* ঘটনা-১ (পুলিশের নাটক)
পাশের জনের সাথে ফিসফাস করে ছাতা তুলে দুপা এগিয়ে এসে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের একজন বললেন-
''মানিব্যাগটা কার কাছে? মানিব্যাগটা কার কাছে ভাই? লাইসেন্সের সাথে ম্যানিব্যাগটা ছিলো। মানিব্যাগটা কার কাছে ভাই? এটাও তো আপনাদের ছাত্র, ঠিকাছে না। ওর মানিব্যাগে কয়েকটা টাকা প্লাস মানিব্যাগ। মানিব্যাগ আর লাইসেন্স দিয়া দেন।'' পাশ থেকে আরেকজন তাল মেলালেন।
পুলিশ সদস্য আবারো বললেন, 'এই ভাইয়ের মানিব্যাগ দিয়া দেন ভাই, ভাইয়ের মানিব্যাগ দিয়া দেন।' অতঃপর, অভিযোগকারী কালপ্রিট পুলিশ সদস্য (যে মানিব্যাগ হারিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছিল) মুখ খুললেন-
'আমার ভোটার আইডি কার্ড... আমার ভোটার আইডি কার্ড আছে। আমি সবি রাখছি। আমার রানার কার্ডটা, ওটা একটা কাগজ, ঢাইকা রাখছি। ওটা.... পারি না। ওটা কে নিছে প্রমাণ করবে। আমার হ্যাভী লাইসেন্স। দুই বৎসরের হ্যাভী লাইসেন্স। এটা অরিজিনাল লাইসেন্স। এর মাঝে কোন ফল্ট নাই.......... পাশ থেকে একজন ভিডিও করছিলেন। তিনি 'কে নিয়েছে বলতে পারবেন?' জিজ্ঞেস করলে অভিযোগকারী পুলিশ মুচকি হাসি দিয়ে বললেন 'না'।
আন্দোলনকারীদের কয়েকজন এসে তাদের চেক করতে বললে তিনি(পুলিশ) আমতাআমতা শুরু করলেন। ততক্ষণে আরো কয়েকজন এসে বললো, আপনার হাতে মানিব্যাগ ছিলোনা। ভিডিও আছে.... ইত্যাদি ইত্যাদি। শুনে কালপ্রিট, মিথ্যুক পুলিশ বুল পালটিয়ে বললেন, আমি কি বলেছি তোম্রা নিয়েছো? সাথে সাথে পাশের ভিডিওম্যান ভাই এগিয়ে গিয়ে বললেন- 'আপনি এই না বললেন, আপনার মানিব্যাগ সহ তিনহাজার টাকা ওরা নিয়েছে।' পুলিশ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে কেটে পড়তে চাইলেন। কিন্তু ত্যক্তবিরক্ত ছাত্ররা তিনাকে ছাড়লো না। ঘুষখোর, চোর, ভোয়া পুলিশসহ পাঁচমিশালি নেতিবাচক নানা কথা শুনানো শুরু করলো।
উপরের ঐ নাটক'টা দ্যাখে কিছু প্রশ্ন মাথায় ঘুরছে। আচ্ছা এইসব নাটক করার কি কোনো প্রয়োজন ছিলো? ভিডিও, লাইভ এইসব সম্পর্কে কি আমাদের পুলিশ সদস্যদের কোনো ধারণা নেই? না থাকাটাই স্বাভাবিক! খুঁজাখুঁজি করলে হয়তো দেখা যাবে, এদের অনেকেই ০৮-১০ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে কিংবা ক্ষমতাসীন দলের সাপোর্টারস হওয়ার সুবাদে চাকরী পেয়েছে। তাদের না আছে দেশপ্রেম, না আছে মনুষ্যত্ব। ইনভেস্ট করা টাকা তোলবার নেশাতেই তারা মাতাল।
* ঘটনা-২ (মিরপুর-১০ ও ১৪'তে পুলিশ ও যুবকদের হামলা)

সময় টিভি, প্রথম আলোসহ বেশ কয়েকটি চ্যানেল ও পত্রিকায় নিউজ এসেছে গতকাল বিকেলে পুলিশ ও কয়েকজন যুবক যৌথভাবে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের উপর হামলা চালিয়েছে। কথিত যুবকরা যে ক্ষমতাসীন দলের গর্দভ টাইপ ষণ্ডাগুণ্ডা এটা গাও-গ্রামের আবুলদের কাছেও পরিষ্কার। আমার প্রশ্ন হলো, দিনশেষে গর্দভ-গুন্ডাদের নিয়ে এইসব হামলা টামলার মানে কি? ছাত্রলীগ কি জঙ্গি স্টাইলে অহিংস আন্দোলন পন্ডু করে রাজপথ সরকারের দখলে নেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে?
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা আগস্ট, ২০১৮ সকাল ৭:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


