সামাজিক অনুষ্ঠান তথা বিয়ে বাড়ির খাওয়ার অভিজ্ঞতা....
যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানের মধ্যে আমাকে যেটা সবথেকে টানে সেটা হল খাওয়াদাওয়ার অনুষ্ঠান, তা যতটা না খাবার জন্য তার থেকে অনেক বেশী খাদকদের আচরণ দেখতে। আমার দৃষ্টিতে কমন কিছু দৃশ্যমান বিষয় তুলে ধরছিঃ-
** অসুস্থ খাদক:- এনারা চরম রোগগ্রস্থ। বিয়েবাড়ি/ কমিউনিটি সেন্টারে ঢুকে থেকে জনে জনে নিজের রোগের ফিরিস্তি দেন। প্রেসক্রিপশন পকেটে নিয়ে খেতে বসেন। ডাক্তার কি কি খেতে ওনাকে বারন করেছেন সেটা টেবিলের বাকি লোকেদের শোনান। তারপরও এনারা খেতে আসেন উনি "না এলে সবাই দুঃখ পাবেন!"
** স্বল্পাহারী:- এনারা শুরু থেকেই তোতাপাখির মত আওড়াতে থাকেন... "অল্প"- নুন লেবু থেকেই ডায়লগ চালু। ভেজিটেবল দিতে এলেও বলবেন "অল্প"( অর্ধেকটা দিতে বলবেনা)। "অল্প", "অল্প" করলেও একবারও "না" বলবেন না। চারবার মাংস নেবেন, তিনবার পোলাও। তবু শেষে হাত ধোয়াতে এলেও বলবে "অল্প"!
** বুভুক্ষু:- জগতে সবক্ষেত্রেই চেক এন্ড ব্যালেন্স লাগে। বিয়েবাড়িতেও লাগে। তাই স্বল্পাহারীর পাশের সিটেই এমন দুএকজন পাবেন যাদের খাওয়া দেখলে আপনি নিজেই দুপিস মাংস কম নেবেন আয়োজকের খাবারে টান পরতে পারে ভেবে। এনারা কোনো রাখঢাক করেন না। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধুমায়ে খান!
** অপব্যয়ী:- এনারা গিফ্টের পয়সার পাঁচগুন উসুল করার উদ্দেশ্যেই খাবারের মাঠে নামেন। যে পরিমাণ খাওয়া অপচয় করে আসন ছাড়েন, তা দিয়ে আরামসে চারটে কুকুরের চারদিন পেট ভরে।
** শীঘ্রপতন:- উল্টোপাল্টা ভাববেন না। এনারা বিয়েবাড়িতে ঢুকেই কফি, সালাদ, কোল্ড ড্রিংকস, বোরহানি ইত্যাদি খেয়ে পেট ডাঁই করে ফেলে। আসল খাবার জায়গায় বসে আর কিছুই খেতে পারেন না!
** বিদঘুটে:- এনাদের খাওয়া দেখলে আপনার নিজের খাওয়া থেকে ভক্তি উঠে যাবে। এনারা সোজাসাপ্টা কিছু খেতেই পারেননা। মাংসের ঝোলে ফিরনী, দৈ মিশিয়ে হাতের কবজি ডুবিয়ে খাবে। লেবু গ্লাসে কচলে নুন মিশিয়ে খাবেন।
** মাংসাশী:- এনারা টার্গেট সেট করে খেতে বসেন যে মুরগি বা ছাগলের বংশলোপ করিয়েই ছাড়বেন! শুরু থেকে টুক টুক করে বাচ্চা মুরগীর মত খাবে; কিন্তু মাংস খাওয়ার সময় দেখে মনে হবে দু সপ্তাহের অভুক্ত হায়নায় হাড় চিবোচ্ছে!
** মিষ্টিলাভার:- এনারা বাকি সব নর্মালি খান। কিন্তু মিষ্টির ক্ষেত্রে আলাদাই আত্মা ভর করে। অনায়াসে দশটা রসগোল্লা, ফিরনী, দই মেখে হাভাতেদের মতো খাবে।
** খুঁতখুঁতে:- এটা সবচেয়ে ইমপর্টেন্ট এবং বিয়েবাড়ির বেশিরভাগ পাব্লিক এই শ্রেণীর। এনারা শুরু করবেন স্যালাদের 'শসা হাইব্রিড' বলে। তারপর একের পর এক অভিযোগ- পোলাওয়ে ঘি কম, মাংসটা বেশী সিদ্ধ কিম্বা পুরাই কাচা মাংস বলে! এমনকি আইসক্রিমে গরম কম ইত্যাদি ইত্যাদি। এবং শেষে বলতে বলতে উঠবেন- "এটা মিনারেল ওয়াটার না, ডাঁহা ওয়াসার পানি!"
** আর এক শ্রেণীর লোক থাকে যারা ওয়েটার গুলোকে বিরক্ত করতে ভালোবাসে। একটা খাবার দিয়ে যেই না অন্য দিকে ঘুরেছে অমনি ওটার চাহিদা। লেবু দিয়ে গেল তখনই দুটো নিতে পারে কিন্তু তা নেবে না।একটু পরে লেবু লেবু করবে। তখন স্বাভাবিক ভাবে দেরি তো হবেই। কিন্তু থামতেই চায না....
** আর একশ্রেণীর অতিথি আছেন, যারা অনুষ্ঠানে এসেই একটা টেবিলে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বসবেন। পরিমিত খাবার খেয়ে চুপচাপ চলে যান। এই শ্রেণীর অতিথিগণই সত্যিকারের অভিজাত।
আপাতত এগুলো মনে পড়ল।
এবার আপনি ভাবছেন আমি কোন দলে?
আমি হলাম 'পর্যবেক্ষক' শ্রেণীর।
এনারা নিজের খাওয়া ছেড়ে আশেপাশে চোখ চালাতে বেশি পছন্দ করেন এবং বেরিয়ে পরিচিতদের সাথে আলোচনা করবেন ..... "দেখেছো, ওই হলুদ জামা আর ওর ভুটকি বৌটা পুরা দুই বাটি মাংস গপাগপ গিলেছে! আর পাঁচ নম্বর টেবিলের শুটকা মেয়েটা রাক্ষসের মতো গিলেছে!"
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৪ সকাল ৭:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




