
মিথ্যুক, বেকুব বনাম আমাদের সুশীল সমাজঃ
-----------------------------------------------
সৎ বা অসৎ উদ্দেশ্য সামনে রেখে নিজের বা অন্যের কোনো বক্তব্য, ঘটনা... 'সত্য নয় জেনেও সত্য' কিংবা 'মিথ্যা নয় জেনেও মিথ্যা' বলে উপস্থাপন করা বা দাবী করাই মিথ্যাচার। যারা মিথ্যাচার করে তারা মিথ্যুক (Liar)। আর যারা সত্য-মিথ্যা না জেনে বা যাচাইবাছাই না করেই প্রচার করে তারা বেকুব (Stupid)।
বাংলা অভিধানে 'মিথ্যুক' অর্থাৎ 'মিথ্যাবাদী' শব্দটির বেশ কিছু সমার্থক শব্দ আছে। যেমনঃ প্রতারক, ধোঁকাবাজ, ধাপ্পাবাজ, জোচ্চোর,ঠগ,ধূর্ত.... ইত্যাদি, ইত্যাদি। ঠিক তেমনি বেকুবের অসংখ্য সমার্থক শব্দ আছে। মিথ্যুক'রা উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য জেনে-বুঝে মিথ্যাচার করে। বেকুব'রা না জেনে- না বুঝে অর্থাৎ ব্রেইনওয়াশ হয়ে মিথ্যাচার করে।

যথেষ্ট জানা না থাকার কারণে বেকুবদের মস্তিষ্ক যে যা বলে তৎক্ষণাৎ সেটাই সত্য মনে করে। উদাহরণ, ধরুন আপনি জানেন, "জাতির বঙ্গবন্ধুকে ১৫ ই আগস্টে হত্য করা হয়েছিলো।" এখন কেউ যদি দাবী করে ''বঙ্গবন্ধুকে ১৫ই অক্টোবর হত্যা করা হয়েছে'' এবং তার বক্তব্য আরো শক্ত করার জন্য নামীদামী কোনো নিউজপেপারের রেফারেন্স'সহ চ্যালেঞ্জ করে। আমি শিওর, আপনাকে বিশ্বাস করাতে পারবে না।
কারণ, আপনি সত্য জানেন। যেটা সর্বজন স্বীকৃত। আশাকরি বেকুবদের ব্রেইনওয়াশের মূল কারণ'টা ধরতে পেরেছেন। হ্যা, পর্যাপ্ত না জানা।
আমাদের দেশে মিথ্যুক এবং সচেতন সুশীলদের চাইতে বেকুবদের সংখ্যটা অনেক অনেক অনেক বেশি। তাই সংখ্যায় কম থাকা সত্ত্বেও মিথ্যুক'রা সহজেই নিজেদের উদ্দেশ্য হাছিল করতে পারে। তারা মুহূর্তেই জেলবন্দি আসামিকে চাঁদে পাঠিয়ে দেয় আবার গরুর দড়ি পরিয়ে তারেক জিয়াকে ফ্যানের সাথে জুলিয়ে সুইসাইড করিয়ে নরকে পাঠিয়ে দেয়। তাদের মিথ্যাচারের বিপরীতে আমাদের সচেতন মহল বরাবরই নীরব। তিনারা কখনো কখনো সবাইকে (বেকুব ও মিথ্যুকদের) গণহারে 'ছাগু' বলে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। মিথ্যুকদের শাস্তি বা বেকুবদের শুধরানো'র ব্যাপারে তিনাদের উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা নেই। অথচ, তিনারা চাইলেই মিথ্যুক এবং বেকুবদের সংখ্যাটা আরো কমিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারতেন।
গত সন্ধ্যা থেকে ফেইসবুকে সাম্প্রতিক সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হামলাকারীদের একজনকে নিয়ে বেশ হইচই চলছে। সকালে এই ইস্যু নিয়ে এলাকার দু'চার হালি ভাই ব্রাদার্স'কে শ্লীল, অশ্লীল ভাষায় তর্ক-বিতর্ক করতে দেখে (তারা লীগ-দলে বিভক্ত হয়ে পার্সোনালি আক্রমণাত্মক মন্তব্য তথা হুমকি ধমকিও দিচ্ছেন। দল সমর্থকদের দাবি, হামলাকারী ছবির মানুষ'টি ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক 'মুহাম্মদ ইব্রাহিম মিয়া'। লীগ সমর্থকদের দাবী, হামলাকারী ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের 'ইব্রাহিম কার্দি'।) উভয়পক্ষের স্কীনশর্ট থেকে নাম সার্চ করে ('Mohammad Ibrahim Miah' ও Ibrahim 'Kaerdee'
*

*

কারো চেহারা'ই সরাসরি হামলাকারীর সাথে মেচ হচ্ছে না। সুতরাং, হামলাকারী তারা নাও তো পারেন। তবুও যদি কেউ এদের মধ্যে থেকে একজনকে হামলাকারী সিলেক্ট করতে বলেন। আমি ছাত্রলীগের 'মুহাম্মদ ইব্রাহিম মিয়া'কে'ই সিলেক্ট করবো। বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, কালার, ফেইসকাটিং সব ক্ষেত্রেই ছাত্রলীগের ইব্রাহিম মিয়া এগিয়ে। ইব্রাহিম কার্দি (ছাত্রদলের) দ্বারে কাছেও নায়।
* মুহাম্মদ ইব্রাহিম মিয়ার টাইমলাইন থেকেঃ


* ইব্রাহিম কার্দির টাইমলাইন থেকেঃ


ফেবু ঘেটে আরো জানতে পারলাম, জয়দেব নন্দী নামের এক লীগার সোশ্যাল ভাদ্রলোক এই বিতর্কের জন্মদাতা। ছবির সাথে ব্যক্তির যথেষ্ট মিল না থাকার পরেও তিনি মিথ্যে প্রচার করেছেন। অতএব, আমি বলতেই পারি তিনি একজন দলকানা মিথ্যুক। এবং যারা সেটা সত্য মনে করে গিলছে তারা বেকুব। (যারা মিথ্যা জেনেও জয়দেবের সাথে সুর মিলিয়েছে বা মিলাবে তারাও জয়দেবের মতো।)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ১১:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



