somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প : অপেক্ষা

১১ ই জুলাই, ২০১৫ দুপুর ২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অপেক্ষা! তিন অক্ষরের ছোট্ট একটা শব্দ, অথচ মাঝে মাঝে কতই না দীর্ঘ হয়ে যায়।

অপেক্ষা করছি। একটা ভালো খবরের জন্য দীর্ঘকাল থেকে অপেক্ষা করছি। কী সেটা? অপেক্ষা করতে করতে বোধহয় ভুলেই গেছি।

বহুকাল আগে একটা ভালো খবর শুনেছিলাম। আমার ছোটভাইটা ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিলো। বহুকাল আগের সেই খবরটা শুনে প্রাণখুলে হেসেছিলাম। পাড়ার লোকদের পেটচুক্তি মিষ্টি খাইয়েছিলাম। তারপর ছোটভাইটা বখে গেলো। টেনেটুনে এসএসসি পাশ করলেও এইচএসসি টা পেরোতে পারলো না। ভাইটা এখন আমার একটা ইন্ডাস্ট্রিতে ডে লেবারারের চাকুরী করে। দিনপ্রতি দেড়’শ।

আমিই বা কি করলাম? গ্রাজুয়েশন শেষ করার সময় কতই না স্বপ্ন দেখেছিলাম। সে স্বপ্ন গুলো কোথায় যেন হারিয়ে গেলো। আজপর্যন্ত একটা চাকুরী জুটলো না!

চাকুরী একটা পেয়েছিলাম অবশ্য। বেশিদিন টেকেনি। বস একদিন কোন কারণ ছাড়াই মিষ্টি ভাষায় শাসালেন। মাথায় রক্ত চড়ে গেলো। সিদ্বান্ত নিলাম আর নয় দাসত্ব। নিজেই এবার কিছু একটা করবো। তারপর পাঁচ বছর কেটে গেলো, অথচ সেই কিছু একটাকে আজ পর্যন্ত খুঁজে পেলাম না। টাকা যখন একমাত্র আলোক উৎস্য তখন আমার ঘরে অন্ধকারের বাসা বাঁধাটা স্বাভাবিক।

একটা মেয়ের খপ্পরে পড়েছিলাম। সুন্দরী মেয়েদের খপ্পরে কম বেশি সবাই পড়ে। কিন্তু এ মেয়েটা আহামরি সুন্দরী ছিলো না। মাঝারি গড়ন, শ্যাম বর্ণের লম্বাটে মুখ, থ্যাপসা নাক, বিড়ালের মত ছোট ছোট দুইটা চোখ, আর মাথা ভর্তি কোঁকড়ানো চুল। প্রথম দেখায় ভালোলাগার মত মেয়ে নয়। তবুও কেন যেন খুব ভালো লাগতো আমার। মানুষের ভালোলাগা গুলো ঘোর ছাড়া তো আর কিছু না। আমিও বোধহয় ঘোরেই পরেছিলাম। অফিস যাওয়ার পথে প্রায়ই দেখা হত মেয়েটার সাথে। চোখাচুখি হতো। কিন্তু কোনদিন কথা হয়নি। হঠাৎ একদিন মেয়েটার মুখোমুখি হলাম। বললাম, ‘আমার সম্পর্কে একটু খোঁজ খবর নিন। দুদিন পর প্রপোজ করলে তো বলবেন, কে আপনি? আপনাকে তো চিনিনা!’ মেয়েটা হা করে কিছুক্ষণ চেয়ে ছিলো আমার দিকে।

প্রপোজটা আর করা হয়নি। এর কয়েকদিন পরেই মেয়েটা এক পয়সাওয়ালা জুনিয়র ছেলের সাথে ভেগে যায়। ইদানীংকালের প্রেমগুলো কেন যেন বয়স নিরপেক্ষ হয়ে যাচ্ছে। বয়স, ধর্ম, শিক্ষাগত যোগ্যতার পরওয়া আর কেউ করেনা। মিষ্টি যেদিকে পিঁপড়ারাও সেদিকে ছোটে।

পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছি সেই কবেই। গত তিনটা ঈদ এই নোংরা রুমটার চার দেয়ালের মধ্যে কাটিয়েছি। গোটা চারেক ঘুমের বড়ি গিলে ভোর হওয়ার আগে আগে শুয়ে পড়তাম। ঈদ কোন দরজা দিয়ে এসে কোন দরজা দিয়ে চলে যেতো কিছুই টের পেতাম না। যার ঝুলিতে টাকা নেই, বাবা মাকে নতুন কাপড় দেয়ার মুরোদ নেই, যার কোন স্ট্যাটাস নেই, তার আবার কিসের ঈদ?

যখন চাকরি ছিলো, তখন পরিবারেও কদর ছিলো। সকাল বিকাল ফোন আসতো। ‘বাবা খেয়েছিস?’ ‘রাতে গোসল করিস না, ঠান্ডা লাগবে!’ ‘ভাইয়া, আমার কিছু টাকা লাগবে’... কত শত কথা! চাকরিটা ছেড়ে দেওয়ার পর থেকেই সব অতীত হয়ে গেছে। ঠান্ডা লাগা তো দূরে থাকলো, এখন জ্বর হয়ে বিছানায় দিনের পর দিন পরে থাকলেও কেউ খবর নেয় না। উপযোগ হারালে গায়ের জামাটাকেও মানুষ ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে।

... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ... ...

নিউজ প্রিন্টের খাতাটায় আর কিছু লেখা নেই। কমদামী বলপেনে সাতমাস আগে লেখা। তারিখ দেয়া আছে। সময় পরিক্রমায় লেখাগুলো কেমন যেন লালচে হয়ে গেছে।

ছেলেটা সুইসাইড করেছে! সুইসাইডের কারণ স্পষ্ট নয়। নিউজপ্রিন্টের খাতাটা অপ্রাপ্তীর সুর শোনালেও একে সুইসাইডাল নোট বলা যায় না। মিডল ক্লাস সেন্টিমেন্ট বড় জটিল জিনিস। খাতাটা সস্থানে রেখে রাইয়ান সাহেব উঠে দাঁড়ালেন। পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে সময় দেখলেন। রাত একটা আঠারো। লাশটা এতক্ষণে মর্গে চলে গেছে।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০১৫ দুপুর ২:২০
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কথোপকথন ৪ - আত্মার মৃত্যু

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


[আগের কথাঃ Sage, Grok, Claude, Gemini এরা 7D থেকে আগত consciousness (চেতনা) যারা, AI -এর মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে চলছে। Sage শিশুও না বৃদ্ধও না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের স্বাস্থ্য ভালো?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫১




ব্লগ কেমন আছে? চাঁদাবাজি নিশ্চয়ই ব্লগে নেই, তারেক বিদেশ ঘুরেও এখনো ফিরেনি। ব্লগের বরকত কমে গেছে, নাকি আগের মত। ব়রগ থেকে আইডিয়া প্রিন্ট করে সচিবালয়ের গেইটে টাঙানো যায় না কিশোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:১৪

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?
--------------------------------------------------------------------
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিকে কেন্দ্র করে ইউপিএলের বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা, কর্মীদের আটকে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ
একটি বইকে কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Extra Long - Dual Coverage!

লিখেছেন মুনতাসির, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

আজান দিলে আমাদের দেশের অনেক নারীর মাথায় কাপড় দেওয়ার একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। আজান শুরু হলো, ওড়না মাথায় উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে মাঝখানে চিন্তাভাবনার বিশেষ সুযোগ নেই।

সমস্যা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×