somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসা এসেছিলো বিলম্বে

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ বিকাল ৫:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ফাগুনের কোন এক পর্ড়ন্ত বিকেলে তমার সাথে দেখা হয়েছিল আমার। তমার পড়নে ছিলো হলুদ শাড়ি, খোঁপায় গাদা ফুল। প্রথম দেখাতেই তমাকে ভালো লেগেছিল আমার। আমি একটু লাজুক প্রকৃতির ছিলাম বলে, তমাকে নিজের ভালো লাগার কথা বলতে পারছিলাম না। তমাও আমার দিকে তাকাতো, মুচকি হাসতো আমার ভাবভঙ্গি দেখে।

আমি সব সময় ভাবতাম, তমা যদি আমার ভালোবাসার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। এই ভীতির কারনে বলতে পারছিলাম না আমার মনের কথা। তমাকে আমি ভালোবাসি কিনা ফিল করতে চাইছিলাম। যখনই আমি তমার কথা ভাবি, তমার মুখছবি আমার চোখের সামনে ভেসে উঠে, তখনই আমি অনুভব করতাম, আমার মেনে তোলপাড় শুরু হয়ে যেতো। কি এক তীব্র আকাঙ্খা তমাকে কাছে পাওয়ার, তমাকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার। আমিতো এতোটাই এক্সাইটেড হয়ে গিয়েছিলাম যে, পারলে তমার বোনের কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়েই যাবো সরাসরি।

আগে নিজের পরিচয়টা দিয়ে নেই, আমি রাকিব। লেখাপড়া শেষ করে চাকুরী প্রত্যাশী। অবসর সময়ে বাবার ব্যবসায় সময় দিচ্ছি। তমা আমাদের পাশের বাড়ীর এক বড় ভাইয়ের শ্যালিকা। সে নিয়মিতই তার বোনের বাড়ীতে বেড়াতে আসে নাকি। কিন্তু আমি বাড়ীর বাহিরে থেকে লেখাপড়া করায় তাকে আগে দেখিনি। প্রথম যেদিন দেখলাম, সেদিনই বিস্তারিত জেনেছি।

আমি সুযোগ পেলেই পাশের বাড়ীতে যেতাম, তমাকে দেখার জন্য। ভাবির সাথে আগেই পরিচয় ছিলো ভালো, কথাবার্তা হতো। তাছাড়া ভাবীও যথেষ্ট শিক্ষিত। পড়ালেখা ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে কথা হতো ভাবীর সাথে। তমার দিকে আমার তাকানো তমাও খেয়াল করতো, মুচকি হাসতো। কিন্তু আমি সাহস করে তমাকে মনের কথা বলতে পারিনি।

হঠাৎ আমার চাকুরী হয়ে যাওয়ায় শহরে চলে আসি। চাকুরীর ব্যস্ততায় তমার কথা ভুলে যাই। দীর্ঘদিন পর বাড়ী এসে ভাবির কাছ থেকে জানতে পারি তমার বিয়ে হয়ে গেছে এক ব্যবসায়ীর সাথে। ততটা খারাপ না লাগলেও অন্যরকম লাগছিল তমার বিয়ের কথা শুনে।
অফিসে এসে কাজে মন বসাতে বেশ সময় লেগেছিল আমার। কিছুদিন যেতে না যেতেই বাবা ফোন করেছে, আমার জন্য মেয়ে দেখছে। আমি যেনো দ্রুত বাড়ীতে যাই। অফিস থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ীতে যাওয়ার পর দেখি তমা এসেছে তার বোনের বাড়ীতে। তমাকে প্রথম দেখার পর থেকে মনে যে জড়তা ছিলো তার সাথে কথা বলতে, এখন আর সেটা নেই। দুজনেই একে অপরের সাথে কুশলাদি বিনিময় করলাম।

হঠাৎ তমাই প্রসঙ্গটা তোললো, আচ্ছা আপনি আমাকে পছন্দ করতেন, কিন্তু বলেন নাই কেনো?
আমি ইত্যস্তর করতে থাকাবস্থায়, তমাই বলছে
জানেন, আমিও আপনাকে পছন্দ করেছিলাম, চাইছিলাম আপনার কাছ থেকে প্রস্তাবটা আসুক, কিন্তু আপনি কিছুই বলেননি। আর শেষে চাকুরী হয়ে যাওয়ায় শহরে চলে গেলেন। এদিকে আমারও হুট করে বিয়ে হয়ে গেলো।
আমি তমার কথা শুনে হাসছি, আর বলছি-
তুমি আমাকে পছন্দ করেছিলে, এটা বলোনি কেনো তাহলে?
মেয়েদের বুক ফাটে তো মুখ ফুটে না, আমি ছেলে হয়েও বলেননি, আর আমিতো মেয়েই।

নিজের ভীতি ও বোকামো মানসিকতার কথা বারবার মনে পড়ছে এখন আমার। সেদিক সাহস করে তমা “তোমাকে আমার অনেক ভালো লাগে, আমার চলার পথের সঙ্গী হবে” এটুকু বলতে পারিনি বলেই তো তমার পরিবর্তে আজ অন্য কাউকে গলায় ঝুলাতে হচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ বিকাল ৫:৪১
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নারীর ক্ষমতায়নের নামে বাঙালিকে স্রেফ টুপি পরানো হয়েছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৪৩


বাংলাদেশে চেয়ার একটি আধ্যাত্মিক বস্তু। শুধু বসার জন্য নয়, এটি পরিচয়ের প্রমাণ, অস্তিত্বের স্বীকৃতি, এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জীবনের চূড়ান্ত অর্জন। গাড়ি থাকুক না থাকুক, বেতন আসুক না আসুক,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইন, রাজনীতি ও বাস্তবতা: নিষিদ্ধ করলেই কি সমাধান?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৩২

আইন, রাজনীতি ও বাস্তবতা: নিষিদ্ধ করলেই কি সমাধান?


গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় একটি মৌলিক নীতি হলো- অভিযোগ থাকলে তার বিচার হবে আদালতে, প্রমাণের ভিত্তিতে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। কোনো রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমেরিকার বর্ণবাদী লরা লুমার এবং ভারতীয় মিডিয়া চক্রের বিপজ্জনক ঐক্য

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


লরা লুমার নামে আমেরিকায় একজন ঘৃণ্য বর্ণবাদী, কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আছেন। তিনি ট্রাম্পের অনুগত হিসেবে পরিচিত। তার মুখের ভাষা এত জঘন্য যে ট্রাম্পের অনেক ঘোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শূন্য বুক (পিতৃবিয়োগ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৪


চার
রোববার বেলা ১১টার মধ্যে জাহাঙ্গীর গেটের সামনে এসে পৌঁছাল গাড়ি। মৃণাল আগে থেকেই প্রস্তুত হয়ে বসেছিল। চালক উত্তরা এসে ফোন করেছিল। যাহোক, স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মা-বাবা আর মামার সঙ্গে বারডেমে চলল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়াশিংটন থেকে বেইজিং: বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫


মার্চ ২০২৬-এর ক্যালেন্ডার বলছে, বাংলাদেশের কূটনীতি নতুন দিকে মোড় নিয়েছে । একই সময়ে বাংলাদেশের তিনজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব আমেরিকার মাটিতে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নিউ ইয়র্কে ব্যস্ত নিজের ক্যাম্পেইনে। সেনাপ্রধান জেনারেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×