somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইসরাইল-প‌্যালেস্টিইন সংঘাতঃ এ মুহূর্তে করণীয়

২৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটি ফোরামে আবু সামীহার পোস্টের জবাবে এটি লিখিছিলাম। "ধন্যবাদ আবু সামীহা। এর আগে জিহাদে উপর আপনার আরও একটি অসাধারণ লেখা পড়েছিলাম। বর্তমান পেক্ষাপটে আপনার উদ্বৃত হাদিসগুলো বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তবে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা (আপাতদৃষ্টিতে এই কথাটা দুর্বল ইমানের পরিচয় বহন করতে পারে) এবং এর জটিল আন্তর্জাতিক কাঠামো ও নবী (স.) এর জীবিত থাকা অবস্থায় ইসলামে দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি বিবেচনায় আনলে কিছু কিছু ক্ষেত্র আমি দ্বিমত পোষণ করব (মুমিনের জান ও মাল আল্লাহর ক্রয় করা সম্পদ এবং সর্বোত্তম মৃত্যু শাহাদাতের মৃত্যু ইত্যাদি জানা থাকার পরও)।
দেখুন ইসলামের প্রায় অধিকাংশ বিধানের ক্ষেত্রেই সময় ও কাল একটি বিশাল ফ্যাক্টর। যে নবী (স.) মক্কা বিজয়ের পর কাবা শরীফে একটি মুর্তিও সহ্য করলেন না সেই নবীই (স.) মক্কায় বসে মুর্তিকে বর্তমান রেখেই নামায পড়লেন। আবার যে নবী (স.) বিধর্মীদের আক্রমণের পূর্বেই আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে এ সংবাদেই তাবুক প্রান্তরে সৈন্য সমাবেশ ঘটালেন সেই নবীই (স.) ৬ষ্ঠ হিজরীতে আপতদৃষ্টিতে অপমান জনক কিছু শর্তে স্বাক্ষর করে হজ্ব না করেই মদিনায় ফিরে আসলেন।
এরকমটি ঠিক কেন? কারণ ইসলামী বিধানে প্রেক্ষাপট (সময় ও কাল ফ্যাক্টর) একটি জরুরী বিষয়। উপরে দুটি উদাহরনের দুটিতেই পূর্বের কৌশল গত দুর্বল অবস্থান পরবর্তীতে সাফল্য এনে দিয়েছে। একারনেই আমি তালেবান, লাদেনদের একজন কড়া সমালোচক। এমনকি মিশরের মধ্যস্থতায় ইসরাইলের সাথে ৬ মাসের যুদ্ধ যে বিরতি হয়েছিল তা নবায়ন না করায় আমি যারাপরনাই ক্ষুব্ধ। এই ধ্বংসযজ্ঞ দেখে ইচ্ছে করে হামাসকে দোষী করি, কেন তারা নবায়ন করলনা।
দেখুন হোদায়বিয়ায় ফিরে যেয়ে নবী (স.) যখন আবার ফিরে আসল তখন কিন্তু কেউ বাধা দেয়া তো দুরের কথা সবাই স্বাগত জানিয়েছিল। ইসলাম মক্কাতে স্থায়ী হয়েছিল। আপতদৃষ্টিতে অপমান জনক মনে হলেও, অধিকাংশ সাহাবী প্রথমে রাজী না থাকলেও নবী (স.) সঠিক সিদ্বান্ত নিতে ভুল করেননি।
একটা যুক্তি দাড় করানো যেতে পারে যে তাহলে বদরের যুদ্ধে কেন এত কম সৈন্যবাহিনী নিয়ে যুদ্ধ করা হল। দেখুন তখন মুসলমানরা খুশিতে আত্নহারা হয়ে জিহাদ করেননি। তখন পেক্ষাপটটি এমন ছিল যে
১. কোন সন্ধি করার সুযোগ ছিলনা।
২. আশ্রয় (হিজরত) নেয়ার মত দ্বিতীয় কোন স্থান ছিল না।
৩. যুদ্ধ কর না হলে মর
৪. এটি টোটাল ইসলামের উপরেউ একটি থ্রেট ছিল; ইসলাম থাকবে কি থাকবে না তা নির্ধারণের প্রশ্ন ছিল।

হ্যা এটা সত্য কথা যে জিহাদ ই মুক্তির একমাত্র পথ। তার চেয়েও বড় সত্যি হল জিহাদের পূর্বপ্রস্তুতি। ইমান,জ্ঞানার্জন, যোগ্যতা, লোকবল, সরঞ্জামাদি ইত্যাদি থাকা চাই। দেখুন বদেরের সময় আরবের সবচেয়ে উন্নত অস্ত্র ছিল ঘোড়-তলোয়ার। মুসলমানরা কম করে হলেও সেই উন্নত সরঞ্জামাদির প্রায় সব রকমই ব্যবহার করেছেন। আর এখন হামাস-ইসরাইল কী করছে? ক্লাস্টার বোমার বিপরীতে পাথর ছুড়ে মারতে হয়। যার আপতদৃষ্টিতে ফলাফল হল ২৭১:১।
আমার মনে হয় এখন হামাস সহ অনেক দেশেরই প্রধান দায়িত্ব হল
১. ইমান মজবুত রাখা
২. ব্যাপক জ্ঞানার্জন করা
৩. রাষ্ট্র কাঠামোতে মজবুত অবস্থান - সংবাদ মাধ্যাম, সেনাবাহিনী, সুশীল সমাজ, রাজনীতি।
৪. সুদুরপ্রসারী কূটনীতি পরিচালনা
এবং এগুলোই বর্তমান সময়ের শ্রেষ্ঠ জিহাদ।"
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×