বেলি ড্যান্সের মতো মোহনীয়, উদ্দিপক অন্য কোনো নাচ হতে পারে না, পরিবেশ, পরিপাশর্্ব এবং ভঙ্গি মিলিয়ে এটা এক ধরনের আলাদা আবেশ, সম্পুর্ন অন্ধকার একটা মঞ্চে একটুকরো আলো পড়েছে নর্তকির গায়ে, সে আলোতে আগুনরঙা আঙরাখা কাঁপিয়ে শুরু হলো নাচ।
চাপপাশের কোথাও আলো নেই তাই সব দর্শকের মনোযোগ স্থাপিত হয় নর্তকীর শরীরে, সেখানে ক্ষীন স্পন্দন সেখানের তরঙ্গ সবটুকুই গোগ্রাসে গেলার মতো।
নর্তকীর ভরাট নিতম্ব দুলছে সুরের তালে তালে, যেমন ভরা পুকুরে কলসী দোলে ঢেউয়ের তালে, নর্তকী মুখ আড়াল করে আছে একটা ওড়না, স্বচ্ছা ওড়নার আড়ালে সুশ্র ী মুখ, সুরের ঢেউ আছড়ে পড়ে নর্তকীর শরীরে ধীরে ধীরে, মসৃন উন্মুক্ত তলপেটের কম্পন সুরের সাথে তাল মিলিয়ে উপরে উঠতে থাকে, সাপের মতো দোলে কিছুক্ষন, সুরের মাদকতা বাড়ে সময়ের সাথে, তার পুরুষ্ট স্তন কাঁপে, কাঁপে অধর, নর্তকী আলগোছে ছুড়ে ফেলে মুখে আড়াল, সরাসরি তাকায়, সে দৃষ্টি ভেদ করে যায়।
প্রতিটা লয়কে হাতের মুদ্্রায় আঁকে, তালের সাথে সাথে ভরাট ঢেউ যেনো আছড়ে পড়ছে উপকূলে, নর্তকী নাচে না নাচে দর্শকের হৃদয়, হঠাৎ করে সেই মিশরীয় সুরের মাত্রা বদলে যায়, আধুনিক তিন তালে নর্তকী ঘুরে ঘুরে নাচে। মঞ্চের অন্ধকারে জ্বলজ্বল করে তীব্র চোখ, গিলে খায় ভরাট যৌবন, অনেক চর্চায় এই বিদ্যা অর্জন করেছে , পরিশীলিত যৌনতা যেনো ছড়িয়ে পড়ছে মঞ্চে, এটা ইরোটিকা? হবে হয়তো সংজ্ঞায় এটা ইরোটিকা তবে সংজ্ঞা যা ধারন করতে পারে না তা এর সৈন্দর্য্য, যেমন ভারী নৌকা স্রোতের তালে নাচছে, ঢেউয়ের আঘাতে ছপছপ শব্দ হচ্ছে , শুধুমাত্র আরোহী জানে কেমন অবশ বিবশ করা অনুভুতি আসে ভেতরে, কিভাবে ভেতরটা ফাঁকা হয়ে গহন তৃষ্ণা জাগে, ভেতরটা শুকিয়ে যায়। এবং এই মাতলামি শুন্য মঞ্চে অনেকক্ষন ছড়িয়ে থাকে, অভিভুত দর্শক নাচ শেষ হওয়ার পর মুগ্ধতায় তালি দিতে ভুলে যায়।
সাধে কি আর আরব শেখেরা পয়সা দিয়ে পুষে এদের, এমন উদ্ভিন্ন যৌবনা নর্তকী নেচে গেলে সারাদিন ক্লান্তি আসে না, নিয়ন্ত্রিত যৌনতার আবেশ অনেকটা নেশার মতো, ভয়ংকর নয় বরং আবিষ্ট করে রাখা নেশা। চলৎশক্তিহীন করে ফেলে অনায়াসে।
আন্দালিফ চ্যানেল ঘুরিয়ে খবর দেখবে ঠিক করে, ভেতরটা খাঁখাঁ করছে, কতদিন নীলার সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়া হয় না।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


