somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাসুদের কান্ড!

০৯ ই নভেম্বর, ২০০৬ বিকাল ৩:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


রাইসুর মাথায় লম্বা চুল। মুখে মোচদাড়ি। পরনে শার্ট। আর প্যান্ট। প্যান্টে জিপার নাই। বোতাম আছে। বোতাম লাগানো কি না বলা মুশকিল।

রাসেল লম্বায় রাইসুর চেয়ে এক হাত উঁচুতে, কিন্তু চুলদাড়িতে গন্ধ কম। সে-ও প্যান্ট শার্ট পরে আসছে।

অমি রহমান পিয়াল শার্ট পরসে একটা চকরাবকরা। ঐ শার্টটা নাকি রাইসুর। একদিন বাজি ধরে রাইসু খোয়াইসে। সত্যি কি না বলা মুশকিল। অমিও প্যান্ট পরসে।

মাহবুব মোর্শেদ এই খেলায় দুধভাত। সে শার্ট পরলেই কি আর না পরলেই কি। প্যান্ট পরলেই কি আর না পরলেই কি। তবুও গল্পে যেহেতু সে আছে তাই বলা, সে-ও শার্টপ্যান্ট পরসে।

রাইসু বলে, সবাই আমার দেখাদেখি শার্টপ্যান্ট পরে।

রাসেল প্রতিবাদ করে। বলে আমি ছোটকাল থেকে শার্ট প্যান্ট পরি। এইসব আবঝাব ঝাড়ি যায়যায়দিনে গিয়া লইবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মামদোবাজি?

রাইসু হাসে, ধোঁয়া বের হয়। বলে, শাহবাগের আজিজে বইসা ব্রাত্য রাইসুর সঙ্গে গরম ন্যান? একদম কবিতা মুখস্ত করায় দিমু নামতার মত।

অমি রহমান পিয়াল মজা নেয়, ঠা ঠা করে হাসে।

মাহবুব মোর্শেদ বলে, লন সিঙ্গারা খাই গরমগরম।

রাইসু বলে, হ, তা খাওন যায়। জয় গোস্বামীও সিঙ্গারা খাইতো খুব। কইরে আবুইল্যা, সিঙ্গারা ল তিনটা।

চারদিকে একটা নিস্তব্ধতা নামে। মানুষ চারজন। সিঙ্গারা তিনটা। কে সেই হতভাগা?

অমি রহমান পিয়াল হয়তো পরিবেশটা একটু চাঙ্গা করার জন্য বলে, হ, আমি সিঙ্গারা খাই না। জয় গোস্বামীরে আমার অসহ্য লাগে।

রাসেল বলে, ব্যাপার না। আজকে খাইয়া দ্যাখেন। আমি পয়সা দিমু। আমি একটা খামু, আপনে একটা খাইবেন, রাইসু খাইবো একটা, আর মাহবুব মোর্শেদ একটা। মোট তিনটা।

আবারও একটা নিস্তব্ধতা নামে। কী একটা হিসাব যেন আধুরা রয়ে যায় আকাশে বাতাসে।

রাইসুও পকেট থেকে স্কেচ করার বলপয়েন্ট পেন বের করে নিজের লেখা দ্্বিতীয় বই "আজিজে রাসেলের লগে সিঙ্গারা খাইতাছি"র উপর দাগ কাটে।

আমার স্ক্যানার নাই, তাই স্ক্যান করে সেই হিসাব দেখাতে পারছি না। লিখেই দেখাই।

1
+1
+1
+1
-----
3

ব্যাপারটা এবার সবার কাছে স্পষ্ট হয়। মাহবুব মোর্শেদ স্বস্তির চাপা নিঃশ্বাস ফেলে, যাক সিঙ্গারা ভাগে পাওয়া গেলো। রাইসুও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে, যাক, অঙ্ক মিলানো গেছে। কত দিন ধইরা যে অঙ্ক মিলে না। অমি রহমান পিয়ালও, দেখাদেখি, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে, যাক, চিপককে জানে না গতকাইলকা আরেক মাইয়ার লগে ডেট খেলাইতেছিলাম। রাসেল স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে, যাক, রাইসুরে যেমন ব্যর্থ রাইছু সে ভাবছিলো সে আসলেও ঐ কিসিমের।

আবুইল্যা কিন্তু হিসাব দেখে ভুরু কুঁচকায়। সে আজিজে সিঙ্গারা বেচে। কত গাঞ্জুইট্যা কতভাবে তাকে সিল দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টায় রত, আর তাকে এই পাটীগণিত 101 কোর্সে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা? সে কারিগরকে ইঙ্গিত করে তিনটা সিঙ্গারার আলু দিয়ে চারটা বানাতে। তারপর একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।

রাইসু বলে, রাসেল আপনি আমারে গালি দ্যান ক্যান।

রাসেল বলে, আপনে ফাউল কবিতা স্ক্যান করেন ক্যান।

অমি বলে, না জানে কোয়ি ক্যায়সি হ্যায় ইয়ে জিন্দেগানি ...।

মাহবুব মোর্শেদ বলে, আবুইল্যা জলদি, খিদা লাগছে।

রাইসু বলে, দোরা কাউয়া পাতি কাকের গোয়া মারে, খেয়াল রাইখেন কিন্তু। আর উকিলের ঘরেও কুকিল ঢুকে।

রাসেল বলে, হ, স্ক্যানার একটা ভাগে পাইছিলেন, এখন কত কিছুই কইবেন।

অমি বলে, ঐ জোকটা শুনছে কেউ ...।

মাহবুব মোর্শেদ বলে, আবুইল্যা চা খাওয়াবি না?

রাইসু বলে, হ চা খাওন যায়। জয় গোস্বামী শুনছি মারাত্মক চা খোর আছিলো। ঐ আবুইল্যা 5 কাপ চা।

আবারও একটা নিস্তব্ধতা নেমে আসে। আবারও আজিজের আকাশে কালো মেঘ। হিসাব আধুরা রয়ে যায়।

অমি বলে, হ আমি ইদানীং এক লগে 2 কাপ চা খাই।

মাহবুব মোর্শেদ বলে, আমি চা খাওয়া ছাইড়া দিসি গায়ের রং নাকি কালা হইয়া যায় ...।

রাসেল বলে, আমি চা খাই না।

রাইসু বলে, তাহলে বাকি 1 কাপ আমিই খামু।

আবারও একটা নিস্তব্ধতা। হিসাব মিলতে চায় না। রাইসু এবার স্কেচ করার পেন্সিল বের করে "আজিজে রাসেলের লগে সিঙ্গারা খাইতাছি"র উপর দাগ কাটে।

আমার স্ক্যানার নাই, তাই স্ক্যান করে সেই হিসাব দেখাতে পারছি না। লিখেই দেখাই।

2
+1
-----
5

আবারও কয়েকটা স্বস্তির শ্বাস পড়ে আকাশে বাতাসে।

রাইসু শুধায়, আমার কবিতা পইড়া কত লোকে পাগল হইলো। কেউ কইলো আমি নবীন কবি, কেউ কইলো আমি কবীন নবি। আমারে কত মাইয়া কত পুরুষ বিয়া করতে চাইলো, পেয়ারা গাছের কত পাতা ঝরলো, আর আপনে মিয়া আমার কবিতা তুইলা ফাউল কথা কন।

রাসেল বলে, ঠা ঠা ঠা, স্ক্যানার একটা ভাগে পাইছিলেন নাইলে তো খবরই আছিলো ...।

অমি বলে, হাম তুম এক কামরে মে বন্দ হো ...।

মাহবুব মোর্শেদ বলে, আবুইল্যা খিদা লাগছে ...।

কিন্তু হঠাৎ কী যেন একটা সমস্যা হয়। রাইসু শান্তিনিকেতনী ঝোলা থেকে স্ক্যানার আর পকেট থেকে স্কেচ পেন্সিল বের করে ঝাঁপিয়ে পড়ে রাসেলের ওপর! আর রাসেল বের করে এক কপি তাহফীমুল কুরআন বাই মওদুদী!

তারপর শুরু হয়ে যায় ধুন্ধুমার মারামারি!

অমি রহমান পিয়াল আর মাহবুব মোর্শেদ সিঙ্গারা খায় আর দ্যাখে। ধস্তাধস্তি চলতে থাকে। মাঝে মাঝে নানারকম অসম্মানসূচক উক্তি ভেসে আসে দুজনের কাছ থেকেই।

অনেকক্ষণ পর যখন সেই ধস্তাধস্তি থামে, তখন কিন্তু রাইসু বা রাসেল, স্ক্যানার-পেন্সিল বা মওদুদির বই, কোনটারই নিশানা দেখা যায় না।

শুধু দেখা যায়, আজিজের মেঝেতে দুর্গন্ধযুক্ত কিছু চুল আর আটটা ডট ( ........) পড়ে আছে!

অমি রহমান পিয়াল মাহবুব মোর্শেদকে বিল দিতে বলে মোটরবাইকের দিকে এগিয়ে যায়।

মাহবুব মোর্শেদ বিড়বিড় করে কী যেন বলে, শোনা যায় না।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৪


চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো  মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ  বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুদ্ধে কেউ জয়ী হয়না, যুদ্ধ বন্ধ হলে মানবতার জয় হয়।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৩

যুদ্ধে কে জয়ী হয়েছে?

আমার উত্তর খুব সহজ- কেউ না।
যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী বলে কেউ থাকে না। যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন শুধু সৈনিক নয়; মায়ের বুক খালি হয়, শিশুর ভবিষ্যৎ ভেঙে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

লিখেছেন আমি তুমি আমরা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।

দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।

ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কটা দুলাল

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



বাল্য বন্ধু শফির ফোন পাইলেই টেনশনে থাকি। কোন একটা দুঃসংবাদ নিশ্চিত। আর সেটা যদি হয় সকাল বেলা তবে তো কথাই নেই। যদিও আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই মোটেও তবুও... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×