somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আংশিক প্রেমেন্দ্র মিত্র

১৯ শে এপ্রিল, ২০০৬ বিকাল ৪:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রেমেন্দ্র মিত্রকে আমি আবিষ্কার করি, কিংবা তিনিই আমাকে আবিষ্কার করেন, যখন আমি ক্লাস সেভেনে পড়ি, সিলেটের কেন্দ্রীয় মুসলিম লাইব্রেরিতে (নামটা এমনই ছিলো কি না এখন মনে পড়ছে না), লাইব্রেরি ভর্তি বিষন্ন করে দেয়া সব পুরনো মাজাভাঙা ধূলোয় ভরা বই, লোকজন ওখানে কাগজ পড়তে আসে, লাইব্রেরিতে একবার ঢুকে পেছন ফিরে তাকালেই মন খারাপ হয়ে যেতো, পুরনো গেট আর তার ওপর মুখকালো করে আকাশ, শন শন বাতাসে দূরে কিছু গাছ নড়ছে, ইনক্যানডেসেন্ট ল্যাম্প জ্বলে উঠেছে ঠুস করে এই ভর বিকেলেই, আর চীনা কমিকের বাংলা অনুবাদ পড়ে বিরক্ত হয়ে আমি অনেক খোঁজাখুঁিজ করে একটা সরু কোমরের তন্বী বই বার করেছি, সেটি ছিলো এক ছোটগল্প সংকলন, আর সেটি ঘনাদার গল্পের। সেই আবছায়ার মধ্যেই ঘনাদার মশা গল্পটা পড়ি, লাইব্রেরির পাঠকাল ফুরিয়ে যাবার পর লাইব্রেরিয়ান আমাকে একরকম জোর করেই বার করে দেয়। কিন্তু বেতালের মতো তখন ঘনাদা, আর প্রেমেন মিত্তির আমাকে পেয়ে বসেছে।

এর বহু পরে, আমার কৈশোর হারিয়ে ফুরিয়ে ইতিহাস হয়ে গেছে তখন, প্রবল ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আমি লেপ্টে আছি বিছানার সাথে, ষোল কেজি ওজন কমে গেছে, কিছু খেতে পারি না, বিছানা ছেড়ে উঠতে পারি না, আমার বড় ভাই ঘনাদা সমগ্র তিন খন্ড কিনে এনে দিলেন। আর কিছু করার নেই, আমি একটা একটা গল্প পড়ি আর ঝিম মেরে পড়ে থাকি। সেই দুর্বলতার ঘোরের মধ্যেই বাকি গল্পগুলো এক এক করে পড়লাম। সূর্য কাঁদলে সোনা আমার খুব প্রিয় একটি উপন্যাস, বাংলা সাহিত্যে এমন মৌলিক থ্রিলার খুব বেশি নেই বোধহয়। প্রেমেন্দ্র মিত্র ঘনাদাকে অনেক ভালোবেসে এঁকেছেন, বছরের পর বছর, চলি্লশ বছর বা তারও কিছু বেশি সময় ধরে।

ঘনাদার বাইরেও প্রেমেন্দ্র কিছু কল্পবিজ্ঞানের গল্প লিখেছেন, কিছু থ্রিলার, যেগুলোর নায়ক মামাবাবু নামের এক চরিত্র, আর শিশুদের জন্য কিছু অসাধারণ রূপকথা, যেগুলো ক্লাসিকের অন্তভর্ূত হয়ে থাকতে পারে। "কালরাক্ষস কোথায় থাকে" গল্পটি স্কুলের শিশুদের পাঠ্য হবার যোগ্যতা রাখে।

তাঁর কবিতাগুলোর বেশিরভাগই আমার পড়া হয়নি। হয়তো আরো বুড়িয়ে গিয়ে পড়বো। প্রায়ান্ধকার কোন লাইব্রেরিতে, নয়তো রোগশয্যায়, নয়তো কারো বাড়িয়ে ধরা বইতে, প্রেমেন্দ্র মিত্র বার বার করেই ফিরে আসেন দেখেছি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি টুপ করে চলে আসবো

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৯


আমি হাসিনা। আমি আমার স্বামী ওয়াজেদ মিয়াকে কোনদিন স্বামীর মর্যাদা দেইনি। সে জ্ঞানী হলেও আমি সবসময় তাকে বাসার কাজের লোকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করিনি। আমি সবসময় মৃণাল কান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮




রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথম .........।

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আন্ডারগ্রাউন্ড শোতে এটাই আমার প্রথম ড্রামস বাজানোর একটা মুহূর্ত।

কিছু গল্প আসলে পরিকল্পনা করে শুরু হয় না।কিছু গল্প হঠাৎ করে একটা মুহূর্ত থেকে জন্ম নেয় আর তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমুদ্রের নীল খাম

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২


এই শহরে থাকি প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর ধরে। তিন প্রেমিকার মায়া ছেড়ে যাওয়া যায় না এমন এক অদ্ভুত সুন্দর এই শহর। যার এক হাতে নদী, অন্য হাতে সমুদ্র, আর কপালে জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী দুঃশাসনের পতন অনিবার্য ছিল, জুলাই তো স্রেফ উছিলা মাত্র!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮



জুলাই নিয়ে অনেক বিতর্ক, সমালোচনা আছে। কিন্তু, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জুলাই গণঅভ্যূত্থান না হলে আমরা দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেতাম না। জুলাই ঘিরে যত বিতর্ক, সমালোচনাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×