শর্মি এবং বদরুল ভাইয়ের লেখা পড়ে
-----------------------------
শর্মি
লেখার শুরুতেই যদি নিজের ধারনাটাকে সত্য ধরে নিয়ে পর্যাপ্ত পরিসর না রেখেই শুরু করে দেওয়া হয় তাহলে যা দাড়াবে সেটার পরিনাম হবে তোমার বাঙ্গালি সংস্কৃতি নিয়ে লেখা 2টি অনুঅভিযোগপত্র।
তুমি প্রথম অভিযোগের তীর ছুড়লে এই বলে যে বাঙ্গালি সংস্কৃতি নিয়ে যারা কথা বলে তারা অন্ধ অনুকরণ করতে পছন্দ করে!!!!!! তুমি ঘটনা বিশ্লেষনে গিয়ে পরিনতি আসার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে বাসে আছো যে এটাই ঘটবে,
আমি এখানে আরও গুছিয়ে শুরু করছি, উলটা পথে যদিও,
আমি জানতাম পহেলা বৈশাখে পান্তা খাওয়ার উদাহরন আসবেই, এটা খুব সহজেই লোকজন আঙ্গুল তুলে দেখায়, দেখো ওরা একদিন পান্তা ভাত খেয়ে বাঙালিকে উদ্ধার করে ফেলছে। এটা একদিন রমনায় গিয়ে পান্তা খাওয়ার বিষয় নয় এটা উপলব্ধি করলে এত কিছু লেখার প্রয়োজন ছিলো না,
ইতিহাসের একটা পর্যায় ছিলো যখন 21শে ফেব্রুয়ারির পর অবশেষে শাসকগোষ্ঠিকে বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি দিতে হয়েছিলো, এবং এর পর অলিখিত সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানোর একটা প্রচেষ্টা ছিলো। সেখানে মোনায়েম খা রবিন্দ্রসংগীত লেখার চেষ্টা করতে বলেছিলো জনগনকে, সেই বিরুপ পরিস্থিতিতে ছায়ানট রমনায় এই আয়োজন শুরু করে, এটা পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটা আন্দোলনের মঞ্চ ছিলো, এখনও এটা সংস্কৃতির সপক্ষের মঞ্চ,লোকজন পাঞ্জাবি পরে পান্তা খাওয়ার জন্য নয়, বরং এই আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষনা করতেই তারা ভোড় বেলা জমায়েত হয় রমনায়। তারাও বাঙালি সংস্কৃতি রক্ষার লড়াইয়ে শরিক এটা বোঝানোর জন্য।
বাংলাদেশের বিবাহ সংস্কৃতি বিশ্লেষন::
গায়ে হলুদ এর অনুষ্ঠানে হিন্দি গানের সুর ভাসে, অবস্থাপন্ন রা গায়ক গায়িকা ভাড়া করে নিয়ে আসে যাদের হিন্দি গান পারদর্শিতা আছে, অভিযোগ কি সম্পুর্ন সত্য??
ঘটা করে গায়ে হলুদ করার মতো সামর্থ ক জন গেরস্তের আছে? যারা শোহরে থাকে তাদের সব গায়ে হলুদেও হিন্দি গান বাজে না আর গ্রামে------ সেখানে এখনও গায়ে হলুদ মানে একটা ঘরোয়া উৎসব সেখানে মেয়ের অতিতপন্থি নানি দাদিরাই খালি গলায় হলুদ বাটো মেন্দি বাটো গায়, শহরতলীর বিয়েতে বিপ্লবের গান বাজে যদিও সেটা হিন্দি গানের তুলনায় জঘন্য তারপরও বাংলায় গান গায়তো,
ইংরেজিতে বিয়ের কার্ড ছাপানো এখনও বাংলাদেশের সামগ্রিক চিত্র নয়, ঢাকা বাদ দিলে বাকি জায়গায় এখনও বাংলা কার্ডের প্রচলন বেশি, তবে হিন্দু পরিবারগুলো এখনও হাতে লিখে হলুদের দাওয়াত দেয়, আমার ভালো লাগে দেখে, একটা আন্তরিকতার ছাপ আছে,
ওদের কার্ডও এখনও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাংলায়, আমি যে কয়টা বিয়ের দাওয়াত পেয়েছি তার ভিত্তিতে বলছি,
আমার মনে হয় শর্মি আপনার পরিচিত মহলের সবাই হাই সোসাইটির ছোট্ট জঙ্গলে ঘোরা ফেরা করে, আপনার উচু শীর্ষাসন থেকে নিচের আলো দেখা যায় না, এটা সামাজিক স্তরবিন্যাসের দোষ,
নিজের ক্ষুদ্্র পরিমন্ডল থেকে যদি সামগ্রিক সমাজকে বিবেচনায় আনতে গিয়া অতই সাধারনকৃত মন্তব্য করে ফেলো এটা অবিচার হবে।
সংযোজনে কারো কারো আপত্তি থাকতে পারে ,আকাশ সংস্কৃতির যুগে হিন্দি চ্যানেলের রমরমা বাজরে হিন্দি সিরিয়াল অনুকরন করছে অনেকেই। এটা আপত্তিকর হলে নিজে পরিহার করে অন্যকে বোঝানো উচিত , সাংস্কৃতিক সংমিশ্রন অবসম্ভাবি, এটাকে রোধ করা যাবে না, তবে প্রশ্ন হলো গ্রহনের মাত্রা এবং যারা গ্রহন করছে তার নিজের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সচেতনতা। তাহলে তারা ভালো কিছু গ্রহন করবে এবং এ দেশের সংস্কৃতির সাথে খাপ না খাওয়া অংশগুলো বর্জন করে সুন্দর সাংস্কৃতিক সংমিশ্রন ঘটাতে পারবে। খবরে আসছে এবার ঈদের হিন্দি সিরিয়ালে ব্যাবহৃত পোশাকের কদর ছিলো সবচেয়ে বেশি, এটা অবশ্যই নিন্দনিয় আচরন, কিন্তু যারা করছে তাদের নিজস্ব শৈলিবোধ কি খুব উন্নত??
---------------------------------------
বদরূল ভাই 2য় বারের মতো একই পোষ্ট দিয়েছেন, ভালো করেছেন, সেখানে মন্তব্য করলাম, আমার আগের মন্তব্য মুছে নি, কিন্তু তার আগে করা স্রয়শীর মন্তব্য মুছে গেছে,
আমি তাকে যা বলতে চেয়েছিলাম সেটা সেখানে বললাম আবার বলছি,
যদি জন্মের পর মেয়ে সন্তান মেরে ফেলা হতো তাহলে
এই যে এত সব কাফের নাসারার দল, তারা সবাই একটা করে বৌ পেতো কেমন করে? শুধু একটা করে বৌ পেতো এমনও না, অরাজকতার প্রমান হিসেবে এমনও উল্লেখ করা হয় যে সেখানে বেলেল্লাপনা করা মেয়েরাও ছিলো? এত মেয়ে এত মেয়ে এর পরও মেয়ে সন্তান মেরে ফেলা হতও, চিন্তার কথা যদি তাদের মেরে ফেলা না হতও তাহলে তো আরবে মেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যেতো, তখন আবার মেয়ে নবি পাওয়া যেতো।
নারী অধিকার ও নারী স্বাধীনতা:
আরবে তৎকালিন সময়ে মেয়ে কবিও ছিলো,এটার অর্থ সেখানে সংস্কৃতিমনা মেয়েরাও জন্মাতো, তাদের কৌতুক বোধ ছিলো প্রমান আয়েশা, সম্মানজ্ঞানও ছিলো, প্রমান ওমরের মেয়ে হাফসা, সেওতো সেই সংস্কৃতিতে বেড়ে উঠেছে ঠিক না?
আর অন্য সবার উদাহরন দিতে হলে আবার অতীত যুগের আরব ইতিহাস পড়তে হবে, এখন তেমন সময় নেই,
আর সম্পদের অধিকার, খাদিগা যদি বাবার সম্পদের সম্পুর্ন অধিকার পায় ইসলাম তাকে কি দিলো, ইসলামি মতে একমাত্র কন্যা কি 100% সম্পদের উত্তরাধিকারি হয়?
আর পর্দাপ্রথার উদ্ভব মুসলিম মেয়েদের অন্য আরব মেয়েদের থেকে আলাদা প্রমানের জন্য, তাদের জনবিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা বলা যেতে পারে একে, তাই পরবর্তি ইসলামের ইতিহাসে আরব মেয়েদের মতো কাব্যরসিক, কৌতুকবোধের অধিকারি শিল্পমনস্ক মেয়ে চরিত্রের অভাব।
আর অন্য একটা কথা, কোরানে বর্নিত বেশির ভাগ নবি কিন্তু মনোগ্যামিস্ট, সবার একটা করেই বৌ ছিলো, এমন কি ঘোর কাফের আবু জাহেল তারও বৌের সংখ্যা এক, তাহলে মুহাম্মদের লিস্টিতে এত এত মেয়ে কেনো?
------------------------------------
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




