somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ –প্রতারণার বাজারে চালু আইটেম --সরল পথ

০৩ রা জুন, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধর্ম যার, উৎসবও তার

মুসলমানের ধর্ম ও আদর্শ হচ্ছে ইসলাম। এক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ও সেক্যুলার হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। আমাদের দেশের সেক্যুলারিস্টদের কোনো নীতি নেই। তারা যা বলেন তা করেন না, যা করেন তা বলেন না। সেক্যুলারিজমের মূল কথাই হলো ধর্মহীনতা বা কোনো ধরনের ধর্মবিশ্বাস না থাকা। কিন্তু আমাদের দেশে একদল সেক্যুলার আছেন যাদের কর্মকাণ্ডের দিকে দৃষ্টিপাত করলে বিভ্রান্ত হতে হবে। সেক্যুলারিজমের অর্থ ‘ধর্মহীনতা’ হলেও এরা প্রচার করে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’।



এর মাধ্যমে তারা এদেশের মানুষকে ধোঁকা দিয়ে চলছে। পুরোদস্তুর নাস্তিক হলেও এদের কেউ কেউ মাথায় টুপি পরে ব্যক্তিবিশেষের জানাজায় উপস্থিত হন। বিভিন্ন দিবসে দোয়া-মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল করেন। সংবিধান থেকে ধর্মের কালো ছায়াও মুছে ফেলার ঘোষণা দেন, আবার বিভিন্ন ধর্মীয় উ ৎসবে গিয়ে ধর্মীয় লোকদের শুভেচ্ছা জানান! বাংলাদেশের সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর আস্থার ধারা বাদ দিয়ে আবার ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে রেখে দেয়া হয়েছে। সত্যিই আজব!





ইদানীং আরেকটি প্রতারণামূলক বাক্য বাজারে চালু হয়েছে—‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’। এই বাক্যটিও সেক্যুলারিস্টদের মনগড়া কথা। একটু গভীরে চিন্তা করলে বোঝা যাবে কথাটির মধ্যে গলদ কোথায়। সত্যিই কি ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’? আস্তিকমাত্রই একথার অসারতা টের পাবেন। কেননা প্রত্যেকটি ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে জড়িত আছে ধর্মবিশ্বাস।



ধর্মবিশ্বাসের সূত্র ধরেই একেকটা ধর্মীয় উৎসব পালিত হয়।

যেমন ধরুন, ইসলামের বড় উৎসব হচ্ছে, দুই ঈদ তথা ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা। এই দুই উৎসবের মধ্যে রয়েছে মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় বিশ্বাসের নিবিড় সম্পর্ক। রমজানের পুরো একমাস রোজা রাখার পর মুসলিম নর-নারী ঈদুল ফিতর পালন করেন। ‘ফিতর’ শব্দের অর্থ হচ্ছে ভাঙা। পুরো একমাস দিনের বেলা আহার-পানীয় এবং স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থেকে ঈদুল ফিতরের দিন থেকে আবার তা করা হয় বিধায় একে ঈদুল ফিতর বলা হয়। এই উৎসব পালন করার নৈতিক অধিকার কেবল রোজাদার মুসলিমেরই রয়েছে। ইবরাহিম (আ.)-এর মহান কোরবানির ইতিহাস জড়িত আছে ঈদুল আজহা পালনের মধ্যে। ইসলামের এই উৎসব শুধু উৎসব ই নয়, বরং তা ইবাদত যা পালন করা আবশ্যকও বটে। যার ওপর কোরবানি করা ফরজ তাকে অবশ্যই কোরবানি করতে হবে। আবার এই উৎসব যেনতেনভাবে উদযাপন করার কোনো সুযোগ নেই। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় রোজা রাখা হারাম। ঈদের দিন ঈদের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করতে হয় মুসলিমদের। পশু কোরবানি ঈদুল আজহার নামাজের আগে করলে হবে না। আবার পশুকে আল্লাহর নাম ছাড়া অন্য কারও নামে জবাই করলেও হবে না। এ থেকে বোঝা যায় মুসলমানের উৎসব পালনের মধ্যেও ধর্ম কতটা নিয়ামকের ভূমিকা পালন করছে।



খ্রিস্টানদের ‘বড়দিন’ উৎসবের মধ্যেও আছে ধর্মবিশ্বাস।

যিশুখ্রিস্টের জন্মদিনকে তারা ক্রিসমাস ডে বা বড়দিন হিসেবে পালন করে। ঈসা (আ.)-কে তারা যিশু মনে করে। যিশুকে নিয়ে তাদেরও আছে ধর্মবিশ্বাস। খ্রিস্টানরা মনে করে যিশু হচ্ছে আল্লাহরই একটি অংশ; যিনি মানবরূপে আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব করছেন। তারা মনে করেন, আদম ও হাওয়া (আ.)-এর পাপের শাস্তি দেয়া হয়েছে তারই সন্তান ঈসাকে শূলে চড়িয়ে হত্যা করার মাধ্যমে। তারা ‘ত্রিতত্ত্ববাদ’-এ বিশ্বাস করে। যেখানে আল্লাহ হলেন, পিতা আল্লাহ, ঈসা হলেন পুত্র আল্লাহ এবং মরিয়ম হলেন পবিত্র আত্মা। খ্রিস্টানদের এই ধর্মবিশ্বাস মুসলিমদের ধর্মবিশ্বাসের সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক।



খ্রিস্টানদের এই বিশ্বাস কোনো মুসলিম করতে গেলে তিনি আল্লাহর সঙ্গে শিরক করবেন এবং নিশ্চিত ঈমানহারা হবেন।



কেননা ইসলামে আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করার কোনো সুযোগ নেই। সব নবী-রাসুলের ওপর ঈমান আনা মুসলমানের ওপর ফরজ। ঈসা আলাইহিস সালাম এর বিষয়ে কোরআন-হাদিসে যে তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে তার বাইরে অন্য কোনো বিশ্বাস কোনো মুসলমান করার সুযোগ একেবারেই নেই। তাই কোনো মুসলিম খ্রিস্টানদের বড়দিনের বিশ্বাসে একমত পোষণ করে উ ৎসবে যোগদান করতে পারে না।



হিন্দুদের শারদীয় দুর্গাপূজা, কালীপূজাসহ বিভিন্ন পূজা উৎসবের মধ্যেও আছে গভীর ধর্মবিশ্বাসের অস্তিত্ব।
ধর্মবিশ্বাসের কারণেই তারা বিভিন্ন পূজা উৎসব পালন করছেন। ধর্মে না থাকলে তারা লাখ লাখ টাকা খরচ করে ধর্মীয় আচারাদি পালন করতেন না।

বৌদ্ধদের সবচেয়ে বড় উৎসব হচ্ছে বৌদ্ধ পূর্ণিমা। এ দিনটিকেও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা পালন করেন ধর্মবিশ্বাস থেকেই।
ধর্মবিশ্বাসের এই তারতম্যের কারণেই যার যার ধর্ম, উৎসব ও তার তার।
১৩টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×