জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো অনলাইনে "বাংলাদেশের গত ডিসেম্বরের নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি: যুক্তরাষ্ট্র" শিরোনামে একটি নিউজ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের মানবাধিকার প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছে। তারা বলছে বাংলাদেশ সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নই।(সত্য।)
প্রথম আলোর অনলাইন পাঠকবৃন্দ এই নিউজের কমেন্ট সেকশনে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সরকার বিরোধী'রা প্রতিবেদন সম্পর্কে পড়ে খুশি হলেও সরকার সমর্থক'রা বিরক্ত। তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর কে! তাদের সুষ্ঠু বা অসুষ্ঠু বলায় আমাদের কি আসে যায়! দেশে যে গনতন্ত্র আছে এনাফ, আমরা উন্নতি চাই... ইত্যাদি। সরকারের অন্ধ সমর্থক বা অন্ধ বিরোধীদের বলবার কিছুই নেই। তাদের কাছে দেশ, জনমানুষ উন্নতি এসবের চাইতে ক্ষমতায় টিকে থাকা বা ক্ষমতায় যাওয়াটা বেশি ইম্পর্টেন্ট। উন্নয়ন, ভালোমন্দ সেসব নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। কিন্তু যারা উন্নয়ন, উন্নতির দোহাই দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতিবাচক মন্তব্য অগ্রাহ্য করে স্বৈরাচার সরকারের ডাকাতিকে সমর্থন করছেন তাদের জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে-
আওয়ামীলীগ যেভাবে দেশ চালাচ্ছে সেভাবে আরো ২০ বছর শাসন করেও কি সামরিক, আর্থিক অর্থাৎ সবদিকেই দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে গড়তে পারবে? কিংবা তাদের(যুক্তরাষ্ট্রের) মন্তব্য, চাওয়া অগ্রাহ্য করার মতো সামর্থ্য কি আমাদের আছে? (সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য ঘাড়ত্যাড়ামি করলে করতেও পারে। প্রশ্ন, সরকার তাদের অগ্রাহ্য করলে এর ফলাফল কি আমাদের জন্য ভালো হবে?)
৭২'রে স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বিভিন্নরকম আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছে। পল্লী জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন বা পল্লী দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষে তাদের USAID নামক একটি সংস্থার কার্যক্রম সংবাদপত্রে প্রায়ই চোখে পড়ে। ৪-৫ দিন আগেও দেখেছি, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে তাদের সাহায্য অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। এছাড়াও আমাদের গার্মেন্টস সেক্টর মূলত তাদের জন্যই টিকে আছে। এইসব সর্বপরি বিষয় বিবেচনা করলে, তাদের মতামত অগ্রাহ্য করার সামর্থ্য এখনো আমাদের হয়ে ওঠেনি। আর আমাদের সরকার যেভাবে দেশ চালাচ্ছে সেভাবে চলতে থাকলে ৫০বছরেও সেই সামর্থ্য হবেনা।
উন্নয়নের নামে কারণে অকারণে বাজেট বাড়ালেই দেশ উন্নত হয়ে যায় না। স্রেফ দুর্নীতিবাজ নেতা, আমলা কামলাদের পকেট ভারী হয়। এভাবে নীতিনৈতিকতাহীন আমলা কামলাদের দুর্নীতি আর সরকারের রোডম্যাপ বিহীন কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে কয়েকবছর পর, দ্রব্যমূল্য অতিমাত্রায় বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ না খেয়ে মরবে। প্রবাসীরা ত্যাক্ত হয়ে দেশে ফিরবে! (কারণ দেশে দিনদিন যেভাবে দ্রব্যমূল্য ফুরফুর বাড়ছে, শ্রমের মূল্য বাড়ছে প্রবাসে প্রবাসী শ্রমিকদের বেতন এর দশ শতাংশও বাড়ছে না)
লক্ষণীয়ঃ মৌসুমী ফসলের মূল্য কম থাকায় ফসল উৎপাদন কারী সাধারণ কৃষক'রা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। পকেট ভারী হচ্ছে আড়তদার ব্যবসায়ীদের। ফলে ধীরেধীরে চাষবাস থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সাধারণ কৃষক'রা । ফলে দিনদিন চাষীদের সংখ্যা কমছে। বাড়ছে বেকারত্বের সংখ্যা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সরকারের দায়িত্বশীল দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা এসব বিষয়ে উদাসীন। সুতরাং উন্নয়ন, উন্নতি বলে ফেনা তুলে যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্য অগ্রাহ্য করার পূর্বে সরকারের আমলা-কামলা, নেতা মন্ত্রিদের দুর্নীতি বন্ধে আওয়াজ তোলা উচিত। এবং এরিই সাথে কৃষকশ্রেণী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ বেকার জনগোষ্ঠীর কথা মাথায় রেখে যথাযথ প্ল্যান পরিকল্পনা গ্রহণে সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করা। না হলে, কয়েকবছর পর এইসব তথাকথিত ইউটিউব, ফেইসবুক, থ্রিজি-ফোরজি আর রড়ের বদলে বাশ মার্কা উন্নয়নের চিপায় পড়ে কুকড়ে মুকড়ে মরতে হবে!
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মার্চ, ২০১৯ ভোর ৫:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





