বিএনপি এবং তারেক রহমানঃ নন্দঘোষ!
বাংলাদেশের মানুষের সমস্যা একদিনে তৈরি হয়নি।
এ দেশের আইনি, প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের শিকড় বহু গভীরে প্রোথিত। উপনিবেশিক ব্রিটিশ-ভারতীয় শাসনামলের আইন, পাকিস্তানি আমলের কাঠামো, স্বাধীনতাত্তোর রাষ্ট্রীয় সংকট, সামরিক শাসন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা- সব মিলিয়ে আমরা এক জটিল বাস্তবতার ভার বহন করছি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আমাদের নিজেদের জাতিগত, সামাজিক ও ব্যক্তিগত নানা চারিত্রিক দুর্বলতা।
এই পুঞ্জিভূত সমস্যাগুলোর সমাধান কোনো সরকার রাতারাতি করতে পারে না। আইন সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা- এগুলো সময়সাপেক্ষ বিষয়। কিন্তু দুঃখজনক হলো, আমরা অনেকেই মনে করি, সরকার পরিবর্তন মানেই যেন জাদুর কাঠি ঘুরিয়ে সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান।
কোথাও কোনো ব্যক্তির নৈতিক স্খলন ঘটলেই অনেকে এমন আচরণ করেন, যেন প্রধানমন্ত্রীকে সঙ্গে সঙ্গে সব রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম বন্ধ করে শোকাহত হয়ে বসে থাকতে হবে! বুক চাপড়ে মরনকান্না করতে হবে। তিনি হাসতে পারবেন না, হাততালি দিতে পারবেন না, কোনো আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে পারবেন না! রাষ্ট্র কি এভাবে চলে?
সবচেয়ে বড় সত্য হলো- রাষ্ট্রীয় সমস্যার অনেক সমাধান আইন ও সংস্কারের মাধ্যমে সম্ভব। কিন্তু ব্যক্তিগত নৈতিকতা, সামাজিক অবক্ষয় ও চরিত্রগত সংকটের সমাধান কোনো সরকার একা করতে পারবে না, যদি আমরা নিজেরা নিজেদের বদলাতে না চাই।
আমরা নিজেরা বছরের পর বছর অন্যায়, দুর্নীতি, অবিচার, দখলদারিত্ব সহ্য করেছি। বিগত ষোল বছর কতজন সাহস করে উচ্চস্বরে প্রতিবাদ করতে পেরেছি? অথচ আজ মাত্র তিন মাসের একটি সরকারকে কথায় কথায় টেনে নামানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে এমন ভঙ্গিতে, যেন সব সমস্যার জন্মই গতকাল!
সমালোচনা অবশ্যই হবে। জবাবদিহিতা অবশ্যই থাকবে। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে, প্রতিটি ঘটনাকে সরকার পতনের ইস্যু বানিয়ে, রাষ্ট্রকে চিরস্থায়ী সংঘাতের মধ্যে ঠেলে দিলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশই।
রাষ্ট্র গড়তে ধৈর্য লাগে, দায়িত্ববোধ লাগে, আত্মসমালোচনা লাগে। শুধু নন্দঘোষ খুঁজে বেড়ালে সমস্যার সমাধান হয় না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



