রাগিব ভাইয়ের পোস্টের ওপর মন্তব্য ত্যাগ করেছিলেন জনৈক এহহামিদা। তাঁর নিক-টি অপরূপ (অপ এখানে কদর্থে ব্যবহৃত নয়), কিন্তু পোস্টের সারমর্ম বুঝতে আমি পারঙ্গম নই। সম্ভবত আমি চলমান শিক্ষা ব্যবস্থার পাবলিক অঙ্গনের ছাত্র বলেই। "রাগিবদের" মধ্যে বোধহয় আমিও পড়ি (তবে একটু পেছনের সারির)।
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীশিক্ষকদের প্রতি আমি কোন বিরাগ পোষণ করি না, কথাটা এমন বড় বড় করে লিখে না দিলে আমার পোস্টের অপব্যাখ্যা করার একটা সুযোগ দুষ্টলোকের হাতে চলে যায়। তাই লিখলাম। এবার কথা বলি।
কেন আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই? এহহামিদার পোস্ট পড়ে মনে হলো, হলে ভালো ডাল খাওয়া আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গমনের পেছনে অন্যতম বড় কারণ। এ কথা সত্যি যে হলে থেকে খারাপ ডাল খেলে জটিল পৈটিক গোলযোগ হবার সম্ভাবনা প্রবল, কিন্তু ডালই বিশ্ববিদ্যালয় জীবন বা হলজীবনের সব কিছু নয়। এ কথাটি হয়তো অনেক "পাবলিক"ই স্বীকার করবেন।
দ্রষ্টব্য: এখানে "পাবলিক" বলতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের বোঝানো হয়েছে।
ডেস্কে একাধিক কম্পিউটার নিয়ে বসে থাকা জরদ্গব, প্রাচীনপন্থী, রেসিস্ট ও লম্পট কিছু শিক্ষক আমাদের দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে হয়তো রয়েছে, কে জানে তাদের সংখ্যা কেমন। তবে পাশাপাশি গবেষণায় অনুরাগী, শিক্ষাদানে উৎসাহী এবং শিক্ষক হিসেবে কর্তব্যনিষ্ঠ শিক্ষকের সংখ্যাও কম নয়। তাঁরা আছেন বলেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলি টিকে আছে।
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি লেখাপড়াও করিনি, শিক্ষকতাও করিনি, সেগুলির সম্পর্কে আমার ধারণা জন্মেছে সেখানে যে ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করে তাদের সাথে মিশে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢিমেতালের বিপরীতে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে লেখাপড়ার গতি অনেক দ্রুত। এ-ও ঠিক যে তারা অনলাইনে অ্যাসাইনমেন্ট পাচ্ছে, প্রজেক্ট করছে কয়েকটি কোর্সে, কে জানে হয়তো ভালো ডালও খেতে পাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে।
তবে কনট্রাস্ট দেখতে পাওয়া যাবে পাঠ্যসূচীতে। কী পড়ানো হচ্ছে, তার কতটুকু পড়ানো হচ্ছে? কী পড়লাম, তারচেয়ে জরুরি হচ্ছে পড়ে কী শিখলাম? বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবার পর আমি মানুষ হিসেবে কেমন হলাম, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। রাগিব ভাইয়ের কথার প্রতিধ্বনি করে বলবো, অল্প কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদানের পদ্ধতি আর মান গ্রহণযোগ্য, আর রাতারাতি গজিয়ে ওঠা বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে যা চলছে তা এক ধরনের ঠগবাজি।
এমন চলতে থাকুক তা আমরা চাই না। (দ্রষ্টব্য, এখানে আমরা মানে আমরা সবাই)। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে অনুমোদন দেওয়ার আগে আরো কঠোরভাবে স্ক্রুটিনি করা হোক। যে বিপুল অঙ্কের টাকা খরচ করে ছাত্রছাত্রীরা সেখানে পড়তে যান, তা যেন কাজে লাগে, অপচিত না হয়। ব্যাঙের ছাতার নিচে বসে নিরাপদ বোধ করার রোগ থেকে যেন তাঁরা মুক্তি পান।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


