ঘটনা 1
বহুজাতিক কোম্পানির সুসজ্জিত অফিস। সবাইকেই বেশ সুবেশী হয়ে অফিসের ড্রেসকোড মেনে ঢুকতে হয়। অফিসের ড্রেস কোডে যেই সুটেড বুটেড অবস্থার কথা বলা আছে তাতে পাঞ্জাবি পাজামা বা শেরওয়ানি নেই। অফিসটা বহুজাতিক, এবং যেহেতু মুল অফিসটা বিলাতে তাই তাদের ড্রেস কোডের ধারনাটার মধ্যে এই জাব্বা জোব্বা নেই- জনৈক ধর্মপ্রান মুসলিম যিনি প্রচন্ড রকম ভাবে ধর্মপালন করেন, সুন্নাহ, ফরজ, নফল ওয়াজিব সবই পালনের চেষ্টা করেন। তিনি ঝোলা দাড়ি রেখে পাঞ্জাবি পড়ে অফিস করার অনুমতি প্রার্থনা করলেন, প্রার্থনা করলেন যেনো তাকে জোব্বা পড়ে অফিসে কাজ করার অধিকার দেওয়া হয়। অফিস রাজী হয় নাই- রাজি হওয়ার মতো কোনো কারন দেখে নাই-
ভদ্্রলোক মামলা ঠুকে দিলেন, ধর্মিয় বিভাজনের কারনে তাকে হেনেস্থা করা হচ্ছে- তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে তিনি ধর্মপ্রাণ বলে-
কথা হলো এই প্রথম ঘটনায় আপনার কাকে দোষি মনে হয়?
যারা পড়বেন তারা তাদের বিবেচনা মতো উত্তর দিবেন।
ঘটনা 2
প্রাইভেট ফার্ম। কর্মচারীর সংখ্যা কম, তবে অফিসের মালিক ভালো। কর্মচারীদের বাড়তি কাজ করান না। ঘড়ি ধরে 5 টার সময় সবাই ইচ্ছা করলেই বাড়ী যেতে পারে। কাউকে বসিয়ে রেখে জোড় করে কাজ করান না তিনি, তার 9টা -5টা অফিসের সময় তিনি তা পালন করেন।
মাসের প্রথম সপ্তাহে সবাইকে বেতন দেন- আদর্শ মালিক , তবে তিনি নিয়মানুবর্তি, তার একটাই কথা অফিসে যতক্ষন থাকবেন অফিসের কাজ করবেন। এইটুকু সময় আপনারা আমার কর্মচারি। এইখানে আপনাদের কাজ করার জন্য আমি পারিশ্রমিক দেই,এবং এই একটা জায়গায় আপনাদের সহায়তা এবং সততা দাবি করি আমি। আপনাদের যদি এই অফিসের নিয়ম পছন্দ না হয় আপনারা চলে যেতে পারেন।
অফিসে শোভন পোশাক পড়ে আসবেন আর যেটুকু সময় অফিসে থাকবেন অফিসের কাজ করবেন। 12টা থেকে 1টা লাঞ্চের সময় সে সময় আপনার লাঞ্চ করবেন নিজের মতো সময় কাটাবেন- সমস্যা বাধালো গুটিকয় ধার্মিক মানুষ। তাদের দাবি হলো যেহেতু তাদের জোহরের নামাজ পরতে হয় তাই তাদের জন্য 1 থেকে 2টা পর্যন্ত লাঞ্চ আওয়ার করতে হবে।
মালিক নীতিবান, তিনি রাজি হন নাই। আবারও মামলা- মামলায় অভিযোগ ধর্মপালনের অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে-
প্রথম কারন জোহরের নামাজের ওয়াক্তের সময় তারা নামাজ পড়তে পারেন না।
2য় কারন তাদের এই নিয়মে আপত্তি ছিলো না যদি অফিসে একটা প্রার্থনা কক্ষ থাকতো।
তারা বিকল্প হিসেবে বলেছিলেন অফিসের ভেতরে আলাদা একটা প্রার্থনায় জায়গা তৈরির জন্য। মালিক তাদের বলেছেন অফিস কাজ করার জায়গা ধর্মপালনের জায়গা না। এই ধর্মপালনের অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে বলে তারা সুবিচার চান। মালিকের কথাটার মধ্যে কোনো ভুল কি কেউ খুঁজে পেয়েছেন?
এই যে ধর্মপালনের নামে নৈরাজ্য এটাকে আবেগ দিয়ে বিচার করার কোনো প্রয়োজন কি আছে। এই 2টা ঘটনায় কি মানুষের ধর্মপালনের অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে বলে আমনাদের মনে হয়। মনে হলে কেনো মনে হয় একটু যুক্তি দিয়ে বোঝান। না মনে হলে কেনো হয় নাই তাও যুক্তি দিয়ে বোঝান
এইটা একটা ঘটনা- হয়তো বাস্তব না, কিন্তু এই যে অফিসের নিয়ম কানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা বা অফিস যে কাজের জায়গা এই বিষয়টাতে েঅহেতুক ধর্মের গোঁজামিল দিয়ে অনৈতিক সুবিধা দাবি করাটা উচিত কি অনুচিত।
বাংলাদেশের সরকারি অফিসের চালচিত্র এমনই, সেখানে মানুষজন 12টার দিকে লাঞ্চ ব্রেকে যায় 3টায় ফিরে আসে।
প্রতিটা সরকারি অফিসে আলাদা করে নামাজের জায়গা বানানো আছে-
কিন্তু প্রতিটা অফিসে কোনো মন্দির গীর্যা বা প্যাগোডা নেই- এবং এই সব অমুসলিম মানুষেরা বা যারা ধর্মপালন করেন না তাদের উপর অফিস টাইমে বাড়তি চাপ পড়ে- কারন তাদের ধার্মিকদের ধর্মপালনের জের টানতে হয়- এখন যদি বাংলাদেশ সরকার এইটা নিয়ম করে যে অফিসের নিয়মাবলীতে যা যা বলা আছে তা পালন করতে হবে- লাঞ্চ ব্রেক যদি 1টা থেকে 2টা হয় তাহলে সেই টুকু সময়ের জন্য কাজ বন্ধ থাকবে আর যদি 12টা 1টা হয় তাহলে সেইটুকু সময়ের জন্য কাজ বন্ধ থাকবে।
আসরের নামাজ পড়ার বিরতি নেই কোনো।
সরকারি অফিসে কোনো মসজিদ থাকবে না। কোনো ধর্মপালনের জায়গা থাকবে না- এই শুভ পরিবর্তনগুলো কে কিভাবে গ্রহন করবে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০০৬ সকাল ১০:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




