মৈত্রেয়ী দেবী' মানে শুধু 'ন'হন্যতে' নয়, তাঁর জীবনের সর্ব শ্রেষ্ট অবদান 'খেলাঘর'৷
১ সেপ্টেম্বর ১৯১৪ সনে জন্ম৷
বাবা ডঃ সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত।
বাপ-দাদার শিকড় বরিশাল হলেও তাঁর বাবা চট্টগ্রামে কলেজ শিক্ষক থাকাকালীন মৈত্রেয়ী দেবীর জন্ম। তিনি কিছুদিন চট্টগ্রাম এর ঐতিহ্যবাহী ডাঃ খাস্তগীর বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন৷

১৬ বছর বয়সে প্রকাশিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘উদারতা’৷ যার মুখবন্ধটি ছিল রবীন্দ্রনাথের লেখা৷
মংপুতে থাকাকালীণ রবীন্দ্রনাথ মৈত্রেয়ী দেবীর আমন্ত্রণে সেখানে বেশ কয়েকবার যান৷ তারই স্মৃতিচারণায় লেখেন- ‘মংপুতে রবীন্দ্রনাথ’। ইংরেজিতে অনুদিত বইটির নাম ‘টেগোর বাই ফায়ারসাইড’৷ ১৯৬১-তে রবীন্দ্র শতবর্ষে বক্তৃতা দেয়ার জন্য আমন্ত্রিত হয়ে তিনি সোভিয়েত রাশিয়া, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া ও জার্মানিতে গিয়েছিলেন।
উপন্যাস ‘ন হন্যতে’ বহুল পঠীত এবং আলোচিত৷ এই বই এর জন্যেই ১৯৭৬ সালে তিনি "সাহিত্য আকাদেমী" পুরষ্কার পান৷ বইটির ইংরেজি নাম ‘ইট ডাজ নট ডাই’।
১৯৭৭ সালে তিনি ‘পদ্মশ্রী’ উপাধিতে ভূষিত হন।

জীবনের সব থেকে উল্লেখযোগ্য কাজ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শরনার্থীদের জন্যে৷ একাত্তরে মৈত্রেয়ী দেবী ‘নবজাতক’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। এই পত্রিকার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেন। বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন স্থানে বক্তৃতা দেন। এই সময়ে তিনি কলকাতা থেকে ২৪ মাইল দূরে বাদু নামক গ্রামে ৯ বিঘা জমির ওপর একটি প্রকল্প গড়ে তোলেন, যে'টি আজও আছে 'খেলাঘর' নামে৷
'একাত্তর সালে অনাথ শিশুদের জন্য ‘খেলাঘর’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে অগণিত শিশুর জীবন বাঁচাতে তিনি এগিয়ে এসেছিলেন৷ পরে এটি একটি অন্যতম সংগঠনে পরিণত হয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় শাখা হিসাবে পরিচালিত হত৷ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এ সংস্থার কাজ কর্ম দেখাশুনা করেছেন৷
ছবিঃ ইন্টারনেট
মৈত্রীয়ে দেবীকে নিয়ে আমার আগের একটি পোস্ট লিংক- Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০২৪ দুপুর ২:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



