কেউ কোরবানি দেয়, আর কারও পুরো জীবনটাই কোরবানি হয়ে যায়...
আজ কোরবানির ঈদ। চারদিকে উৎসব, আনন্দ, কোলাহল। ঘরে ঘরে কোরবানির মাংস, আত্মীয়-স্বজনের আনাগোনা, শিশুদের হাসি। কিন্তু এই রাজধানীরই কোনো এক কোণে এক রুমে এমন একটি পরিবার আছে, যাদের কাছে ঈদ মানেই অপেক্ষা, শূন্যতা আর দীর্ঘশ্বাস।
১৪ বছর আগে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তিনি ছিলেন একজন ছাত্রদল নেতা। মা, স্ত্রী, মাত্র দুই বছরের শিশু সন্তান এবং ছোট ভাইকে নিয়ে ছিল তার ছোট্ট সংসার। সেই মানুষটি আর কখনো ফিরে আসেননি। ফিরে আসেনি একমাত্র ভাইটিও।
১৪ বছর পেরিয়ে গেছে।
সেই শিশুটি আজ ১৪ বছরের কিশোর। এই ১৪ বছরে দেশের সরকার বদলেছে, রাজনীতি বদলেছে, অনেক মানুষের ভাগ্য বদলেছে। কিন্তু বদলায়নি সেই পরিবারের ভাগ্য।
মা এখনও অপেক্ষা করেন দরজার দিকে তাকিয়ে। স্ত্রী এখনও বুকের ভেতর এক সমুদ্র কষ্ট নিয়ে দিন পার করেন। আর সেই সন্তান এখনও বাবাহীন জীবনের ভার বয়ে বেড়ায়।
আজ ঈদের দিন।
ঘরে কোরবানির মাংস নেই। সন্তানের জন্য কষ্ট করে একটি ডিম রান্না করা হয়েছে।
মা হয়তো ডিমটা ছেলের প্লেটে তুলে দিয়ে বলবেন- "তুমি খাও বাবা, আমি খেয়েছি।"
কিন্তু মা খায়নি।
মায়েরা সন্তানের জন্য নিজের ক্ষুধা লুকিয়ে রাখে। চোখের পানি লুকিয়ে রাখে। নিজের না-পাওয়া, না-খাওয়া, না-বাঁচাকে লুকিয়ে রাখে। কিন্তু একজন সন্তানের জন্য বাবার অভাব লুকাতে পারে না।
এই ঈদে যখন আমরা প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করবো, তখন একবার অন্তত সেইসব পরিবারের কথা ভাবি- যাদের কাছে ঈদ মানে উৎসব নয়, বরং আরেকটি বছর অপেক্ষার, আরেকটি বছর না-ফেরার, আরেকটি বছর বেঁচে থেকেও হারিয়ে যাওয়ার।
কেউ কোরবানি দেয়।
আর কেউ... একটি অন্যায়ের শিকার হয়ে নিজের পুরো জীবনটাই শুধু নয়, পুরো পরিবারটাই কোরবানি দিয়ে ফেলে।
আজ সেইসব অপেক্ষমাণ মা, স্ত্রী, সন্তান এবং স্বজনদের জন্য গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও প্রার্থনা। তাদের বেদনার হিসাব কোনো ক্যালেন্ডার রাখে না, কোনো উৎসব মুছে দিতে পারে না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

