খারাপ থাকতে চাই না, সবসময় চাই আনন্দের ভেতর বসবাস করতে। ছোট ছোট আনন্দ নিঃস্বের মতো কুড়িয়ে নিতে চাই জীবন থেকে। ভোরবেলা অফিসের তাড়ায় টলতে টলতে ঘুম থেকে উঠি, মনে হয় আর পাঁচটা মিনিট ঘুমের জন্যে না ছুঁয়ে ফিরিয়ে দিতে পারি রাজকন্যার ঠোঁট, আবার বারান্দায় যখন কচি রোদে আমার বোকা চড়ুইগুলোকে হল্লা করতে দেখি, কেমন অলীক আনন্দ এসে বুকে হাত রাখে। সহকর্মীদের খ্যাঁচখ্যাঁচ শুনে কান ঝালাপালা, কিন্তু মহাসড়কের গাছগুলো যখন শরীর নেড়ে আমার মুখে ছায়া হয়ে আসে, আকাশে মেঘের পানসি শরীর দুলিয়ে বলে দ্যাখো আমি কেমন সাদা, আমি শিশু হয়ে হাসি। আমার সন্ধ্যে কাটে আমারই মতো ক্লান্ত বন্ধুদের সাথে হুল্লোড়ে, আমরা কখনো রাস্তায় কখনো খুচরোখাবারের দোকানে কখনো পানশালায় একজন আরেকজন গ্রাস করি এই প্রতিজ্ঞায়, আমরা ভালো থাকবো।
কিন্তু ভালো লাগার এই ফানুস আর ক'দিন ওড়াবো আমি? আমি দেখি আমি তাদের মিছিলে একা বসে, যাদের ভালো লাগে না। আমি হাত নাড়ি, কিন্তু এই মেঘ তো সে ঝাপটায় কাটে না। আমার বারান্দায় রোদ মিঠে থেকে কড়া হয়, চড়ুইগুলোও খেলা সেরে কোথায় লুকোয়, মদের ঘোর কাটে এক সময়, কিন্তু ভালো লাগার দিন পেছন থেকে এসে আলতো করে জড়িয়ে পিঠে মুখ ঘষে না।
এক একটা দিন শুরু করি সশব্দ প্রতিজ্ঞায়, ভালো থাকবো, অন্তত আজকের দিনটা। ঘুমোনোর আগে ক্ষমা চাই নিজের কাছে, প্রবোধ দিই, প্রতিজ্ঞা তো ভাঙার জন্যেই।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



