somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাম বিভ্রাট

৩১ শে আগস্ট, ২০০৬ রাত ১২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নাম নিয়ে সমস্যা তৈরি হয় সব সময়ই, মানুষ যত নামের পরিমান তার তুলনায় কম তাই অনেকেরই নাম মিলে যায়, আমি যখন প্রথম স্কুলে ভর্তি হলাম তখনও পৃথিবী দেখি নি, তাই মনে হতো সবার নিজস্ব একটা নাম আছে, পরিবারের ভিতরে সবার নাম আলদা ছিলো তাই হয়তো নাম বিষয়টা বিশিষ্ট একটা বিষয় এমন মনে হতো, প্রথম দিন ক্লাশে যাওয়ার পর সূচনায় কান মলা আর ডাস্টারের বাড়ি খেয়ে যখন একটু ধাতস্থ হলাম পাশের ছেলের সাথে পরিচয় হলো- কি আশ্চর্য বিষয় তার নামও রাসেল। বাবা মায়ের উপর একটা অভিমান তৈরি হলো এমন একটা বিষয় নিয়ে ছলচাতুরি, নামটা একটু আলাদা হলে কোনো ক্ষতি ছিলো না। অবশ্য এক নাম হওয়ার অসুবিধা একটাই, নামটা শুনলেই যেহেতু সাড়া দিতে হয় তাই রোল নং ছাড়া ডাকলে 2জনই চিকন গলায় জি্ব আপা বলতাম- আমি সস্তা এক স্কুলে পড়ছি, তাই সেখানে শিক্ষকদের স্যার আর শিক্ষিকাদের আপা ডাকার রেওয়াজ ছিলো আর প্রথম এবং দ্্ব ীতিয় শ্রেনীর ক্লাশ নিতো শিক্ষিকারা। সুতরাং সমাধান হলো েরোল নং নিয়ে ডাকা, আমার রোল ছিলো 18 সুতরাং নামের বদলে নাম্বার দিয়ে পরিচিত হলাম। এই বিভ্রাট সারা জীবন পিছু ধাওয়া করেছে, নতুন স্কুলে গেলাম 7ম শ্রেনীতে ,বিশাল আয়োজন, এক ক্লাশে 150 জন ছাত্র এবং সেখানে আরও 2 জন রাসেল পেলাম, ততদিনে বিষয়টা গা সওয়া হয়ে গেছে, তবে আমার শ্রবন যন্ত্রে সমস্যা আছে, এল দিয়ে শেষ হওয়া যেকোনো কিছুই নিজের নাম মনে করে সাড়া দেই। এমন হলে আরও কিছু উপাধি জুটে যায়, আমার শাররিক কাঠামো দুর্বল তাই হ্যাংলা রাসেল হয়ে গেলাম, বিষয়টা দুঃখ জনক কারন যখন সেই স্কুল ছেড়ে আসি তখন আমার নামের মূল অংশ উধাও, বন্ধুরা চিনে হ্যাংলা বলে। অপমানজনক বিষয়। 9ম শ্রেনীতে উঠে আবারও স্কুল বদল করলাম, এবারও আরও একটা রাসেলকে পাওয়া গেলো ক্লাশে, অবশ্য আরও জনা তিনেক ছিলো যাদের ডাক নাম রাসেল ছিলো তবে ওদের মূল নামের প্রথম অংশ দিয়েই পরিচিত ছিলো, তবে এখানেও আমার অনন্য শাররিক কাঠামো আমাকে সাহায্য করলো, হলাম চিকনা রাসেল। কলেজে হলাম হ্যালফ্যাল- সারা জীবন রাসেল নামের বোঝা বহন করতেছি, বিভিন্ন মানুষ কেনো যে এই একটা নামের পিছনে ধাওয়া করে বুঝি নি এখনও। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে এই বিষয়টাকে যন্ত্রনার পর্যায়ে নিয়ে গেলো এক বন্ধু, সে আমাকে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন জনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়,হাত মিলিয়ে শুরুতেই নাম বলার নিয়ম, তাই সে রাসেল বলা মাত্র আমি দৃষ্টি তীক্ষ করে জানতে চাই আমাকে সে কিভাবে চিনে- সেও বিষয়টাতে ভ্যাবাচ্যাকা খায় অবশেষে বলে না আমার নাম- আমিও হাসি মুখে বলি ও আচ্ছা আমার নামও, এই ক্ষনিক বিভ্রান্তি সে উপভোগ করতো মনে মনে- তবে সেই সব রাসেলদের সাথে পরিচয় এখনও আছে, অনেক রাসেলের সাথে আড্ডা দিয়ে এখন বোধ হয় আমার নাম হওয়া উচিত ঝানু রাসেল, তবে পরিচিত হয়ে মজা পেয়েছি ক্রাইমার রাসেলের সাথে, সে বেচারা দেশের বিভিন্ন এলাকার 2 নাম্বারি ঘটনা জানতো, অবশেষে একদিন ছাদে কোনো এক কাজের মেয়কে জড়িয়ে ধরার পর সেই যে ফ্ল্যাট ছাড়া হলো এর পর থেকে তার কোনো খবর পাই না। আমিও অবশ্য বেশ কয়েকবার ভুক্তভোগী হওয়ার পরে বিষয়টার মজার দিকটা উপলব্ধি করলাম, তাই সেই বন্ধুর নামের সাথে মিল আছে এমন সব বন্ধুকে খুঁজে তার সাথে পরিচয় করে দেই, এভাবে বোধ হয় আমাদের পরিচিত মহলে আমার 12 জন রাসেল বন্ধু আছে এবং 16 জন সোহেল বন্ধু আছে, এর পরের কমন নাম হচ্ছে সুমন, 11 জন সুমনের সাথে আমার বন্ধুত্ব 9 জন সুজন আছে- একেবারে ভিন্ননামের বন্ধু একজনাই শমিক, এই নামের 2য় কোনো বন্ধু পাই নাই, ঘরে ঘরে বাবু, সুমন, সুজন , রাসেল,সোহেল,শফিক,এইগুলো থাকে নাম রাখার সময় কেনো যে বাবা মা এই বিষয়টা ভাবে না। আমার ধারনা বাংলাদেশে যতগুলো ডাকনাম প্রচলিত তার প্রায় সবগুলো নামের বন্ধুই আমার আছে, তবে নতুন যুগের আরবি নামের বই থেকে টুকলি করা নামগুলো বাদ দিয়ে- অপরিচিত নামের ভেতরে বোধ হয় মিছিল, কথা, ভাষা এই 3 নামের বন্ধু পাওয়া গেছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে আগস্ট, ২০০৬ রাত ১:১০
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তালেবান ঢাকায়, রাষ্ট্র ঘুমায়

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩২

জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে অনেক কিছু নতুন হইছে। নতুন সরকার, নতুন মুখ, নতুন বুলি। কিন্তু একটা জিনিস খুব চুপচাপ, খুব সাবধানে নতুন হইতেছে, যেইটা নিয়া কেউ গলা ফাটাইতেছে না। তালেবানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×