somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

ব্যবহারে বংশের পরিচয়.....

১৩ ই জুলাই, ২০২২ রাত ১০:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্যবহারে বংশের পরিচয়.....

বাদশাহর দরবারে একটা লোক এসে বললো, "জাঁহাপনা, দয়া করে আমাকে একটি চাকরি দিন।"

বাদশাহ লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমার কি যোগ্যতা আছে?'

লোকটি বললো, "জাহাঁপনা, আমি মানুষ বা যে কোনো প্রাণীর মুখ দেখে তার বংশ পরিচয় বলে দিতে পারি।"

বাদশাহ ভাবলেন, বাহ্, চমৎকার তো! দেখা যাক লোকটাকে পরীক্ষা করে। তিনি লোকটিকে তাঁর ঘোড়ার আস্তাবলের ব্যবস্থাপক নিযুক্ত করলেন।
কিছুদিন পর বাদশাহ লোকটিকে দরবারে তলব করে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ঘোড়াটির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন, 'বলো তো আমার ওই ঘোড়াটির জাত কেমন?'

লোকটি বাদশাহকে বললো, "জাঁহাপনা, ঘোড়াটির জাত ভালো না।"

এই কথা শুনে বাদশাহ ভীষণ রেগে বললেন, 'কি বলছো তুমি? আমি জাত দেখে লাখ লাখ টাকা খরচ করে ওকে কিনেছি, পালছি! আর তুমি বলছো ওর জাত ভালো না?'

লোকটি তবুও তার কথায় অনড় রইলো।
বাদশাহ তখন সেই ঘোড়াটির বিক্রেতাকে দরবারে ধরে নিয়ে আসার হুকুম দিলেন।
ঘোড়া বিক্রেতা দরবারে হাজির হলে বাদশাহ তাকে বললেন, 'সত্যি কথা বলো, তা না হলে গর্দান যাবে- ঘোড়ার জীবন বৃত্তান্ত।'

তখন ঘোড়া বিক্রেতা বললো, "জাঁহাপনা, আমাকে দয়া করে ক্ষমা করুন। আসলে এই ঘোড়াটির মা মারা যায় ও যখন খুব ছোট ছিল। তাই তখন থেকে ওকে আমি গরুর দুধ খাইয়ে বড়ো করেছি।"

বাদশাহ তখন আস্তাবলের ব্যবস্থাপক লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি এটা বুঝলে কিভাবে?'

লোকটি বললো, "জাঁহাপনা, ঘোড়ারা মাথা নিচু করে খাবার মুখে নিয়ে মাথা উঁচু করে খায়। এই ঘোড়াটি গরুর মতো মাথা নিচু করে খাবার খায়।"

বাদশাহ খুশি হয়ে লোকটিকে কয়েকশো মুরগী উপহার দিলেন।

কিছুদিন পর বাদশাহ লোকটিকে দরবারে তলব করে বললেন, 'আমার রানীর বংশ কেমন, তা তোমাকে বলতে হবে।'

লোকটি বললো, জাঁহাপনা, আমাকে কয়েকদিন সময় দিন। কয়েকদিন পর লোকটা এসে বাদশাহর দরবারে উপস্থিত হয়ে বললো, "জাঁহাপনা, রানীমাতার বংশের ব্যাপারে কিছু বলার আগে আমাকে কথা দিতে হবে, আমার ওপর রাগ করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না৷ আগে যাচাই-বাছাই করবেন।"

বাদশাহ বললেন, 'বেশ তা'ই হবে।'

লোকটি বললো, "রানীমা কোনো রাজবংশের মেয়ে না।
তিনি এক সাধারণ পরিবারের মেয়ে।"

বাদশাহ এবার সত্যি সত্যিই রেগে গেলেন।
নিজে দেখেশুনে পিতা-মাতার পছন্দসই অন্য রাজ্যের বাদশাহর মেয়ে বিয়ে করেছেন, আর ব্যাটা বলে কি না তিনি রাজবংশেরই মেয়ে না। যাই হোক, বাদশাহ কথা দিয়েছেন, আগে যাচাই-বাছাই করবেন।
অতএব, বাদশাহ তাঁর শাশুড়িকে চেপে ধরলেন সত্যি বলার জন্য।

এক পর্যায়ে শাশুড়ি ভেঙে পড়ে বললেন, "বাবা, সত্যি কথা বলতে কি, তোমার শ্বশুর আর তোমার বাবা মিলে ঠিক করেছিলেন, তোমার সাথে আমার মেয়ের বিয়ে দেবেন। আমার মেয়েটা ছয় মাস বয়সে মারা গেলে আমরা সেই সময় অন্যের কাছ থেকে ওই বয়সের একটি মেয়েকে নিয়ে এসে লালন-পালন করি।"

যাই হোক, বাদশাহ লোকটিকে একপাল ভেড়া, ছাগল ও গরু গাধা উপহার দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি বিষয়টা কিভাবে বুঝলে?'

লোকটি বললো, "হুজুর, রানীমা যে ভাষায় চাকর-বাকর, কর্মচারিদের সাথে কথা বলেন, যে ব্যবহার করেন, তা রাজকন্যা বা রাজমাতাসুলভ নয়।"

আবার একদিন বাদশাহ লোকটিকে রাজ দরবারে তলব করে বললেন, 'সবার বংশের কথা তো বললে, এবার আমার নিজের বংশের ব্যাপারে কিছু বলো তো?'

লোকটি বললো, "জাঁহাপনা, এই বিষয়ে আমি এখনই বলতে পারি। কিন্তু তার আগে আমার জীবনের নিশ্চয়তা দিতে হবে।"

বাদশাহ বললেন, 'যাও, দিলাম।'

লোকটি তখন বললো, "জাঁহাপনা, আপনি কোনো রাজা-বাদশাহর সন্তানই নন। আপনি একজন কৃষকের সন্তান।"

বাদশাহ রাগে গজগজ করেন- কিভাবে লোকটার গর্দান নেবেন.... ভাবতে ভাবতে মায়ের কাছে গিয়ে এই বিষয়ে জানতে চাইলেন।

রাজমাতা তখন বললেন, 'লোকটি ঠিক বলেছে।
তোমার পিতার কোনো ছেলে সন্তান না জন্মানোর কারণে যখন রাজত্ব জ্ঞাতিদের কাছে হারানোর আশঙ্কা দেখা দেয়, তখন এক কৃষক পরিবার থেকে তোমাকে এনে দিয়েছিলেন বিশ্বস্ত উজির।"

বাদশাহ এবার লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আমার ব্যাপারে তুমি কিভাবে বুঝতে পারলে?'

লোকটি বললো, "এটা সহজ ছিল, জাঁহাপনা।
আপনি সত্যিই রাজা-বাদশাহর সন্তান হলে উপহার দিতেন হীরে-জহরত, মণি-মুক্তা সেসব না দিয়ে আপনি উপহার দেন, ভেড়া-গরু-গাধা, হাঁস-মুরগি।
আর রাজপ্রাসাদের অনুষ্ঠানে অতিথিদের রাজকীয় খাবার দিয়ে আপ্যায়ন না করিয়ে এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মিষ্টান্ন বিতরণ না করিয়ে সর্বদা খিচুড়ি দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করান যা রাজবংশের কোন সন্তানের পরিচয় নয়।"

"মানুষের চরিত্র বুঝা যায় তার কর্মে"

(এই গল্পটা অনেক আগে শুনেছিলাম.... নিজের মতো করে লিখলাম)
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই অক্টোবর, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:৩৩
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ অনুচ্চারিত উত্তর

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৬:২০




জীবনের গতিপথ সর্বদাই চলমান। শত বাধা বিপত্তিতে সে থেমে থাকে না। চাইলেও থামানো যায় না।চলছে তো চলছেই ভালো আর মন্দে।

সে সব কত বছর আগের কথা.. সময়ে সবকিছু কত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আনন্দ ও শোকে কবিতা সংকলন - অক্টোবর ২০২৫

লিখেছেন বিজন রয়, ২৯ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:২৫



আনন্দ বিশ্বকাপ ফুটবল!
শোক ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্প!!


এই আনন্দ ও শোকে কবিতা সংকলন পোস্ট অক্টোবর ২০২৫! অনেক দেরি হয়ে গেল! হ্যাঁ অক্টোবর ২০২৫ এর সব কবিতা সংরক্ষিত ছিল, কিন্ত সময়ের অভাবে সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা বেবি রেসলার ইন দ্যা ডে কেয়ার সেন্টার- নিজের চোখকেও অবিশ্বাস হয় আজকাল .....

লিখেছেন অপ্‌সরা, ২৯ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭


বহু বছর ধরে বাচ্চাদের সাথে কাজ করছি। নানা রকম শিশু কিশোর দেখে দেখে চোখ, কান, মাথা, প্রায় অভ্যস্থ হয়ে গেছে। বাচ্চারা বাড়িতে এক, বাড়ির বাইরে খেলার মাঠে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩২



ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!

(The Hertiest Light, The Fleeting Memory)



তোমার ছোঁয়ায় থমকে দাঁড়ায় চেনা সময়টুকু,
দূরে গেলেই মেঘের ছায়ায় কাঁদে অবুঝ সুখ।
সুন্দর সেই দিনগুলো যায় ,হুট করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা ব্লগিং-এ দুই দশক - ধন্যবাদ সামহোয়্যার ইন ব্লগ

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫৮


দেখতে দেখতে শেষ পর্যন্ত সামুতে ২০ বছর পেরিয়ে গেল, ব্যক্তিগত একটি মাইলস্টোনও পার করা হলো। এই অনুভূতি মূলত মিশ্র। একদিকে আমি যেমন সামহোয়্যার ইন কর্তৃপক্ষের নিকট কৃতজ্ঞ যে দু'দশক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×