somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

পণ্য ক্রয়ের প্রাকপরিদর্শনের নামে ঘুষ বানিজ্য বন্ধ হোক।

০২ রা জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"মশক নিধনের কৌশল শেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই; বাংলাদেশের যে কোনো শহর বা গ্রামের ডোবা-নালার পাশে কয়েক ঘণ্টা দাঁড়ালেই মশার প্রকৃতি, বিস্তার এবং নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্ভব"- নোটসটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রধানমন্ত্রীর একটি সরল কিন্তু বাস্তবসম্মত পর্যবেক্ষণ।

কিন্তু বিষয়টি শুধু মশক নিধন শেখার নয়; এর চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো- সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে সরকারি কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধিদের বিদেশ সফর।
বিগত সরকারের আমলে ‘পুকুর কাটা শিখতে ২০ সরকারি কর্মকর্তার নেদারল্যান্ডস ভ্রমণ’, ‘টয়লেট পরিচালনা শিখতে বিদেশ যাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তারা’, ‘চর দেখতে সরকারি কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া সফর’, 'স্কুল ছাত্রদের টিফিন খিচুড়ি পাকানো প্রশিক্ষণ নিতে আমেরিকা যাচ্ছেন শিক্ষা সচিব সহ চল্লিশ কর্মকর্তা'- এ ধরনের সংবাদ দেখে অভ্যস্ত।
ব্যবসার জগতে "ফ্রি" বলে কোনো শব্দ নেই। কোনো বিদেশি কোম্পানি মানবসেবার মহান উদ্দেশ্যে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিয়ে যায় না। "পরিদর্শন", "প্রশিক্ষণ", "অভিজ্ঞতা বিনিময়" কিংবা "উদ্ভাবনী কার্যক্রম দেখা"- এসব কেবল ব্যবসায়িক কূটকৌশলী মোড়ক মাত্র। বাস্তবে এগুলো ঘুষ, উপঢৌকন এবং প্রভাব বিস্তারের একটি পরিশীলিত পদ্ধতি।

প্রথমে কয়েকজন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তাকে বিদেশ সফর করানো হয়। সঙ্গে থাকে বিলাসবহুল হোটেল, দৈনিক ডলারভিত্তিক ভাতা, আপ্যায়ন এবং নানা ধরনের উপহার। দুর্নীতিবাজ আমলারা এটাকে "আতিথেয়তা" বললেও ব্যবসায়িক ভাষায় এর নাম "ইনভেস্টমেন্ট"। কারণ কোম্পানি জানে, আজ যে ডলার খরচ করা হচ্ছে, আগামীকাল সরকারি ক্রয়াদেশের মাধ্যমে তার বহুগুণ তুলে নেওয়া সম্ভব।

ফলাফল কী হয়?
একটি পণ্যের প্রকৃত মূল্য যদি এক টাকা হয়, তাহলে সেই মূল্যের সঙ্গে পাঁচ, সাত কিংবা দশ টাকার অতিরিক্ত বোঝা যুক্ত হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই অর্থ পরিশোধ করে জনগণ। জনগণের করের টাকা দিয়ে কেনা হয় অতিমূল্যায়িত পণ্য, আর রাষ্ট্র হারায় হাজার হাজার কোটি টাকা। তাই প্রধানমন্ত্রীর উচিত ছিল শুধু সফরটি স্থগিত করা নয়, বরং একটি স্পষ্ট নীতিমালা ঘোষণা করা- যে কোনো সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি বা ক্রয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে কোনো ধরনের বিদেশ সফর, উপহার, সম্মানী বা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না।

কারণ দুর্নীতির আরেক নাম শুধু ঘুষ নয়; দুর্নীতির আরেক নাম হলো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে "শিক্ষা সফর"। আর সেই সফরের বিল শেষ পর্যন্ত গুনতে হয় দেশের সাধারণ জনগণকেই।


সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:০০

ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা....

বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ যে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি, তা একদিনে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘ দুই দশকের দুর্নীতি, লুটপাট, অর্থপাচার এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত আর্থিক অব্যবস্থাপনার ফল আজ রাষ্ট্রকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"টেকসই অর্থনীতির: সহজ সমাধান"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০১ লা জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:০৭



দেশ এখন অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত। ব্যাংকে তারল্য সংকট, টাকার অবমূল্যায়ন, অর্থ পাচারসহ নানা বহুমুখী সমস্যার সম্মুখীন। ইউনূস সরকার দেশীয় ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিয়ে কোনোভাবে জোড়াতালি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

দু-দণ্ড শান্তির পরেও যে তৃষ্ণা থাকে : বনলতা সেন - সিনেমা [স্পয়লার এলার্ট]

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ০১ লা জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪


সিনেমা হলের আলো নিভলে একটা চুক্তি হয়। পরিচালক বলেন; আমাকে বিশ্বাস করো, আমি তোমাকে কোথাও নিয়ে যাব। দর্শক রাজি হয়ে চোখ মেলে বসে থাকেন। মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের বনলতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি অন্যায় করছেন, ওমর খাইয়াম!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৪

আপনি সামুতে দীর্ঘদিন ধরে লিখছেন। এই ব্লগে আপনার অনেক অবদান। সেই অধিকারে, যে কোন ব্লগারের লেখাকে আপনি সমালোচনা করতেই পারেন। কিন্তু, কারো নাম নিয়ে কটাক্ষ করার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

এমপির কাজ কি মানববন্ধন করা ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা জুন, ২০২৬ রাত ২:২০


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটা সিনেমা দেখানো হবে। পারিবারিক সিনেমা। সেন্সর বোর্ড থেকে পাস করা। নাম "বনলতা এক্সপ্রেস।" ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি ঈদের আনন্দে মানুষকে একটু সিনেমা দেখাতে চাইল। এতটুকুই ছিল ঘটনা ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×