কাফকা এবং হারিয়ে যাওয়া একটি পুতুলের গল্পঃ
--------------------------------------------------------------------
মৃত্যুর বছরখানেক আগে, ফ্রানৎস্ কাফকার অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতা হয়েছিল। এক পড়ন্ত বিকেলে বার্লিন শহরের স্টেগলিৎজ পার্কে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। এমন সময় তাঁর দেখা হয় একটি ছোট্ট মেয়ের সঙ্গে। মেয়েটি নিজের প্রিয় পুতুল হারিয়ে কাঁদছিল।
কাফকা মেয়েটিকে বলেন, তিনি পুতুলটাকে যেভাবে হোক খুঁজে বার করবেন, সে যেন কাল আবার এখানেই তাঁর সঙ্গে এসে দেখা করে।
অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও কাফকা পুতুলটা পেলেন না। তখন তিনি সেই হারিয়ে যাওয়া পুতুলের বয়ানে একটা চিঠি লেখেন এবং পরের দিন মেয়েটিকে সেই চিঠিটা পড়ে শোনান -
"সুইট বেবী, তুমি আর কান্নাকাটি করো না। আমি গোটা পৃথিবীটাকে ঘুরে দেখবো বলে ঘর ছেড়ে বেরিয়েছি। কোন কোন দেশে গিয়ে কী কী দেখলাম, সমস্ত কথাই লিখে জানাবো তোমাকে...
সেই ছিল শুরু। এরপর যতবারই তাঁদের দেখা হত, মেয়েটিকে একটা করে চিঠি পড়ে শোনাতেন কাফকা। চিঠিগুলো জুড়ে থাকত মেয়েটির হারিয়ে যাওয়া পুতুলের অলীক ভ্রমণের আশ্চর্য সব বিবরণ। এভাবেই প্রতিটি চিঠির শেষে, মেয়েটির দুঃখ কমে আসছিল একটু একটু করে।
যেদিন শেষবার মেয়েটির সঙ্গে কাফকার দেখা হয়, তিনি মেয়েটিকে একটা পুতুল উপহার দেন। যদিও সেই নতুন পুতুলটা ছিল আগের পুতুলের চেয়ে অনেকটাই আলাদা। শেষ চিঠিতে তিনি জানিয়েছিলেন,
"যে যে পথ ধরে এতদিন আমি এত জায়গায় ঘুরেছি... সেই পথই বদলে দিয়েছে আমাকে।"
অনেকগুলো বছর বাদে, ছোট্ট সেই মেয়েটি বড় হয়ে, হঠাৎই একদিন সে খুঁজে পায় আরও একটা চিঠি। কাফকার দেওয়া পুতুলটার কব্জির নীচের দিকে একটা সূক্ষ্ম ফাটলের মধ্যে লুকোনো সেই চিঠিতে লেখা ছিল -
"এই জীবনে তুমি যা যা ভালোবাসবে, হয়ত সেই সবকিছুই একদিন হারিয়ে যেতে পারে। শুধু এইটুকু জেনো, শেষ অবধি তারা সবাই ফিরে আসে। হয়ত অন্য কোনও নামে, হয়ত অন্য কোনও রূপ নিয়ে...ভালোবাসা হয়ে, ভালোবাসা ফিরে আসে বারবার।
ভালো থেকো।"
(এই গল্পটা ফেসবুকের একাধিক পেজ ইংরেজি ভাষায়
শেয়ার করে। যতবারই পড়ি, খুব ভালো লাগে। শেষ অবধি, নিজের মতো করে মাতৃভাষায় লিখলাম)
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৪ দুপুর ১:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



