ক্যাচাল পোস্ট......
শুভ জন্মবার্ষিকী হে জাতির বংগ শার্দূল, আপনার সেই হুশিয়ারি আজো ইয়াদ রেখেছি। আপনি বলেছিলেন, "নব্য রাজাকারদের সাথে মেলামেশা করো না"।
কথা রেখেছি মহান মুক্তিযুদ্ধের ভাষ্যকার।
আমি তাদের কথা শুনি নাই।
আমি আপনার কথা, আগাচৌর কথা, পিয়ালের কথায় ঈমান রেখেছি।
আমি পেশোয়ারের খাবার মুখে তুলি নাই। ইসলামাবাদের তরুণীর দিকে নজর দিই নাই।
আমি আর কত ত্যাগ স্বীকার করব!
আজ ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের জন্মদিন। তিনি ১৯৫২ সালের এই দিনে সিলেটে জন্মগ্রহন করেন। তিনি একাধারে শিক্ষক, পদার্থবিদ, গর্তেন্টাইনযোদ্ধা, টেঞ্চযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা গবেষক, লেখক, কলামিষ্ট ও একজন বিজ্ঞানী। স্যার ব্যক্তিজীবনে ১ স্ত্রী ও ২ সন্তানের জনক। তার স্ত্রীর নাম ড. ইয়াসমীন হক, ছেলে নাবিল ইকবাল ও মেয়ে ইয়াশিম ইকবাল।
স্যার যৌবনে মুক্তিযুদ্ধে যোগ না দিয়ে প্রথমে শর্ষীনার পীরের মুরিদ হতে গিয়ে সেখানে কয়েকদিন অবস্থান করে ঢাকায় ফিরে আসেন। 'মুক্তি যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি যাত্রাবাড়ি এলাকার একটা ভাড়া বাসার নিচ তলায় ফ্লোরে ট্রেঞ্চ খুড়ে গর্তের মধ্যেই থাকতেন। নভেম্ভর-ডিসেম্বর মাসে যখন ভারতীয় বাহিনীর বিমান সেনারা ঢাকার আকাশে কানফাটানো আওয়াজ করে যুদ্ধ বিমান নিয়ে উড়ে যেতো তখন তিনি গর্ত থেকে বেরিয়ে যুদ্ধ বিমান দেখতেন'-এটা তারই নিজ ভাষ্য! তিনি ড্রোন নিয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহীনির উপর ঝাপিয়ে পড়বেন এমন চিন্তা করেছিলেন, কিন্তু ড্রোন নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ার আগেই দেশ স্বাধীন হয়ে যায়।
স্যারের সব চেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন সফল সাহিত্যক। বাংলা সাহিত্য তার কাছে অনেক ঋণী। স্যারের লেখা বিশেষ করে সাইন্স ফিকশান গুলো সারা বিশ্বে এত জন প্রিয়তা পেয়েছে যে বিভিন্ন দেশের নামি দামী লেখকগন স্যারের লেখা চুরি করে। নিচে কিছু তার উদাহরন-
স্যার "অবনীল" নামক একটি বই প্রকাশ করেন ২০০৪ সালে। আর বইটি হুবহু নকল করে ২০০০ সালে জিম হুইট আর কেন হুইট নামে দুই ভাই মিলে "পিচ ব্লাক" নামে একটি হলিউডের সিনেমা বানিয়ে ফেলেন।
স্যার ১৯৯৯ সালে "নিতু তার বন্ধুরা" নামক আরেকটি বই লেখেন। স্যারের এই বইটা নকল করে দানি দেভিতো নামে এক ভদ্র লোক "ম্যাটিল্ডা" নামে এক হলিউডের সিনেমা বানিয়ে ফেলেন ১৯৯৪ সালে। ছবিটি বাজেটের চেয়ে ৬৫ কোটি ডলার বেশি নিজের পকেটে ঢুকিয়েছেন অথচ স্যারকে একটি টাকাও দিলেন না।
স্যারের ২০০৫ সালে বের হওয়া "আমি তপু" ১০ বছর আগে ১৯৯৫ সালে ডেবিড পেলজার নামে আমিরিকান এক সাহিত্যক নকল করেন। আর বইটির নাম দেন "আ চাইল্ড কল্ড ইট"।
স্যারের ২০০০ সালে বের হওয়া "মেকু কাহিনী" বইটি নকল করে ১৯৯৪ সালে প্যাট্রিক রিড জনসন নামে এক হলিউডের পরিচালক বানিয়ে ফেললেন বিশ্ব বিখ্যাত শিশুতোষ ছবি "বেবিজ ডে আউট"।
একই ভাবে স্যারের ১৯৮৮ সালে ট্রাইটন একটি গ্রহের নাম বইটি নকল করে ১৯৭৯ সালে বের করা হয় "এলিয়ন"।
২০১৪ সাল একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বাংলাদেশের জন্য। এই বছরই স্যার বাংলাদেশে প্রথম আবিষ্কার করেন দ্রুত গতি সম্পন্ন ড্রোন। পেন্সিল ব্যাটারী চালিত এই ড্রোন ভুমি থেকে ১ হাজার মিলি মিটার উপরে উড়তেই ল্যাবের ভিতরেই গোত্থা খাইয়া পরে। আমেরিকার পেন্টাগন স্যারের এই ড্রোন কিনতে চাইলে স্যার দেশের স্বার্থে তা বিক্রি করতে চাননি। তবে ২০১৬ সালের শেষের দিকে কোন এক জঙ্গী সংগঠন স্যারের ড্রোন চুরি করার গুজব উঠেছিল।
স্যার সব সময় প্রতিবাদমুখী। যেকোন ইস্যুতে স্যার বৃষ্টিতে ভিজে খুব ইউনিক ভাবে প্রতিবাদ করেন। অনিয়ম দেখলে স্যার হড়হড় করে বমি করে তার প্রতিবাদ করেন।
স্যার অনেক সামাজিক, মানবাধিকার ও কল্যানমূলক সংগঠনের সাথে জড়িত। স্যার বিশেষ করে নারী অধিকার সংগঠনের হয়ে কাজ বেশি করেন। তিনি নারীদের অনেক সম্মান দেন ভালবাসেন। এ জন্য তিনি কোন ছাত্রের সাথে সেলফি ও ফটো সেশনে অংশগ্রহন করেন না, নারীদের ভালোবাসেন বলে শুধু ছাত্রীদের জড়িয়ে ধরে ফটো সেশন করেন। তিনি ছেলেদের নাচেও যুক্ত হন না কিন্তু মেয়েদের সাথে নাচতে অতিশয় পারংগম।
(সংগৃহিত)
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ৯:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



