somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শালীনতার রাসেলীয় সংজ্ঞা-পছন্দ না হইলে রাস্তা মাপেন

০৯ ই জুন, ২০০৬ রাত ৮:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি গম্ভ ীর আলোচনার পক্ষপাতি না, আমার ভালো লাগে না, একটাই জীবন একটু আনন্দ ফুর্তি করে কাটিয়ে দিবো এমনটাই আমার বাসনা। কয়দিন পর মরে গেলে সব শেষ এর পর কিছুই নাই,তাই যতক্ষন শ্বাস ততক্ষন আশায় থাকি, আনন্দের আশায়। কিছু গম্ভ ীর আলোচনা হবে সুতরাং ক্ষনিক তিষ্ট- সবুরে মেওয়া ফলে।
একদল মানুষ যাদের সৈন্দর্য বোধ নেই, যারা নিয়মিত সংস্কৃতির চর্চা করে না এবং যাদের ণত্ব ষত্ব জ্ঞান নেই শিল্প বিষয়ে-মোট কথা যারা মোটেও শিল্পমনস্ক নয় তারা শালীনতা এবং অশ্ল ীলতা নিয়ে হাঙ্গামা শুরু করেছে। কিছু তথাকথিত রামছাগল এবং চেতনায় এবং বোধে একই অবস্থানে থাকা কতিপয় সাংবাদিক( সাংবাদিকতাকে কেউ যদি গলা ফুলিয়ে সংস্কৃতিচর্চা বলতে চায় তাহলে ভুল হবে) কিছু মানদন্ড স্থাপনের ব্রত নিয়েছেন।
তারা বলছেন এখানে অশালীনতার চর্চা চলছে- কেউ কেউ রামছাগলের ঘোষনাপত্রে নিজের নাম লিপিবদ্ধ করে এসেছেন শালীনতার ধারকবাহক হিসেবে।
কথা সত্য আমি গতকাল একটা রামগাগলীর দুধের ছবি প্রকাশ করেছি ব্লগে। ছবিটা রামছাগলগোষ্টির জন্য যৌনউত্তেজক- এমন কিআমাদের জ্ঞানি সাংবাদিক সাইমুম সাহেবের জন্যও যৌনউত্তেজক, তা এই পর্নোগ্রাফিক ছবি নিজের ব্লগে তুলে দিয়ে আমি যেই অশালীন কাজটা করলাম তার বিষয়ে কিছু বলি।

মানুষ মুলত পশুপর্যায় ভুক্ত। প্রানীর শ্রেনীবিন্যাস ধরলে মেরুদন্ডি প্রানীর অংশ- তা মানুষের সমগোত্রিয় প্রাণী সকল ন্যাংটাই ঘুরাঘুরি করে, আমরা ছেলেমেয়ে নিয়ে চিড়িয়াখানায় যাই। ন্যাংটা পশুপাখী দেখি, মানুষও একটা পর্যায়ে এমন ভাবেই ঘুরতো। শুধু সভ্যতার একপর্যায়ে মানুষ অন্য পশুদের বশ মানাতে পেরেছে কিন্তুপশু সঙ্গমের আদিম আভ্যাসটা ছাড়তে পারে নাই- সেইসব মানুষ যদি পশু দেখেও কামার্ত হয়ে যায় তাহলে চিড়িয়াখানার পশুদের সতীত্ব অক্ষুন্ন রাখার জন্য এবং তাদের শালীন করার জন্য আমরা চিড়িয়াখানায় একটা ড্রেস কোড বানাই। সকল পশুদের হাফপ্যান্ট ক্ষেত্র বিশেষে পদমর্যাদা অনুসারে কোট টাইয়ে ব্যাবস্থা করি।
কুট তর্ক হয়ে যাচ্ছে বিষয়টা মানুষের শ্রেষ্ঠত মেনেছে বলেই না ধর্ম নিয়ে হানাহানি করতে পারে মানুষ, স্বজাতি খুন করার মতো শ্রেষ্ঠত অর্জন করেছে যখন তখন মানুষের সাথে পশুর তুলনা করা ঠিক নয়।
এই খানে কতজন ব্লগার আছে যারা টিভিতে রেসলিং দেখে? ওটা কি অশালীন নয়? কিংবা কতজন গায়ের কাপড় খুলে অন্য একজনের সামনে দাঁড়াতে পারে?
একটা ছেলে যদি বুকের বোতাম খুলে ঘুরে সেটা কি অশালীন হবে? যদি তা না হয় তবে একটা মেয়ের বুকের ওড়না খুলে গেলে বা বুকের ঢাকনা খুলে গেলে কেনো সেটা অশালীন হবে? এটা মানুষের যৌনকাতরতার পরিচয়। মানুষ মেয়েদের দুধ দেখলে কামার্ত হয় এইটা মেয়েদের দোষ না, দোষটা ছেলেদের-তারা খোলা বুকে ঘুরলে সেটাকে অশালীন বলার কিছু নেই, আমি যদি এই পোষ্টের সাথে সালমান খানের ন্যাংটা বুকের ছবি দেই কেউ এইটাকে পর্নোগ্রাফিক বলতে আসবে না কিন্তু আমি যদি পামেলার বুকখোলা ছবি দি রামছাগলের দল তেড়ে আসবে সাইটটা কি পর্নোগ্রাফিরর সাইট।
এটা কি বোধের পরিচয়?
আমাদের সমস্যা আমাদের যৌনতার ধারনায়, আমাদের মাথায় যদি সারাক্ষন সঙ্গম চিন্তা ঘুরঘুর করে তাহলে নিতান্ত সাধারন ছবি দেখলেও ঈমান খাড়ায়া যাইতে পারে।
আজ থেকে 150 বছর আগেও বাংলাদেশে ব্লাউজ সেমিজ এইসবের প্রচলন হয় নাই, ঠাকুর বাড়ীর মেয়েরা ইউরোপিয়দের কাছ থেকে বক্ষবন্ধনী আর সেমিজের ধারনটা নিয়ে না আসলে এখনও বাংলাদেশের রাস্তা দিয়ে কয়েকপ্যাঁচে শাড়ী পড়া মেয়েরা যেতো। প্যান্টের প্রচলন না করলে লোকজন ধুতির কোঁচা সামলাতে সামলাতে হাটতো। বাঙ্গালির এই নৈতিক অধঃপতনের মুল শরৎ বাবু। বঙ্কিমের উপন্যাস পড়ার পর ঠাকুর সাহেব এবং শরৎএর উপন্যাসের প্রভাবে বাঙ্গালি মনস্তত্ব গঠিত হয়েছে, আশ্চর্য হলো বঙ্কিমের সমাজচেতনা বা মানসিকতা ধারন করে নি কেউ বঙ্কিমের চেতনা সামপ্রদায়িক বলে বিবেচিত হলো আর রবি বাবু শরৎএর সমাজচেতনা বাঙালি মধ্যবিত্তের সামাজিক চেতনার মূল হয়ে গেলো। তাই ঠাকুর বাড়ীর মেয়েদের দেখানো প্রাথা অনুসারে আমাদের দেশের পোশাকে একটা বিশাল পরিবর্তন আসলো। আমরা ব্লাউজ, পেটিকোটের আইডিয়া দিয়ে দেখতে পেলাম মেয়েদের। আর অর্ধেক খোলা কোমড় দেখে লকলকের যৌনতার জিহবায় নারীদেহ চাটার প্রবনতা শুরু হয়ে গেলো। একই ধারায় আসলো খোলাবুক দেখে যৌন কামনার সমস্যা। আদিম সমাজে লোকজন খোলা বুকে ঘুরছে, তাদের কারোই কোনো সমস্যা নেই, যৌন বিকার নেই প্রকট ভাবে- যত সমস্যা এইসব তথাকথিত রামছাগলের দলের। তাদের মেয়েদের ওড়না খুলে গেলে, উঠে গেলে, শাড়ীর ভাঁজে পেট নাভী দেখা গেলেই শুরু হয়ে যায়, যারা সংযত রাখতেপ ারে তারা রাস্তাদিয়ে হাটে আর যারা পারে না তারা ঘরে ফিরে হাত মারে। যদি বৌ থাকে সারাদিনের যত কামনা সব বৌয়ের উপর দিয়ে পুরন করে। অবশ্য আমাদের সাইমুম ভাইয়ের কথা আলাদা তিনি কোরবানীর হাটে গিয়েও কামার্ত ফিরে আসেন।
শ্ল ীলতার সংজ্ঞা কেউ দিচ্ছে না,, তারা কিছু বৈশিষ্ঠ আরোপ করেছেন এই ধারনার উপরে- ন্যাংটা মুর্তি মাত্রই অশ্ল ীল। কিন্তু সেটা মেয়েদের হতে হবে, পুরুষের খোলা বুক অশালীন নয়, মেয়েদের ভেতরেই যত অশ্ল ীলতা। কেনো বাপু, মেয়েরা কি পুরুষের খোলা বুক দেখে কামার্ত হতে পারে না। এই যে এত এত বাঙালি কিশোরীর ঘরে কোনো মতে প্যান্ট পড়ে থাকা সালমান খানের ছবি ঝুলছে ওটা দেখে কেউ তো অশালীনতা বলছে না। হিন্দি ছবিতে অহরহ নাভী দেখা যাচ্ছে কোমড় দেখা যাচ্ছে, যৌনউত্তেজক নাচ দেখা যাচ্ছে ওসব ড্রইংরুমে সবাই মিলে দেখছে- ভেজা শাড়ী দেখা যাচ্ছে এসবে কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু যদি কোনো মা তার বাচ্চাকে দুধ খাওয়াচ্ছে এই দৃশ্য দেখানো হয় সেটা অশ্ল ীল হয়ে যাবে, কারনটা দুধ দেখা গেলো। এই প্রকাশ্য আর অপ্রকাশ্যের দন্দ্ব নিয়ে সবাই টয়লেটে গিয়ে যৌনকামনা নিবৃত করার চেষ্টা করছে।
আমার কাছে এসব কোনো অর্থ বহন করছে না। বিষয়টা সৈন্দর্যের। যদি সুন্দর হয় তাহলে কাপড় পড়ে থাকলেই বা কি আর না পড়ে থাকলেই বা কি?
উপস্থাপনের ভঙ্গিটাই নির্ণয় করে দেয় কোনটা শ্ল ীল কোনটা অশ্ল ীল। এই জায়গাটা থেকে আমি দেখি।
সত্য মিথ্যার চেয়ে বড় বিচার হলো ন্যায়ের। এবং এই ন্যায়বোধ, নীতিবোধ মানুষের নিজস্ব নির্মান, সেখানেই আমরা এই সব সংজ্ঞা নির্ধারন করি। আমার কাছে যেকোনো অন্যায়কে অশ্ল ীল মনে হয়, এটা আমার বোধের জায়গা, এই খানে কাপড়ের পরিমান নিয়েআমি চিন্তিত না।
যাই হোক একটা কাঁচা কবিতা দিয়ে শেষ করি, এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাও 1 যুগ হয়ে গেলো। মানে এক যুগ আগের কবিতা দিলাম আর কি-

যখন কেউ বাঁচার তাগিদে পন্য হিসেবে তুলে ধরে নিজের শরীর
সে দায় কি সমাজের নয়?
সেটা কি অশ্ল ীল?

যখন কেউ ক্রামগত বঞ্চিত হতে হতে
অন্যায়কে রূখে দেয় অন্যায় পথে
যখন আমরা বিবেকের তাড়নায় নগ্ন ভাবে প্রকাশ করে ফেলি সত্যকে
সেটা কি অশ্ল ীল?

যখন রাজ্যজয়ের পাশাখেলায় সত্যবাদী যুধিষ্টির
বাজী হিসেবরে রাখে দৌপ্রদীর শরীর
সেটা কি অশ্ল ীলতা ছিলো না?
যখন কেউ অন্ধকার গলিতে অস্ত্রের জোড়ে
অস্ত্রহীনের সম্পদ ছিনিয়ে নেয়
যখন এই ঘুনে ধরা সমাজ
স্বাভাবিকতার টুটি চেপে ধরে
যখন ক্ষমতার লড়াইয়ে
ভুক্তভোগী হয় জনগন
সেটা কি অশ্ল ীল হয়ে উঠে না?
যখন আমরা কঠোর বাস্তবতায়
বিচার করি সত্যকে শ্ল ীলতা তার রূপ বদলায়
সৈন্দর্যই শ্ল ীলতা তাই প্রকাশের গুনে
পবিত্র হয়ে উঠে কখনও নগ্নতা
বারো হাত কাপড়ের ফুটে থাকে যৌনতা।


সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৪৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রথমেই বিএনপির যে কাজগুলো করা জরুরি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:৪৬


বিএনপির প্রথম কাজ হলো তারা যে “অত্যাচারী” নয়, তা মানুষের কাছে প্রমাণ করা। "ক্ষমতাশালী" মানে যে ডাকাতি, লুটপাট এবং মাস্তানির লাইসেন্স পাওয়া নয়, এটা নিশ্চিত করা। এর জন্য তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদেশর স্বপ্নের বাংলা।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:০৬

আমাদেশর স্বপ্নের বাংলা।
--------------------------
আমার স্বপ্নের বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যেখানে মানুষ আগে ধর্ম, বর্ণ, পরিচয় পরে। এই দেশে মোল্লা, পুরোহিত, সাধু, বাউল, ব্রাহ্মণ, চণ্ডাল, চামার, মুচি সকলেই সমান মর্যাদা নিয়ে বাঁচবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচন ২০২৬

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:০৪

জুলাই বিপ্লবে হাজারো তরুন রাস্তায় নেমেছিল একটা বৈষম্যহীন রাস্ট্র গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। নির্বাচনের দাবীতে কোন মানুষই জুলাইতে রাস্তায় নামেনি। একঝাক তারুন্যের রক্তের বিনিময়ে সবার প্রত্যাশা ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাতিয়ায় শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণ করে বিএনপির কুলাঙ্গাররা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:১০

এক আওয়ামী ব্লগার আমাকে প্রশ্ন করছে আপনি তো বিএনপি করেন তাহলে জামাতের পক্ষে পোস্ট দেন কেন। উত্তরা এই পোস্টের শিরোনামে আছে। আমার উত্তর হচ্ছে আমি জামাতও করি না।

আমার পরিবার,আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুইশো নয় আসন নিয়েও কেন অন্যদের বাসায় যেতে হচ্ছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:০৯


নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় একধরনের উৎসবের আমেজ ছিল। স্ট্যাটাস, পোস্ট, কমেন্ট—সবখানে একই সুর। বিএনপি দুইশো নয়টা আসন পেয়েছে, জামায়াত মাত্র সাতাত্তর, দেশ এবার ঠিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×