somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুক্তি যুদ্ধের চেতনায় শুরু আর পাশ্চাত্যের চেতনায় শেষ

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৪:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লাক্ষ শহীদ আর মা বোনদের সম্ভ্রমের বিনিময়ে পৃথিবীর মানচিত্রে লাল সবুজের পতাকা নিয়ে জন্ম নেয় একটি দেশ যার নাম বাংলাদেশ। বহু ত্যাগের ফসল এই স্বাধীনতা যার কাঁধে ভর করে অনেক চড়ায় উতরায় আজ কেটে গেছে ৪৩ বছর। অনেক পাওয়া আর না পাওয়া রয়েছে এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে। এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে দেশ কে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয়ে অনেকেই বদ্ধ পরিকর।

বিজয়ের মাস তথা ডিসেম্বর মাস শুরুর প্রথম প্রহরেই বিজয়ের তোপধ্বনি শোনা যায় যেটি আমাদের জানান দেয় স্বাধীনতা ও তার অর্জনকে, জানান দেয় বাংলাদেশি জাতির অস্তিত্বকে, জানান দেয় এক বীরের জাতির জন্ম লগ্নকে আর তার ইতিহাসকে।

আজ ১৬ কোটি মানুষ এই দেশের জন্মদিন পালন করে ১৬ই ডিসেম্বরের প্রথম প্রহরে তোপধ্বনি, আনন্দ উল্লাস আর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার মাধ্যমে। মুক্তি যুদ্ধের চেতনায় উজ্জিবিত হয়ে গোটা জাতি এই ডিসেম্বর মাসটি পালন করে আর নতুন কিছু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

কিন্তু ১৬ই ডিসেম্বর শেষ হয়ে ১৭ই ডিসেম্বর আসতে সময় নেয় ঘরির কাটায় মাত্র ১টি সেকেন্ড যার সাথে সাথে বদলে যায় মুক্তি যুদ্ধের চেতনা, ম্লান হয়ে যায় শহীদের রক্তের অর্জিত স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মুক্তিকামি উজ্জিবিত মানুষ শুরু করে দেয় নাভির নিচের চেতনার জালাকে ঠান্ডা করতে। শুরু হয় উলংগপনা আর বেহায়াপনার নতুন প্রতিক্ষার... THIRTY FIRST NIGHT এর।

ফেসবুক, গুগুল, টুইটার এমন কোন জায়গা বাকি রাখেনা এই বাংলাদেশিরা নিজেদের উলংপনার কথা বলতে আর অন্যের সাথে নিজের দেহ শেয়ার করতে। এই থার্টিপাস্ট-নাইটকে সামনে রেখে ঢাকা চট্টগ্রাম এর হোটেল মোটেল থেকে শুরু করে দেশের সব পর্যটন এলাকার হোটেল মোটেলে এখন চলছে পুর্ণ প্রস্তুতি। কক্সবাজার টেকনাফ এর মেরিন ড্রাইভ এর মাঝেই আছে এমন কিছু হোটেল যেখানে আছে টাকার বিনিময়ে আনন্দ পুর্তির সব রকম ব্যবস্থা। এসব নিয়ে বেশি কিছু বলতে চাইনা, তবে যারা জানতে চান তারা গুগল এ গিয়ে 31st night in Bangladesh লিখে চার্চ দিন, দেখু কি আসে।

বিজয়ের মাসে বিজয় উল্লাস হবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু তাই বলে পাশ্চাত্যের নগ্নতা আর তাদের সংস্কৃতিকে আলিংগন করে নয়, নিজেদের সংস্কৃতিকে পায়ে ঠেলে নয়। ১৯৭১ সালে পাক বাহিনী ঘরে ঢুকে মা বোনদের ধর্ষণ করেছিল, কিন্তু আজকের দিনে সেই মা বোনরাই 31st night উজ্জাপনের নামে নিজেদেরকেই বিলিয়ে দেয় মজা পাওয়ায়র জন্যে, বর্তমান সমাজের তরুণ তরুণীরা 31st night উজ্জাপন করতে গিয়ে যা করে তা বাংলাদেশের সংস্কৃতির সম্পুর্ণ বিপরীত।

আমি নিশ্চিত বলতে পারি 31st December 2014 রাতে যত মেয়েরা নিজেদের কুমারিত্ব স্বেচ্ছায় হারাবে তা ১৯৭১ সালের নয় মাসে নারীদের অনিচ্ছায়ও হারায়নি। আমার এই কথার বিরোধীতা হয়তো অনেকেই করতে চাইবেন, তাদের জন্যেই বলছি ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ৮ কোটিরও বেশি আছে নারীদের সংখ্যা আর এই ৮ কোটি নারীর মাত্র ৫% ও যদি ধরা হয় তবে তার সংখ্যা দাঁড়ায় ৪০ লক্ষ নারী।
আজ আমরা কথায় কথায় চেতনার বুলি উড়াই, কিছু হলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে নিয়ে আসি। একদল মানুষ আছে যারা এই চেতনাকে বর্তমানে ব্যবসা হিসেবে নিয়েছে। এসব মানুষের কারনে ১৯৭১ সালে রক্ত দিয়ে স্বাধীন করা শহীদের ত্যাগ আজ ভুলন্ঠিত, অপমানিত হচ্ছে। প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা আর তাদের সম্মান আজ কোথায়? তাদের স্বপ্নের বাংলা আজ কোথায়? স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশ কোথায়? বাংলা সংস্কৃতির কোন অস্তিত্যই এখন খুজে পাওয়া যায় না।

আমি আর বেশি কিছু বলতে চাইনা। আমরা মধ্যবিত্তরা খুব একটা আনন্দ বা হুজুগে মাতি না। যা করে ঐ উচ্চবিত্ত চেতনাবাদী সমাজ। তারাই সারা বছর জুতা পায়ে স্মৃতিসৌধে যায়,একদিন জুতা ছাড়া গিয়ে দেশপ্রেম দেখায়, আবার তারাই 31st night এ Call girl খুঁজে। সত্যি আমরা ভাগ্যবান এমন দেশে জন্মে। এ দেশ আরো অনেক এগুবে। তবে আমাদের রক্ত যেভাবে কালো হচ্ছে তা আর ভাল হবে না। কারন ১০ টা আম ভাল হলে তাকে পচাতে পারে একটা নষ্ট আম। কিন্তু ঐ ১০ টা আম সেই পচা আমকে ভাল করতে পারে না।
আর দুদিন...........

সবাইকে অগ্রিম নববর্ষের শুভেচ্ছা।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:২৪

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

হয়তো আজ টেলিফোনও অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মতো স্মার্ট হতো!



একসময় মানুষের দূর-দূরান্তে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল টেলিফোন। মোবাইল ফোনের মতোই টেলিফোন দিয়ে কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×