somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আবারও আন্দালিফের গল্প -1

২৩ শে এপ্রিল, ২০০৬ রাত ৩:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বুঝলে শরাফত মিঞা নবীরা এই যুগে জন্মালে তোমার মতোই লাইফ ইন্সুরেন্সের দালাল হইতো, অনেক রকম মৃতু্যপরবর্তি লোভ দেখিয়ে ধর্মবেচতো। তুমিও তাই করতাছো, মৃতু্যভয় এবং মৃতু্যর পরবর্তি নিশ্চয়তা বেচতাছো। তোমাদের অনেক সমস্যা এইটা আমি বুঝি, তোমাদের ইশ্বর সেইসব লাইফইন্সুরেন্স কোম্পানির মালিকেরা তোমাদের সামনে মূলা ঝুলায়ে রাখছে, বলতেছে আমারে অনুসারি আইন্যা দাও, তুমি 5% কমিশন পাইবা, যত বেশী ক্লায়েন্ট আনবা ততবেশী কমিশন, একটা সময় ঘরে বসে খাইতে পারবা, কিন্তু মানুষ বাস করে বর্তমানে , মানুষের ইনভেস্টমেন্টে লোভ থাকে, লাভের লোভ, সবাই এইটা বুঝে মারা যাবে একদিন, কিন্তু ঐ দিনটা না আসা পর্যন্ত কেউ বিশ্বাস করে না সে মারা যাবে, এই জন্যই তোমাদের পলিসি বেচতে এত কষ্ট।
আইচ্ছা আমারে একটা কথা বলো তোমাদের এজেন্টদের মধ্যে মেয়ের সংখ্যা বেশী না ছেলের সংখ্যা বেশী?
যদি তেমন কোনো মেয়ে থাকে সুন্দরি আর উদার তাইলে ওরে আসতে বইলো, জীবনের উৎসব না কইরা মৃতু্যতে ইনভেস্ট করি কিভাবে?

শরাফত আলীর চেহারা দেখে জয়নাল হেসে বলে না থাক লাগবো না তুমি যাও, তোমারে কোনো কথা খইতে হইবো না, চা খাইবা? চা দিতে বলি? আমার ঠাটবাঁট দেইখ্যা ভাবতাছো আমার অনেক পয়সা, না মিঞা আমিও তোমার মতোই ফকিন্যির পোলা, উপরে ফিটফাট ভিতরে সদরঘাট, আমিও মৃতু্য বেচি, তয় কোনো লোভ দেখাই না, তোমার যদি কারো উপর ক্ষোভ থাকে আমারে খবর দিও সোজা ঐপার পাঠায়া দিমু নে, তোমার কিছু দিতে হইবো না, একটা পলিসি খুইল্যা দিয়ো আমার নামে,

আন্দালিফ হাসনাইন জয়নালের সাথে কথা বলছেন গত কয়েকদিন ধরে, বি এন পি র ক্যাডার, এক কালে ছাত্র ইউনিয়নের কর্মি ছিলো, কিন্তু কোন এক কারনে ছাত্র ইউনিয়ন ছেড়ে একেবারে সরকারিদলের ক্যাডার হয়ে যাওয়ার মতো বিবর্তন বুঝতে পারছেন না, এই ঘটনাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন একটা তথ্য হতে পারে, কিভাবে কোন পরিবেশে একজন সাম্যবাদি রাজনীতির কর্মি পুঁজিবাদী রাজনীতির আবর্জনার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে? তার কল্পনা বলছে, মাঝে কোনো এক পর্যায়ে সে সহিংস সমাজবদলের কল্পনা নিয়ে সমাজবিরোধি হয়ে গিয়েছিলো, এবং সেখান থেকে খোলস বদলে বদলে নিরাপত্তার জন্যই সরকারী দলের ক্যাডার হয়ে যাওয়া। এটাই সবচেয়ে সহজ পন্থা, সন্ত্রাসি হয়ে জীবন বাঁচাতে হলে সরকারের গুরুত্বপূর্ন মন্ত্রির ছত্রছায়া উপরে থাকলে ভালো। জয়নালের উপার্জন কতো এই সম্পর্কে আন্দালিফের ধারনা নেই, তবে তার খরচের বহর দেখে মনে হয় এই উপার্জনের পরিমান 50 000 এর উপরে, অনেকটা আধুনিক রবিনহূডের মতোই জীবন যাপন করে জয়নাল, থাকে বিএনপি বস্তিতে, ঐটাই ওর ঠেক, এমনিতে উত্তরায় একটা এপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়েছে, তবে সেখানে খুব কম সময়ই যায় ও। বেশীর ভাগ সময়ই থাকে বি এন পি বস্তিতে, ওখানের মাদকব্যাবসার অনেকটাই ওর নিয়ন্ত্রনে, যদিও বিরোধি গ্রুপ আছে কিছু, নিয়মিত সংঘাত হয় তবে সরকারী মন্ত্রির আশীর্বাদ একটা প্লাস পয়েন্ট, তিনি মানিকের সাথে কথা বলেছেন জয়নালকে বিষয়ে, মানিক বিএনপি বস্তির মাঝারি মাদকব্যাবসায়ী, মূলত ফেন্সিডিল বেঁচে, ঘরে গাঁজা রাখে, সারাক্ষন গাঁজা খায়, গায়ে গাঁজার কটু গন্ধই তার সাইনবোর্ড। লোক ভালো। বেশ আলাপি এবং উদার, এই একটা বিষয় বুঝতে পারছেন না তিনি সকল অপরাধী এবং মাদকব্যাবসায়ী কি উদার ধরনের?
শরাফত এসেছিলো জয়নালের কাছে, জয়নালকে বলতেই ও গল্পটা বললো জয়নালের সাথে ওর পরিচয়ের রহস্যটা।
নিজের জবানিতে সাজানোর পর কেমন জানি ম্যাড়ম্যাড়ে লাগছে কথাগুলো, জয়নালের ভ্রুকুটি আর হাসিটা ফুটে উঠে নাই লেখাটাতে, জয়নালের বলা কথাগুলো তিনি আবার শুনেন টেপ বাজিয়ে.।
ঐটা হইলো শরাফত, ইন্সুরেন্সের দালাল, আমার কাছে একবার আইছিলো পলিসি বেচতে, আমার কথা শুইন্যা চোখ গোলগোল কইরা ফেলছে,
আমারে কইলো জয়নাল সাহেব আপনি একটু পড়ে দেখেন, বিভিন্ন মেয়াদের পলিসি আছে, আপনি ব্রোশুর টা পড়েন ঐখানে সব ডিটেল লেখা আছে, আমি কই ধুর মিয়া আমার ইন্সুরেন্সের দরকার কি? মারা যামু এইটাতো জানিই,কবে কে গাইড়্যা দেয় আমারে তার ঠিক নাই, বাসার লোকজন আমারে চিনে না, কে খাইবো নমিনির পয়সা।
শালার আমার শত্রুর সংখ্যা বাড়তেছে, কতজনরে মারতেছি, ঐদিন মন্ত্রির কথায় গেছিলাম কুমিল্লা, এক বেটা নাকি টেন্ডার নিয়া গেঞ্জাম করতাছে, দিলাম ফেলায়া, এই বেটা আমারে কয় লাইফ ইন্সুরেন্সের কথা, আমিতো শালার আজরাইলের টেন্ডার নিয়া ঘুরি। মন্ত্রি কইলেই আজরাইল হইয়া যাই। আর এইখানের ব্যাবসার কাইজ্যায় কতজনরে পিটাইলাম, আমার মইরা যাওনের কোনো টাইম নাই, যেকোনো দিন মইরা যাইতে পারি, এখন আমার এসব লোভের ফাঁদে পড়লে চলে। ওরে কইলাম মিয়া আমাগো নবি এই টাইমে জন্মাইলে তোমার মতোই লাইফ ইন্সুরেন্স বেচতো। সবাইরে কইতো মরনের পর তোমাগো একাউন্টে এই হইবো সেই হইবো, প্রিয়জনের কথা স্মরণ কইরা একটা পলিসি কিনো।
হা হা হা হা হা হা জয়নালের হাসি শুনে এই রাতেও টার মুখটা হাসি হাসি হয়ে যায়।
তিনিও চিন্তা করতে থাকেন, মুহাম্মদ ইশার একাউন্টে কত পূন্য জমা হচ্ছে এখন। প্রতিদিনই তো এদের ধর্মানুসারী বাড়ছে, বাড়ছে এই সব ফ্যানাটিকদের উন্মাদনা, হয়তো শুধু ডেবিটে না কিছু কিছউ পুন্য ক্রেডিট একাউন্টেও যাচ্ছে, কিছু পুণ্য খরচ হয়ে যায় যখন ধর্মের নামে মানবতার হত্য হয়, তিনি অন্ধকারে বসে ভাবার চেষ্টা করেন আল্লা মিয়ার ব্যাংকিংএর হিসাবটা কেমন?

( জানি না কোনো দিনই কোনো উপন্যাস শুরু করে শেষ করতে পারি নি, এই আন্দালিফ এবং জয়নালকে নিয়ে একটা উপন্যাস লেখার চেষ্টা করছি, হলে হবে না হলেও ক্ষতি নেই কোনো, আমার জীবন আমার মতোই যাবে সব সমাপ্ত করতে হবে এমন কোনো দায় বা দিব্যি কেউ আমাকে দেয় নি। )
এবং এটা উপলব্ধি করলাম মানুষ মন্তব্যকুণ্ঠিত হয়ে গেছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন ভালো না

লিখেছেন সামিয়া, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৭



চোরাবালির মতো টেনে ধরা নিঃশব্দ বিকেলে,
অদৃশ্য কিছু হাত ছুঁয়ে যায় ভাঙা স্মৃতির ধূলি,
বেঁচে আছি এইটুক স্বীকারোক্তি,
তোমারে দেখিনা বহুদিন, তবু রয়ে যাও ভীষণ ভুলই।

সমুদ্র ডাকে দূর থেকে নোনা হাওয়ার ভাষায়,
অপেক্ষারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৩৩


নট আউট নোমান ইউটিউব চ্যানেলের ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান ভাই একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশে এখন আমরা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছি যেখানে প্রকৃত দেশপ্রেমিক আর ভুয়া দেশপ্রেমিকের পার্থক্য করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×