somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সিঙ্গাপুরে কেনাকাটা এবং জৌলুসের ফাঁদ!

০৩ রা নভেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সিঙ্গাপুরের মেরিনা বে স্যান্ডস-এর নীচে সারি সারি অনেকগুলো দোকান আছে - এক্সক্লুসিভ ডিজাইনের গহনা, ঘড়ি থেকে শুরু করে এনটিক শোপিস পর্যন্ত হাজারো রকম সৌখিন জিনিস সাজিয়ে রাখা থাকে কাঁচের বাক্সে। দোকানের পাশ দিয়ে যেতে যেতেই চোখে পড়ে। কিছু কিছু গহনা এতো সুন্দর যে এটার কাছাকাছি গেলে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। কিনতে পারি বা না পারি দাম জিজ্ঞেস করা আমার পুরনো স্বভাব। এক দোকানে বড়-সড় হীরের গহনা দেখে গম্ভীর মুখে দাম জিজ্ঞেস করে পুরোপুরি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। দামটা ডলার থেকে টাকায় হিসেব করে আমার দম বন্ধ হবার জোগাড়। বাংলাদেশী টাকায় প্রায় দু'শ কোটি টাকার কাছাকাছি! আমি মুগ্ধ হয়ে হীরের নেকলেসের দিকে তাকিয়ে আছি। এইরকম ভয়াবহ দামী একটা জিনিসের দিকে বেশীক্ষণ তাকিয়ে থাকলে আলাদা কোন সারচার্জ দেয়া লাগবে কিনা ভেবে কিঞ্চিৎ আতংক বোধ করছি। সেলসম্যান আমার দিকে হাসি হাসি মুখে তাকিয়ে আছে। আশার কথা এই বস্তু কেনার কোন প্রকার ইহলৌকিক বা পরলৌকিক সম্ভাবনা যে আমার নেই, দোকানী সাহেব সেটা বুঝতে পারছেন না। তবে আমার পরবর্তী প্রশ্নে সেটা ধরা পড়ে গেল - আমি জিজ্ঞেস করলাম - "এই জিনিস কেউ কেনে?" প্রশ্ন শুনে দোকানী উদাস মুখে বললেন - "কেউ না কিনলে তো এখানে রাখা হতো না।" আমি কথা না বাড়িয়ে বাইরের পথ ধরি।

এশিয়ায় শপিং-এর স্বর্গরাজ্য বলা যায় সিঙ্গাপুরকে। চোখ ধাঁধানো সব শপিং-মলে বিলাসবহুল কারুকাজের দোকানগুলোতে সাজানো থাকে মানুষের সাধ-স্বপ্নের নানান পসার। কি হীরের গহনা, কি এক্সক্লুসিভ ডিজাইনার জামা, দামী ব্রান্ডের কসমেটিক্স, এনটিক শোপিস, লেটেস্ট আইফোন - সবই হাতের নাগালে।

এখানে যারা বেড়াতে আসেন তারা প্রায় সবাই সিঙ্গাপুরের কয়েক শত বিলাসবহুল দোকানগুলোর কোন না কোনটি ঢুঁ মেরে যাবেনই। তবে নতুন যারা আসছেন তাদের একটা জিনিস জেনে রাখা ভালো - সিঙ্গাপুরে একই জিনিসের দাম একেক জায়গায় একেক রকম। এবং প্রায় কোনখানেই দর-কষাকষির সুযোগ নেই বললেই চলে। কিনলে কেনো, নাইলে ভাগো টাইপ ব্যপার।

সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় শপিং মলের নাম ভিভোসিটি - এক্সক্লুসিভ সব আইটেমই পাওয়া যায় এখানে, তবে সবকিছুর দাম তুলনামূলক কিছুটা বেশি এখানে, আর বেশির ভাগই জিনিসই পাশ্চাত্য স্টাইলের। তবে শপিং এর পাশাপাশি বাচ্চাদের খেলার, পানিতে ভেজার দারুণ জায়গা আছে এখানে, আরও আছে হরেক রকম সুস্বাদু খাবারের রেস্টুরেন্ট।

আমাদের বাঙ্গালী/উপমহাদেশীয় ঘরানার জিনিস-পত্র কিনতে হলে যেতে হবে মুস্তাফা সেন্টার। সিঙ্গাপুরের প্রায় সব মার্কেট খুব গুছানো - পার্কিং লট, ট্যাক্সি স্ট্যান্ড, খাবারের দোকান, বাচ্চাদের খেলার জায়গা সবকিছু সুশৃংখলভাবে থাকে, কেবল মুস্তাফা সেন্টারেই সব কিছু কেমন আউলা ভাবে ছড়ানো-ছিটানো। তবে এই আউলা-অংশটুকু বাদ দিলে সুঁই থেকে রেফ্রিজারেটর, গহনা থেকে কাঁচাবাজার সবই মিলবে এখানে। মুস্তাফা সেন্টারের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ, বিশাল এই শপিং সেন্টারটি দিন-রাত ২৪ ঘন্টাই খোলা থাকে, সরগরম থাকে হাজার হাজার মানুষে।

চোখ ধাঁধানো এই শপিং রাজ্যে ঘুরে বেড়ানোটা বেশ মজার, অবশ্য যদি পকেট ভরা থাকে। পকেট না ভরা থাকলেও সমস্যা নেই, যদি নিজের লোভকে দমিয়ে রাখা যায়, সেটা অনেকের জন্যেই কষ্টকর হয়ে যায়। আর তখনই অনেকে পা দেয় চুরির পথে। সিঙ্গাপুরে মার্কেটে চুরির বিষয়টা খুবই সিরিয়াস হিসেবে দেখা হয়। যতো বড় মার্কেট বা দোকান হোক না কেন, এধরণের চেষ্টা করলে চোখের পলকেই ধরা পড়ে যেতে হবে। তারপর সোজা কয়েক মাস জেল।

কিছুদিন আগে মুস্তাফা সেন্টারে কসমেটিক্স চুরি করতে গিয়ে হাতে-নাতে ধরা পড়লেন বাংলাদেশ থেকে আসা একজন। পরে জানা গেল, ইনি বাংলাদেশের একজন ধনাঢ্য ব্যক্তির কন্যা। পরে তার মানসিক অসুস্থতার নানা প্রমাণ দেখিয়ে কয়েক সপ্তাহ পরে তাকে ছাড়ানো হয়।

আজ পত্রিকায় দেখলাম ভারতের এক নামকরা অভিনেত্রী সিঙ্গাপুরে এসে গহনা চুরির জন্যে অভিযুক্ত হয়েছেন। ইনিও মানসিক সমস্যার কথা বলে পার পাবার চেষ্টা করবেন কিনা জানি না, তবে বাহ্যিক জৌলুসে নিজেকে সংযত করতে না পারাটা যদি হয় মানসিক রোগ, তবে সেই রোগীদের এই দিকে পা না বাড়ানোই ভালো।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ৯:৩৮
৭টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন কাওসার চৌধুরী ও তার গল্পগুচ্ছ 'পুতুলনাচ' (বই রিভিউ)

লিখেছেন আকতার আর হোসাইন, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ২:১৫



লেখকের প্রথম বই--- বায়স্কোপ: যে বইয়ে কাওসার চৌধুরী এঁকেছেন জীবনের বায়স্কোপ

আর সবার মতন একজন লেখকেরও রয়েছে স্বাধীনতা। যার যে বিষয়ে ইচ্ছে সে সেই বিষয়েই লিখবে। জোড় করে কোন লেখকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

যীশুর রহস্যময় বাল্যকালঃ মিশর অবস্থান কাল বার বছর পর্যন্ত

লিখেছেন শের শায়রী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৩:৩০



যীশুর জীবনের অন্যতম রহস্যময় ঘটনা হিসাবে যা আমার কাছে মনে হয় তা হল যীশুর বাল্যকাল। ইতিহাস প্রসিদ্ধ ধর্মপ্রচারকদের মাঝে যীশুর জীবনির একটা অংশ নিয়ে আজো কোন কুল কিনারা পাওয়া যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাড়ী ভাড়া বিষয়ক সাহায্য পোস্ট - সাময়িক, হেল্প/অ্যাডভাইজ নিয়েই ফুটে যাবো মতান্তরে ডিলিটাবো

লিখেছেন বিষন্ন পথিক, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ৯:১৭

ফেসবুক নাই, তাই এখানে পোস্টাইতে হৈল, দয়া করে দাত শক্ত করে 'এটা ফেসবুক না' বৈলেন্না, খুব জরুরী সহায়তা প্রয়োজন।

মোদ্দা কথা...
আমার মায়ের নামে ঢাকায় একটা ফ্লাট আছে (রিং রোডের দিকে), ১৬০০... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে...

লিখেছেন পদ্ম পুকুর, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:৪৫


জীবনানন্দ দাস লিখেছেন- সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে...। বনলতা সেন কবিতার অসাধারণ এই লাইনসহ শেষ প্যারাটা খুবই রোমান্টিক। বাংলা শিল্প-সাহিত্যের রোমান্টিসিজমে সন্ধ্যার আলাদা একটা যায়গাই রয়ে গেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাবার ঘরেও খেতে পাইনি, স্বামীর ঘরেও কিছু নেই!

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৪৪



"বাবার ঘরেও খেতে পাইনি, স্বামীর ঘরেও কিছু নেই!", এই কথাটি আমাকে বলেছিলেন আমাদের গ্রামের একজন নতুন বধু; ইহা আমার মনে অনেক কষ্ট দিয়েছিলো।

আমি তখন অষ্টম শ্রেণীত, গ্রাম্য এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×