somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি নাটুকে গল্পাংশ

১৮ ই এপ্রিল, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


... মুনা ঘুরে দাঁড়ায় ঝটকা মেরে। তারপর হুহু করে কেঁদে ওঠে। "কী করে পারো বাবা, তোমরা কী করে পারো?" কান্নার দমকে তার পিঠ কেঁপে কেঁপে ওঠে, খসরু সাহেব থতমত খেয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন চেয়ার ছেড়ে।

"কিন্তু কেন মা?" অসহিষ্ণু গলায় শেষে বলেন তিনি। "ছেলেটাকে তুই দেখেছিস তো! সেদিন তো আবার চাইনিজ খেলি গান্ডেপিন্ডে, গল্পসল্প করলি, ফোনেও কয়েকদিন গুজগুজ করলি, পছন্দই তো হয়েছিলো বলেছিলি আমাদের, আজ এই বায়না কেন? ওরা আংটিটাংটি গড়িয়ে এনেছে, পরশু তোকে পরাতে আসবে ... সলটু কী এমন খারাপ কাজ করলো?"

মুনার কান্নার দমক একটু কমেছে, সে চোখের পানি মোছে ওড়নায়।

"ও .. ও তোর সাথে কোন অভদ্রতা করেনি তো? অশ্লীল জোকটোক বলেছে নাকি? দ্যাখ এই বয়সের ছেলেপিলে এরকম একটু করেই ... রসিকতাকে সহজভাবে নিতে শেখ ...।" খসরু সাহেব বোঝানোর চেষ্টা করেন।

"না বাবা!" মুনা চোখের পানি মোছে। "সলটু খুবই রসিক ছেলে, আর ডার্টি জোক আমার ভালোই লাগে, স্বাধীন মিত্রের বড়মণিদের কৌতুক তো আমিই ওকে গিফট করেছিলাম!"

"তাহলে?" খসরু সাহেব শঙ্কিত হয়ে বলেন। "কোন কুপ্রস্তাব দিয়েছে? শুয়োরের বাচ্চা ... অ্যাতোবড়ো সাহস ...!"

মুনা ফুঁসে ওঠে, "বাবা, কী যে বলো তুমি!"

খসরু সাহেব মাথা চুলকান। "তাহলে? কী সমস্যা পেলি সলটুর মধ্যে?"

মুনা কিছুক্ষণ ভাবে দ্্বিধাভরে, তারপর বাবার কানে কানে বলে কথাটা। খসরু সাহেবের মুখ পলকে ফ্যাকাসে হয়ে যায়। তিনি অস্ফূটে বলেন, "আশ্চর্য, আগে ... আগে এতবড় জিনিসটা আমরা খেয়ালই করিনি!"

মুনা ফুঁপিয়ে ওঠে।



খসরু সাহেব সলটুর মুখোমুকি বসেন। সলটু হাসে। সলজ্জ ভঙ্গিতে বলে, "আমাকে হঠাৎ এভাবে ডাকলেন?"

খসরু সাহেব বলেন ভাঙা গলায়, "বাবা, একটা অনুরোধ ছিলো।"

সলটু বলে, "জি্ব, বলুন, আমি অবশ্যই রাখার চেষ্টা করবো।"

খসরু সাহেব বলেন, "বাবা, তুমি বিদেশ থেকে পড়াশোনা করে এসেছো। তোমার বাবা বড় সরকারী কর্তা ছিলেন, প্রচুর ঘুষ খেয়ে আলিশান বাড়ি গাড়ি করেছেন, তোমার চেহারা সুরত ভালো, আদবকায়দা খারাপ না ... সবদিক দিয়ে তুমি আমার মুনা মায়ের জন্য যোগ্য ... কিন্তু বাবা, তোমার নামটা তোমাকে পালটে ফেলতে হবে।"

সলটুর ফরসা চেহারা লাল হয়ে যায়। "নাম পালটাতে হবে? কেন? সলটু নামটা খারাপ নাকি?"

খসরু সাহেব মলিন হেসে বলেন, "সলটু তো অনেক ভালো নাম বাবা, আমি বলছি তোমার আসল নামের কথা। ওটা এফিডেভিট করে পালটে ফেলো, নাহলে মুনা তোমাকে বিয়ে করবে না জানিয়েছে।"

সলটু সটান উঠে দাঁড়ায়। "এ আপনি কী বলছেন?"

খসরু সাহেব বলেন, "বাবা, তোমাকে জামাই হিসাবে আমার খুবই পছন্দ। শুধু ঐ নামটা ... ওটা পালটে ফেলো বাবা ... আমি বলি কি, নামটা পালটে আশফাক করে ফ্যালো না?"

সলটু আর্তনাদ করে, "আশ-ফাক?"

খসরু সাহেব বিব্রত মুখে বলেন, "তাহলে .. তাহলে ইকবাল?"

সলটু ততোধিক জোরে চেঁচায়, "ইক-বাল?"

খসরু সাহেব বলেন, "তাহলে বাংলা নাম রাখো ... নামটা সুধীর করে ফেলো?"

সলটু বলে, "সুধীর? সবাই আমাকে সুধীর ভাই ডাকুক, তা-ই চান আপনি? এ ক্যামন আব্দার?"

খসরু সাহেব এবার সোজা হয়ে দাঁড়ান, তারপর গম্ভীর গলায় বলেন, "বাবা সলটু, আশফাক ইকবাল সুধীর মেনে নিতে আমি রাজি আছি, কিন্তু ভালো নাম আকবর এমন কোন ছেলের কাছে আমি মেয়ের বিয়ে দেবো না, এ আমার শেষ কথা!"

রেস্তোরাঁর ভেতরে গমগম করে প্রতিধ্বনি ওঠে .... শেষ কথা ... কথা ... কথা ...!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ

লিখেছেন সামিউল ইসলাম বাবু, ০৬ ই মে, ২০২৬ ভোর ৫:৩৫

আমার ভালোলাগা কিছু ছবি নিচে শেয়ার করা হলো। একটা আায়াত জানলেও তা অপরের কাছে পৌঁছে দাও(আল-হাদিস

পৃথিবীতে কেও আপন নয়। একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা ব্যতিত। তাই ভালো মন্দ সকল বিষয়েই কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার বেঁচে আছে?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:০২





আপনার মা/বাবা বেঁচে থাকলে আপনি এখনো সৌভাগ্যবান -এরকম ভাবনা হয়তো ৯৮ ভাগ মানুষ ভাবে। মা/বাবা নিয়ে মানুষের ইমোশন, সংগ্রাম নিয়ে সবাই কিছু কিছু লিখতে পারবে, বা মুখে বলতে পারবে। গোর্কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×