somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের খেলার ফাঁকে

২৬ শে মার্চ, ২০০৭ ভোর ৬:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধার দোকান- সাইনবোর্ডে আসলে কোনটা বিজ্ঞাপণী বানী বুঝা মুশকিল। মানুষের সহমর্মিতা আকর্ষণ কিংবা মানুষের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য অনেক রকম বিজ্ঞাপনী শ্লোগানের ভেতরে সংশয় জাগে আসলে বিশ্বব্যাপী গড়ে ওঠা প্রতিবন্ধীদের প্রতি যে সহমর্মিতা জাগরুক সেটা নির্দিষ্ট করতেই পঙ্গু শব্দটার ব্যবহার না কি বাংলাদেশের রাজনৈতিক আর সুশীল সমাজের বিজ্ঞাপনী চটক হিসাবে মুক্তিযোদ্ধা শব্দটার ব্যবহার- যেকোনো কারণেই ব্যবহৃত হোক না কেনো আসলে জমিল শরাফতের দোকানটা তেমন জমজমাট না। বিষন্ন দুপুরে মাছি ছাড়া অন্য কিছু ঘোরাফেরা করে না দোকানে। সকালের দিকে কিছু গাহেক আসলেও এই দুপুর বেলাটা সুনসান পড়ে থাকে দোকানটা। ছেড়া তক্তাপোষের মলিন চাদরে বিস্তর রক্তের দাগ। শহরতলীর এই স্যাঁতস্যাঁতে অঞ্চলে মশার অবাধ আনাগোনা।

অন্য পাশে " আশা"র আঞ্চলিক কার্যালয়ে, সেখানে সখিনা বসে আছে। কিস্তির টাকা জমা দেওয়ার সময় শেষ, এখন টাকা হাতে নেই তাই আরও পরে ঋণ শোধা যাবে কি না এ বিষয়ে দেন দরবার করতে এসেছে সখিনা।আর আছে ইউনিয়ন অফিস। গোটা কয়েক মুদি দোকান আর চায়ের টং।

অনেক বার ভেবেছে জমিল এই দোকানটা উঠিয়ে দিয়ে চায়ের টং খুলে বসবে। সেখানে অন্তত সারাদিন লোকজন আনাগোনা করে। মানুষের সংস্পর্শ চায় মন। মন খুলে কথা বলতে চায়। সেটা সম্ভব হয় না এখানে। এই চিটচিটে গন্ধের বোয়াম আর সেখানের সস্তা সন্দেশের ভেতরে মরে পড়ে থাকা পোকা মাকড়ের মতো মলিন জীবনযাপন ছেড়ে আত্মহত্যার কথাও ভাবতে পারে না। ধর্ম বাধা দেয়। আত্মহত্যা মহা পাপ।

-----------------------
বাংলাদেশের জঘন্য খেলা দেখে গত রাতে বন্ধুকে ফোন দিলাম গভীর রাতে। কুত্তার বাচ্চাদের কি বলা যায়? এই ছিলো উদ্বোধনী বাক্য। আমি বিষ্ময়াবিষ্ট। আমি প্রথম দিন থেকেই শাহরিয়ার নাফিসের খেলা দেখে ভাবছি তার মুভমেন্ট নিয়ে তাকে কেউ কিছু বলছে না কেনো। অন্তত তার এই ক্ল্যামজি মুভমেন্ট বদলানোর কোনো উপদেশ তাকে দেওয়া যায়ই। ব্যকফুটে খেলা কিংবা ফ্রন্ট ফুটে খেলা- যেকোনো অবস্থানেই খেলা হোক না কেনো একটা সাবলীলতা আশা করি আমি।
শাহরিয়ার নাফিসের জন্য উইকেটে মুভমেন্ট থাকলে সেটার বিপক্ষে তার অসহায়ত্ব দেখে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় এই ছেলেটাই গত 1 বছরে 1000 রান করেছে। অবশ্য নিস্প্রান উইকেটে যেখানে বল প্রধানত সুইং করে সেখানে শাফল করে যাওয়া সহজ। এমন এল বি ডাবলিউ প্রবণ ব্যাটসম্যান কম নেই।
সবাই অল্প বিস্তর ভুগে তবে এখন বাংলাদেশ যাদের সাথে খেলছে সেইসব বোলাররা নিয়মিত অনুশীলনে উইকেটের দু দিকেই বল মুভ করতে পারে। তারা নাফিসের এই দুর্বলতা জেনে গেছে। তামিমের বিষয়ে আমি আশাবাদী না। তার চালিয়ে খেলা চলুক, যেদিন ব্যাটে বলে হতে থাকবে সে প্রচুর রান পাবে তবে এখনও ছটফটে এই ছেলেটাকে নিয়ে আশাবাদী হওয়ার কিছু নাই। আরও অভিজ্ঞ হওয়ার পরে হয়তো নিজের অস্থিরতা কাটিয়ে উঠবে সে।

আফতাব কিংবা এই নতুন ব্যাটসম্যানরা আসলে বাংলাদেশের ইনিংসে যা করছিলো তাতে তাদের পাড়ার দল মনে হচ্ছিলো ভীষন ভাবে। বোধ হয় বৃষ্টিবিঘিনত ম্যাচে হুট করেই নির্ধারিত রান তুলতে সমস্যা হতে পারে এমন বিবেচনায় তারা অস্থির হয়েছিলো। এর পরও খেলাটা ক্রিকেট

এখানে এখনও কপি বুক খেলে রান বের করা সম্ভব। রান রেট ছিলো মাত্র 4 দশমিক 5। একটু দেখে শুনে খেললে ওভারে 4 রান এমনিই বের হয়ে আসে। এর জন্য অস্থির হয়ে চালিয়ে খেলার কোনো দরকার নেই। এর পরও তামিমের বিদায়টা হয়েছে চমৎকার একটা ক্যাচে। ম্যাচের সেরা মুহূর্ত এটাই।

শাহরিয়ার নাফিসের আউট তার নিজের বল বুঝতে না পারার কারণেই সম্ভব হয়েছে। আফতাবের আউট অমার্জনীয় ভুল। বাংলাদেশের হতাশাজনক খেলার মান নিয়ে আসলে বেশি কিছু বলা সম্ভব না। সেই বন্ধুর কথার উত্তরে তাই আমিও বললাম আমি ওদের গালি দেওয়ার ভাষাও খুঁজে পাচ্ছি না।
অনেক সুযোগ দিয়েও আশরাফুল আর সাকিল আল মাহমুদ আউট না হওয়ায় খেলার ফলাফল দেখে মনে হয় বাংলাদেশ অনায়াসে জিতেছে। যদি বারমুডার মুখাদ্দমের মতো আর 1টা বোলার থাকতো তাহলে কালকে বাংলাদেশকে ফেরত আসতো হতো নিশ্চিত ভাবেই। সম্পূর্ণ খেলায় বাংলাদেশের বোলিংটাই ভালো হয়েছে।

------------------------
নিজেকে মর্ষকামী মনে হয়, মনে হয় ভীষন রকম অসংযত- গত রাতে আনন্দে হুররা বলে ন্যাংটা হয়ে যাওয়ার ইচ্ছাটা দমন করলাম কোনো মতে। অবশ্য কাপড় খুলে ফেললেও কোনো সমস্যা ছিলো না। বাসায় আমি একা। সঙ্গত কারণেই উল্লসিত ছিলাম।

মাঝরাতে বাংলাদেশের বোলিং বাদ দিয়ে দেখছি তৃতীয় মাত্রা। প্রধান কারণ আমার প্রিয় ব্যাক্তিত্ব মামুন রশিদ উপস্থিত সেখানে। তার কথাবার্তা আমার কাছে অদ্ভুত ত্রিভূজিয় মনে হয় সময় সময়। তার সোনাঝড়া কণ্ঠস্বর আমাকে আবেগে আপ্লুত করে।
তিনি কথা বলেন বলতে বলতে কোথায় যেনো হারিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আশাবাদ। ভবিষ্যত বাংলাদেশ নিয়ে দেখা স্বপ্ন এসব নিয়ে কথা হচ্ছিলো তিনি বললেন আমাদের অবশ্যই স্বপ্ন দেখতে হবে। আমার বিয়ে হয়েছিলো 18 বছর আগে। আপনাদের ইমপ্রেস টেলিভিশনের এক অনুষ্ঠানে প্রচারিত হয়েছে সেখানে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ছিলো স্বপ্নে দেখি একটি একটি নতুন ঘর। আমার নতুন জীবনের সূচনায় এই গানটা খুব ব্লা ব্লা ব্লা- আমি মুগ্ধ- কাহা বলে কি?

আমাদের অবশ্যই স্বপ্ন দেখতে হবে= মামুন সাহেব বলেছেন স্বপ্ন দেখতে তাই দেখতেই হবে স্বপ্ন- 18 বছর আগে তার বিয়ের অনুষ্ঠানের থিম সং ছিলো স্বপ্নে দেখি একটি নতুন ঘর তুমি আমি দুজন সখী তুমি আমি দুজন- এটা ইমপ্রেস টেলিভিশনে প্রচারিতও হয়েছে- যদিও বুঝলাম না 18 বছর আগে আদৌ এই প্রতিষ্ঠান ছিলো কি না।

তিনি চমৎকার মানুষ, চীন রাশিয়া এখন মুক্ত বাজারের দিকে ঝুঁকছে এখনও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা পূর্ব ইউরোপিয় দেশগুলোর মতো। এটা বদলাতে হবে এখন মুক্ত বাজার অর্থনীতির যুগ। এখন " আমার আন্ডার গার্মেন্টস বিক্রি হচ্ছে ওয়ালমার্ট আর জেসি পেনিতে।" আমি তবধা খায়া গেলাম। বলে কি এই লোক। এই লোকে ব্যবহৃত আন্ডি আর স্যান্ডো গেঞ্জি কেনো নিলামে উঠলো ওয়ালমার্টে? কেনো জেসি পেনিতে এই লোকের জাঙ্গিয়া বিক্রি হচ্ছে। তার মহামুল্যবান আন্ডার গার্মেন্টের শক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আসলো প্রধান চমক।
তিনি শ্রীলংকায় গিয়ে বুদ্ধদেবের মুর্তি দেখিয়ে তার শিশু সন্তানকে ভয় দেখিয়েছেন। কি আশ্চর্য মানুষ। অহিংসার বানী প্রচার কারী বুদ্ধদেবকে এমন ভীতিপ্রদ হিসাবে তুলে ধরেছেন তার শিশুর কাছে যে সেই শিশু ভয়ে কয়েকদিন ঘুমাতে পারে নি তার আশ্বাস স্বত্তেও। তিনি কেনো এ কথা বললেন- বললেন কারণ বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবসায়ীদের ভীত করে ফেলেছে। এখন তাদের আশ্বাসের পরও ব্যবসায়ীদের ভীতে কাটে নি। এভাবে ভয় দেখিয়ে কিছু করা যায় না। তিনি আসলে চমৎকার মানুষ। আমাকে মুগ্ধ করে বিবশ করে ফেলেছেন। আমি আরও ঘন ঘন তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হোক ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এমন অনুরোধ রাখছি।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মার্চ, ২০০৭ ভোর ৬:৩৭
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোর্টাল – ২ গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৭


তখন বেশ ঠান্ডা পড়ে গেছে। সেপ্টেম্বরের রাত।
বরফ পড়া শুরু হয়নি। মন্ট্রিয়লের রাস্তা জনাকীর্ণ। বাড়ি থেকে বের হলে কো-দ্যেনিশ রাস্তার শেষ প্রান্তে একটা লাইব্রেরি আছে। তার পরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×