প্রসঙ্গঃ আদ দ্বীন হাসপাতালে ছয়টি নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু....
ঈদের আগের দিন একসঙ্গে ৬টি নবজাতক শিশুর মৃত্যু- এটা শুধু একটি হাসপাতালের ব্যর্থতা নয়, কয়েকটি পরিবারের জন্য আজীবনের বেদনা। কোনো ক্ষতিপূরণই এই সন্তানহারা বাবা-মায়ের শূন্যতা পূরণ করতে পারবে না।
স্বাভাবিকভাবেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘটনার তদন্ত, কারণ অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সত্য উদঘাটন করা এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা। তবে এই বিষয়ে শুধু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই এককভাবে দায়ী নয়, সরকারের যথাযথ তদারকির দায়িত্বশীলদের গাফিলতি আছে।
অন্যদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা সুবিধা, চাকরির সুযোগ এবং শিক্ষাবৃত্তির মতো কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদি ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে, তাহলে সেটি একটি মানবিক ও বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ হতে পারে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন- ক্ষতিপূরণ কখনোই দায়মুক্তির বিকল্প হতে পারে না। যদি তদন্তে কোনো ডাক্তার, নার্স বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীর অবহেলা প্রমাণিত হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতেই হবে। একইসঙ্গে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা প্রটোকল, জরুরি সেবা এবং নবজাতক পরিচর্যা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সংস্কার করতে হবে।
আমার ব্যক্তিগত মত হলো, একটি দুর্ঘটনা বা অবহেলার কারণে এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প খরচে লাখো মানুষ চিকিৎসাসেবা পেয়েছে, সেটি হয়তো সবচেয়ে কার্যকর সমাধান নয়।
বরং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি কঠোর গাইডলাইন, নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে হাসপাতালটিকে প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুযোগ দিতে পারে। এতে একদিকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পাবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান হারাবে না।
আমরা বিচার চাই, জবাবদিহিতা চাই, সংস্কার চাই- কিন্তু এমন সমাধানও চাই, যা ভবিষ্যতে মানুষের জীবন রক্ষা করবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


