একটি ফোরামে আবু সামীহার পোস্টের জবাবে এটি লিখিছিলাম। "ধন্যবাদ আবু সামীহা। এর আগে জিহাদে উপর আপনার আরও একটি অসাধারণ লেখা পড়েছিলাম। বর্তমান পেক্ষাপটে আপনার উদ্বৃত হাদিসগুলো বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তবে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা (আপাতদৃষ্টিতে এই কথাটা দুর্বল ইমানের পরিচয় বহন করতে পারে) এবং এর জটিল আন্তর্জাতিক কাঠামো ও নবী (স.) এর জীবিত থাকা অবস্থায় ইসলামে দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি বিবেচনায় আনলে কিছু কিছু ক্ষেত্র আমি দ্বিমত পোষণ করব (মুমিনের জান ও মাল আল্লাহর ক্রয় করা সম্পদ এবং সর্বোত্তম মৃত্যু শাহাদাতের মৃত্যু ইত্যাদি জানা থাকার পরও)।
দেখুন ইসলামের প্রায় অধিকাংশ বিধানের ক্ষেত্রেই সময় ও কাল একটি বিশাল ফ্যাক্টর। যে নবী (স.) মক্কা বিজয়ের পর কাবা শরীফে একটি মুর্তিও সহ্য করলেন না সেই নবীই (স.) মক্কায় বসে মুর্তিকে বর্তমান রেখেই নামায পড়লেন। আবার যে নবী (স.) বিধর্মীদের আক্রমণের পূর্বেই আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে এ সংবাদেই তাবুক প্রান্তরে সৈন্য সমাবেশ ঘটালেন সেই নবীই (স.) ৬ষ্ঠ হিজরীতে আপতদৃষ্টিতে অপমান জনক কিছু শর্তে স্বাক্ষর করে হজ্ব না করেই মদিনায় ফিরে আসলেন।
এরকমটি ঠিক কেন? কারণ ইসলামী বিধানে প্রেক্ষাপট (সময় ও কাল ফ্যাক্টর) একটি জরুরী বিষয়। উপরে দুটি উদাহরনের দুটিতেই পূর্বের কৌশল গত দুর্বল অবস্থান পরবর্তীতে সাফল্য এনে দিয়েছে। একারনেই আমি তালেবান, লাদেনদের একজন কড়া সমালোচক। এমনকি মিশরের মধ্যস্থতায় ইসরাইলের সাথে ৬ মাসের যুদ্ধ যে বিরতি হয়েছিল তা নবায়ন না করায় আমি যারাপরনাই ক্ষুব্ধ। এই ধ্বংসযজ্ঞ দেখে ইচ্ছে করে হামাসকে দোষী করি, কেন তারা নবায়ন করলনা।
দেখুন হোদায়বিয়ায় ফিরে যেয়ে নবী (স.) যখন আবার ফিরে আসল তখন কিন্তু কেউ বাধা দেয়া তো দুরের কথা সবাই স্বাগত জানিয়েছিল। ইসলাম মক্কাতে স্থায়ী হয়েছিল। আপতদৃষ্টিতে অপমান জনক মনে হলেও, অধিকাংশ সাহাবী প্রথমে রাজী না থাকলেও নবী (স.) সঠিক সিদ্বান্ত নিতে ভুল করেননি।
একটা যুক্তি দাড় করানো যেতে পারে যে তাহলে বদরের যুদ্ধে কেন এত কম সৈন্যবাহিনী নিয়ে যুদ্ধ করা হল। দেখুন তখন মুসলমানরা খুশিতে আত্নহারা হয়ে জিহাদ করেননি। তখন পেক্ষাপটটি এমন ছিল যে
১. কোন সন্ধি করার সুযোগ ছিলনা।
২. আশ্রয় (হিজরত) নেয়ার মত দ্বিতীয় কোন স্থান ছিল না।
৩. যুদ্ধ কর না হলে মর
৪. এটি টোটাল ইসলামের উপরেউ একটি থ্রেট ছিল; ইসলাম থাকবে কি থাকবে না তা নির্ধারণের প্রশ্ন ছিল।
হ্যা এটা সত্য কথা যে জিহাদ ই মুক্তির একমাত্র পথ। তার চেয়েও বড় সত্যি হল জিহাদের পূর্বপ্রস্তুতি। ইমান,জ্ঞানার্জন, যোগ্যতা, লোকবল, সরঞ্জামাদি ইত্যাদি থাকা চাই। দেখুন বদেরের সময় আরবের সবচেয়ে উন্নত অস্ত্র ছিল ঘোড়-তলোয়ার। মুসলমানরা কম করে হলেও সেই উন্নত সরঞ্জামাদির প্রায় সব রকমই ব্যবহার করেছেন। আর এখন হামাস-ইসরাইল কী করছে? ক্লাস্টার বোমার বিপরীতে পাথর ছুড়ে মারতে হয়। যার আপতদৃষ্টিতে ফলাফল হল ২৭১:১।
আমার মনে হয় এখন হামাস সহ অনেক দেশেরই প্রধান দায়িত্ব হল
১. ইমান মজবুত রাখা
২. ব্যাপক জ্ঞানার্জন করা
৩. রাষ্ট্র কাঠামোতে মজবুত অবস্থান - সংবাদ মাধ্যাম, সেনাবাহিনী, সুশীল সমাজ, রাজনীতি।
৪. সুদুরপ্রসারী কূটনীতি পরিচালনা
এবং এগুলোই বর্তমান সময়ের শ্রেষ্ঠ জিহাদ।"

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


