somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

বাংলাদেশী পণ্যের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ এবং বাস্তবতা......

০৩ রা এপ্রিল, ২০২৫ বিকাল ৪:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশী পণ্যের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ এবং বাস্তবতা......

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশী পণ্যে এতোদিন ট্যারিফ ছিলো ১৫%। গতকাল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৫% থেকে বাড়িয়ে ৩৭% ট্যারিফ বসানোর ঘটনায় হা-হুতাশ শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু এটা আজ হোক বা কাল এটা তো হওয়ারই ছিল। তবে এমন এককেন্দ্রিক (আরএমজি/(রেডি মেইড গার্মেন্টস) ইকোনোমি, এক্সপোর্ট ডেস্টিনেশনের বৈচিত্র‍্যহীনতা (ইউএস বেইজড) একদিন না একদিন ধাক্কা তো খাওয়াই লাগতো।

কারণ এই সেক্টর টিকাইয়া রাখলে জুলুমের সাম্রাজ্যও টিকাইয়া রাখা যায়। সারামাস কাজ করাইয়া, ওয়াশরুমে যাওয়ার সুযোগ না দিয়ে প্রোডাকশন আদায় করে ঈদের আগে বেতন না দিয়ে শ্রমিকদের রাস্তায় ঠেলে দেয়া যায়।সুঁই সুতা, বোতাম চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে কিনা তা চেক করার নামে পুরুষ সুপারভাইজার কতৃক সব বয়সের নারী শ্রমিকদের দিনে একাধিকবার যৌন হেনস্তা সহ্য করাই যেন গার্মেন্টস নারী শ্রমিকদের "জন্মই আজন্ম পাপ" এর শাস্তি! ৪০ বছর যাবত চলছে এই অমানবিকতা।

ফ্যাসিবাদের পতনের পর সংস্কারের ধোয়া উঠছে চারদিক থেকে। দেশে ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠিত হয়েছে। অনেক কিছুতেই সংস্কার চায় কিন্তু বেনিয়া মহাজন গোষ্ঠীর কাউকে বলতে শুনবেন না আমাদের ইকোনোমিক সিস্টেম সংস্কার করার দাবী করেছে, কেউ ইকোনমিক সংস্কারের রোডম্যাপ দাবী করছেনা! আমাদের দেশের মূল শক্তি ছিল কৃষি, অথচ আমরা কৃষিপণ্য এক্সপোর্টে একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারিনি। কেউ তলিয়ে দেখছিনা- কেন আমাদের পাট, চা, চিংড়ির মত অর্থকরী পণ্যের এক্সপোর্ট কমে গেলো? নিজেরা এত কাপড় বানাই, বিশ্বজুড়ে আমাদের গার্মেন্টস পণ্য, কিন্তু আমরা কেন বিশ্বে অন্তত একটা কাপড়ের ব্রান্ড দাড় করাইতে পারলাম না? আমরা যেটাকে গর্ব করে বলি- গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি, সেটা আসলে শুধু দর্জির কাজ। কৃষি খাতের অনেক যন্ত্রপাতি বানানোয় আমাদের ক্ষুদ্রশিল্প প্রতিষ্ঠান এখন স্বনির্ভর। অথচ সেখানে রাষ্ট্রের কোনো আনুকুল্য নাই।

যদিও বাংলাদেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৯৯% ভাগ রপ্তানি পণ্য আরএমজি। তবুও অন্য সেক্টরের কথাও চলে আসে। যেমন, সিজনে আলু, আম, কাঠাল, আনারস ছাড়াও আরও অনেক কৃষিজাত লাখ লাখ টন ফসল নষ্ট হয়, প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে কিভাবে ভ্যালু এড করা যায় সেইটা আমরা শিখিনাই। ফুড প্রসেসিংয়ের কোন আইডিয়া আমাদের নাই। ভারত-থাইল্যান্ড-সিংগাপুর থেকে আমাদের মেডিকেল ডেস্টিনেশন এখন চীনে শিফট করার ধুন্ধুমার আয়োজন চলতেছে। অথচ শুধু মেডিক্যাল সেক্টরেই স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারলে, শুধু দেশী রোগীদের বিদেশ যাওয়া ঠেকাইতে পারলে নতুন করে ৫-৮ লাখ মানুষের মেডিকেল সেক্টরেই চাকরির ব্যবস্থা করা সম্ভব।
যে মেয়েগুলা গার্মেন্টসে রাতদিন মেশিন ঘুরাচ্ছে তারা হাসপাতালে ল্যাব টেকনেশিয়ান, নার্স, আয়া, ফ্রন্টডেস্ক কর্মী, রোগীর এটেনডেন্স হিসেবে কাজ করতে পারতো।

ইপিবি এবং বিজিএমইএ'র হিসাব মতে আমরা বছরে ৫-৬ বিলিয়ন আরএমজি এক্সপোর্ট করছি। অথচ দর্জিগিরির বিল বাদে বাকিসব ম্যাটেরিয়াল ইম্পোর্ট করতে চলে যায়। ফেব্রিক, সুতা, কেমিক্যাল, বোতাম আরএমজির এমন কোন র ম্যাটেরিয়াল আছে যেটা ইম্পোর্ট করতে হয়না?

স্থানীয়ভাবে এতবছরেও আরএমজির র ম্যাটেরিয়ালের কোন উৎপাদনব্যবস্থা করতে পারলাম না। ভারত থেকে গরু চোরাচালান বন্ধ হওয়ায় আমরা গরুর গোসত খাবার বিলাসিতা ছেড়েছি। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলে কান্নাকাটি করি, আমেরিকা ট্যারিফ বসালে হাহুতাশ করি, চীন জিনিসপত্রের দাম বাড়ালে কান্নাকাটি করি- আমাদের কান্নাকাটির শেষ নাই, হাহুতাশের শেষ নাই। পরনির্ভরশীল হয়ে বসে থাকলে কান্নাকাটি তো চলতেই থাকবে এই "দুঃখিনী বাংলা" নাম স্বার্থক করতে।

এই ধরনের লাথিগুলা খাওয়া একদিক দিয়ে ভালো। এই যে আরএমজি এক্সপোর্ট করে পেটেভাতে বেঁচে থাকার যে কম্ফোর্টেবল ব্যবস্থায় আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি, সেটা থেকে বের হয়ে আসার সময় এখনই।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ কেন আমি বিএনপিকে ভোট দিবো?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



আসছে ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকারপক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন হবে বিতর্কমুক্ত এবং উৎসবমুখর পরিবেশে। আমার অবশ্য এই দুই ব্যপারেই দ্বিমত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামিলীগ আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫



চাঁদগাজী বলেছিলেন,
"যেসব মানুষের ভাবনায় লজিক ও এনালাইটিক্যাল জ্ঞান না থাকে, তারা চারিপাশের বিশ্বকে সঠিকভাবে বুঝতে পারে না, কোন বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সমাজে তাদের অবদান... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘বাঙালি মুসলমানের মন’ - আবারও পড়লাম!

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আহমদ ছফা'র ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ বইটা আরাম করে পড়ার মতো না। এটা এমন এক আয়না, যেটা সামনে ধরলে মুখ সুন্দর দেখাবে- এমন আশা নিয়ে গেলে হতাশ হবেন। ছফা এখানে প্রশংসা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাতানো নির্বাচনে বিএনপিকে কিভাবে ক্ষমতায় বসানো হল-(১) অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনের পর চাওয়া ছিল একটি সুষ্ঠ নির্বাচন।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২১

১/ ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভিতরে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। অর্থাৎ মানুষকে ফোন বাসায় রেখে আসতে হবে। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার পক্ষপাতিত্ব করলে কেউ রেকর্ডও করতে পারবে না। কেন্দ্রে কোন অনিয়ম, জালভোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলেজ ও ভার্সিটির তরুণরা কেন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে? করনীয় পথ নকশাটাই বা কী?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬


ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র

অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।

এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×