অথচ সাইফুদ্দিনের ব্যাটিংটাকে কাজে লাগিয়ে বল হাতে সুবিধাজনক অবস্থায় ২/৩ ওভার চাপমুক্ত ভাবে করালেই ভালো হতো। অন্তত সুযোগ পেতো নিজেকে পেস অলরাউন্ডার হিসেবে তৈরী করার। ভারতের মতো দলে প্রচুর অভিজ্ঞ ও ভালো ব্যাটসম্যান থাকার পরও হার্দিক পান্ডিয়াকে ৩/৪ পজিশনে ব্যাট করতে দেওয়া হয় অবস্থা বুঝে। কিন্তু বাংলাদেশে পেস অলরাউন্ডারদের বেলাতে তা কখনোই করা হয় না।

আপাত দৃষ্টিতে ৬টি টি২০ ম্যাচ খেলে চারবার ব্যাট করতে নেমে ৩৯, ২৩ ও ২০ রানের ইনিংস কখনোই খারাপ বলা যাবে না। সেই সাথে বল হাতে ৪ উইকেটও পেয়েছেন। যেহেতু বল হাতে ব্যর্থ হয়েছেন, সেহেতু তাকে পুরো ব্যর্থ ক্রিকেটার বানিয়ে বসিয়ে দেওয়া হলো, ব্যাটিং সামর্থ্যরে কথা ভাবা হয়নি। সাইফুদ্দিনের ব্যাট করা চারটি ইনিংসেই চাপের মুহুর্তে ৩৯, ২৩ ও ২০ রান করেছেন। সেখানে যদি সে চাপমুক্ত হয়ে ব্যাট করার সুযোগ পেতো আরো ভালো ঝড়ো ইনিংসও সে খেলতে পারতো। আফ্রিকার মাটিতে ৭ নাম্বারে নেমে ২৭ বলে ৩৯ রানই তার প্রমাণ।

যেহেতু পেস অলরাউন্ডার আমাদের নেই, সেহেতু একজন পেস অলরাউন্ডার তৈরা করার জন্য তাকে সময় দেওয়ার বিকল্প নেই, ৩/৪ পজিশনে ব্যাট করতে দেওয়ার বিকল্প নেই। বল হাতে সাইফুদ্দিন ব্যর্থ হওয়ার পরও তার হাতে বারবার বল তুলে দিয়ে তাকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দেওয়াটা আমার দৃষ্টিতে বাংলাদেশ দলেরই ব্যর্থতা। সাইফুদ্দিন ব্যাটহাতে ব্যর্থ নয়, বরং ব্যর্থ হয়েছে বল হাতে, আমি বলতো তাকে ব্যর্থতার মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ দলে বাদ পড়লে ফিরে আসা কঠিন, জানি না সাইফুদ্দিনের ভাগ্যে কি আছে। তবে প্রত্যাশা থাকবে একজন পেস অলরাউন্ডার তৈরী করার জন্য সাইফুদ্দিন কিংবা অন্যকাউকে পর্যাপ্ত সময় দেবে এবং যে সাইডে ভালো করে সেটাতে জোর দিয়ে অভিজ্ঞ করে তুলতে হবে, ১ থেকে ৬ পজিশনে ব্যাট করতে দিতে হবে। না হয় পেস অলরাউন্ডারের অভাব পূরণ হবে না কোনদিন, পূর্বে অনেকেই সুযোগ পেলেও পর্যাপ্ত সুযোগ না পাওয়ার এবং বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে গড়ে না তোলার কারনে সবাই হারিয়ে গেছে।
আসন্ন বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে ইংল্যান্ডে, আইসিসির নিজস্ব ইভেন্টগুলো স্পোর্টিং উইকেটই হয়, ভারতের পান্ডেয়া, আফ্রিকার ক্রিস মরিস, শ্রীলংকার থিসারা পেরেরা, পাকিস্তানের হাসান আলী, ইংল্যান্ডের বেন স্টোকস, নিউজিল্যান্ডের কোরে এন্ডারসন, উইন্ডিজের জেসন হোল্ডার, ব্রাথওয়েট, অস্ট্রেলিয়ার মিশেল মার্শ, জিম্বাবুয়ের চিগামবুরারা স্বাভাবিক ভাবেই বিশ্বকাপ দলে থাকার সম্ভাবনা বেশি, সেখানে এখনো আমাদের কেউ তৈরী হয়নি, সাইফুদ্দিন কিংবা অন্য কাউকে পর্যাপ্ত সুযোগ দিয়ে গড়ে তোলার বিকল্প নেই, সময় দিতে হবে, সুযোগ দিতে হবে, যথার্থ ব্যবহার করতে হবে। না হয় আমাদের পেস অলরাউন্ডার নেই, কথাটিই বলে যেতে হবে আজীবন।

জুবায়ের আহমেদ
ক্রীড়া সম্পাদক-ক্রিকবল.কম
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মার্চ, ২০১৮ বিকাল ৪:১০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

০১টি ভাপাপিঠাময় ছবিব্লগ

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৩ শে জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ১০:১৫

ঐতিহ্যগতভাবে এটি একটি গ্রামীণ নাশতা হলেও বিংশ শতকের শেষভাগে প্রধানত শহরে আসা গ্রামীণ মানুষদের খাদ্য হিসাবে এটি শহরে বহুল প্রচলিত হয়েছে। রাস্তাঘাটে এমনকী রেস্তোরাঁতে আজকাল ভাপা পিঠা পাওয়া যায়। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পবিত্র বাইতুল্লাহ এবং মসজিদে নববী আধুনিকিকরণের পেছনের অজানা কিছু কথা -সংশোধিত পুন:প্রকাশ

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৩ শে জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ১১:০৪

বাইতুল্লাহিল হারাম, মক্কাতুল মুকাররমাহ, ছবি: অন্তর্জাল।

পবিত্র বাইতুল্লাহ এবং মসজিদে নববী আধুনিকিকরণের পেছনের অজানা কিছু কথা

প্রাককথন:

হারামাইন শরিফাইন অর্থাৎ, মক্কাতুল মুকাররমা এবং মদীনাতুল মুনাওওয়ারায় অবস্থিত পবিত্র দুই মসজিদ বাইতুল্লাহ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাতের গোলাপ

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ২৩ শে জানুয়ারি, ২০২২ দুপুর ১২:১৮

গোলাপকে ফুলের রাণী বলা হয়। গোলাপ পাঁপড়ির গড়ন ও বিন্যাসের নান্দনিকতা মানুষকে আকৃষ্ট করে। সুগন্ধী গোলাপের ঘ্রাণও মানুষের ভালোবাসার কারণ। ফুলের সৌন্দর্য ও সুবাসের জন্য গোলাপ বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত।



পৃথিবীতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

" নারী " - তুমি আসলে কি ? স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি ,বংশগতির ধারক-বাহক , পুজারীর দেবী , নাকি শুধু পুরুষের ভোগেরই সামগ্রী? (মানব জীবন - ২৩)।

লিখেছেন মোহামমদ কামরুজজামান, ২৩ শে জানুয়ারি, ২০২২ দুপুর ২:২৭


ছবি - unsplash.com

"সৃষ্টি থেকে শেষ অবধীর কেন্দ্রে রয়েছে নারী
হাজার রূপ একটি নারীর, যেন রহস্যের ভান্ডারী,
কখনো মা, বোন, নানী বা প্রিয়তমা স্ত্রী
তাদের জন্যই সুন্দর ধরনী, স্রষ্টার করিগরী"।

নারী স্রষ্টার... ...বাকিটুকু পড়ুন

=তোদের আর আমাদের কাল=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৩ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৫:৪৩



©কাজী ফাতেমা ছবি
#একাল_সেকাল
তোরা থাকিস ঘরের কোণে, সময় কাটাস গেইম খেলে
আমরা ছিলাম ঘরের বাইরে, ওড়ছি স্বাধীন ডানা মেলে,
রুমাল চুরি বউচি মারবেল, দাঁড়িয়াবান্ধা ডাংগুলি,
দাবা ক্যারাম আর গোল্লাছুট, খেললে পথে উড়তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×