স্পিকারকে নিরপেক্ষ হতেই হবে....
দুইদিন আগে সংসদে ট্রেজারি বেঞ্চের একজন সদস্যের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের তীব্র আপত্তি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এমন অবস্থায় ডেপুটি স্পিকার অত্যন্ত দৃঢ়তা, ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছেন। তার এই ভূমিকা অনেক সংসদ পর্যবেক্ষক ও গণতন্ত্রপ্রত্যাশী মানুষের কাছে ইতিবাচক হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। অন্যদিকে দলের সোশ্যাল মিডিয়া অনেক কর্মীদের অত্যন্ত অপছন্দ হয়েছে।
সাধারণত স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার ট্রেজারি বেঞ্চ থেকেই নির্বাচিত হন। কিন্তু একবার স্পিকারের আসনে বসার পর তিনি আর কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি নন; তিনি পুরো সংসদের অভিভাবক। তিনি সরকার ও বিরোধী দল নির্বিশেষে সকল সংসদ সদস্যের অধিকার, মর্যাদা এবং বক্তব্য প্রদানের সুযোগ নিশ্চিত করার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন।
গণতান্ত্রিক সংসদ ব্যবস্থার অন্যতম শর্ত হলো স্পিকারের নিরপেক্ষতা। কারণ সংসদের প্রতি জনগণের আস্থা অনেকাংশেই নির্ভর করে অধিবেশন পরিচালনাকারী ব্যক্তির ন্যায়পরায়ণতা ও নিরপেক্ষ আচরণের উপর।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে অতীতের অনেক সংসদে আমরা হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী-আবদুল হামিদদের মতো একচোখা স্পিকারও দেখেছি, যারা সরকারি দলের গৃহ ভৃত্যদের চাইতেও বেশি অনুগত এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ছিল। ফলে সংসদ কার্যকর বিতর্ক, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্র হওয়ার পরিবর্তে একপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। ইতিহাস সেই অধ্যায়গুলোকে ইতিবাচকভাবে স্মরণ করে না।
আমরা আশা করবো, বর্তমান সংসদ অতীতের সেই বিতর্কিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে একটি কার্যকর, প্রাণবন্ত ও মর্যাদাপূর্ণ সংসদীয় সংস্কৃতির উদাহরণ স্থাপন করবে। আর সেই পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো- স্পিকারের চেয়ার যেন সবসময় দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে সংসদের মর্যাদা ও নিরপেক্ষতার প্রতীক হয়ে থাকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


