কিছু করার বা বলার পূর্বে আমাদের ব্রেইন বিদ্যুৎ গতিতে তার নেগেটিভ ও পজেটিভ বিভিন্ন দিক ভেবে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত দেওয়ার চেস্টা করে। যাদের ব্রেইন একসাথে নেগেটিভ-পজেটিভ বা একাধিক চিন্তা করার ক্ষমতা রাখে না; সমাজ, রাস্ট্র তাদের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বলে ট্যাগ দেয়। বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের কর্মকাণ্ড, কথাবার্তা সমাজ-রাস্ট্রের কাছে মূল্যহীন! কিন্তু সমাজ বা রাস্ট্রের বড়বড় চেয়ারে বসে বসে কিছুকিছু মানুষকে নিয়মিত বড়বড় কথা বলতে শুনা যায়। তাদের কথাগুলো শুনতে অনেকটা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের কথাবার্তার মতো বেসামাল শুনায়। মনে হয় মাত্রাতিরিক্ত মদ বা নেশাজাতীয় কিছু সেবন করে কথা বলছেন। (যেহেতু
মদ বা নেশাজাতীয় দ্রবাদি কিছুক্ষণের জন্য ব্রেইনের কর্মকাণ্ড স্থবির করে দেয়। তাই মাত্রাতিরিক্ত মদ পানকারী মানুষগুলোও মদ্যপানের পর কিছুসময়ের জন্য বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের মতো বেসামাল কথাবার্তা বলে থাকে।) আসলে তেমন কিছুই না। তারা সুস্থ মস্তিষ্কে আজগুবি কথাবার্তা বলে বলে বড়বড় অপকর্ম ধামাচাপা দেওয়ার চেস্টা করেন।
সম্প্রতি আমাদের অর্থমন্ত্রী ব্লুমবার্গের জরিপের সূত্র ধরে বলেছেন, দেশের অর্থনীতি নাকি কানাডা ও থাইল্যান্ডের সমান। ব্লুমবার্গের জরিপ, মন্ত্রী সাহেবের বক্তব্যের কিঞ্চিত সত্যতা থাকলেও সবি আমার কাছে চাপাবাজি- গাজাখুরি মনে হচ্ছে কারণ আমি বাস্তবে দেশের মানুষের দিনযাপন চিত্র দেখছি।
দেখছি, কৃষকেরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল উৎপাদন করেও দুইবেলার খাবার যোগাড় করতে পারছেন না। প্রথমআলোতে "হাওরের ধানে খুশি কৃষক, দাম নিয়ে চরম হতাশা"- শিরোনামে কৃষকদের হাহুতাশের প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। জাতীয় দৈনিকগুলোতে চাকরিহীন বাবার দুধ চুরির নিউজ প্রকাশিত হচ্ছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অপ্রত্যাশিতভাবে বাড়ার কারণে দিনমজুর শ্রমিক, প্রবাসী, সাধারণ চাকুরীজীবিদের ভাগ্যেরও কোনো উন্নতি ঘটছে না।
২০১৬ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতের ‘বাংলাদেশে কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারের রাজনৈতিক অর্থনীতি’ শীর্ষক এক গবেষণায় পাওয়া তথ্যমতে
দেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১০ কোটি ৫৫ লাখ মানুষ এখনও দরিদ্র। যা মোট জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশ। এছাড়া মোট জনসংখ্যার ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ বা ৫ কোটি এক লাখ মানুষ মধ্যবিত্ত শ্রেণির। আর ৪৪ লাখ বা মোট জনসংখ্যার ২ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ ধনী। অর্থ্যাৎ দেশের অর্থনীতি মাত্র ২.৭ শতাংশ কিংবা তার চাইতেও কম মানুষের পকেটে। দিনদিন এই ২-৩ শতাংশ মানুষই আংগুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে বিপরীতে বাকিরা হচ্ছে নিঃস্ব, স্বর্বস্বান্ত। এমতাবস্থায় মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের এমন বক্তব্য চাপাবাজি, গাজাখুরির ক্যাটেগরিতে না ফেলা নিসন্দেহে দলান্ধতার লক্ষণ। মাননীয় পাঠক, আমি আওয়ামী সমর্থক হলেও দলান্ধ নই! তাই.....
২।
উপরেই উল্লেখ করেছি। "হাওরের ধানে খুশি কৃষক, দাম নিয়ে চরম হতাশা"- শিরোনামে প্রথমআলো গতকাল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন'টি পড়বার পর থেকে রহিম আলী চাচাকে খুব মিস করছিলাম। চাচার বাড়ি হাওরপাড়ের এক ছোট্ট সবুজ একটা গ্রামে। অর্ধযুগ আগের এক বর্ষার দুপুরে আমরা কয়েকজন হাকালুকিতে ঝড়ের কবলে পড়ে বাধ্য হয়ে রহিম চাচার বাড়িতে উঠেছিলাম। চাচা আমাদের স্টিমার চালক নাজিম ভাইয়ের মামা শ্বশুর। বিকেলে। ঝড় শেষে হলে, ফেরার পথে বাধা হয়ে দাড়ালেন চাচা। বললেন, 'ও বেটাইন আইজ থাকি যাও। যাওয়ার কাম নাই। পথও তুফান আইতে পারে। দিনকালও এখন ভালা নায়। মানুষ আর মানুষ নাই।'
চাচীও কিছুতেই ছাড়তে চাইলেন না। শেষপর্যন্ত থেকে গেলাম। সন্ধ্যায় বৃষ্টির সাথে ঝড়ো হাওয়া শুরু হলো। চাচী রঙ চা আর আগুনে ভাজা নতুন ধানের মুড়ি সামনে দিলেন। আরো দিলেন ভাজা চাল।
সেইরাতে চাচা চাচীর আপ্যায়ন, পাশের বাড়ির মতি ভাই, ফয়সালদের আন্তরিকতা আজীবন মনে রাখার মতো ছিলো। তারপর আরো অনেকবার রহিম চাচার বাড়িতে গিয়েছি।
গতকাল প্রতিবেদ'টি পড়ে গতকাল চাচাকে কল দিয়েছিলাম। আজও কিছুক্ষণ চেস্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফয়সাল ভাইকে কল দিলাম। ফয়সাল ভাই রহিম চাচাদের প্রতিবেশী। তিনি জানালেন চাচা ভালো আছেন। ফোনে চার্জ না থাকায় হয়ত বন্ধ। আবহাওয়া খারাপ থাকায় এলাকার সৌরবিদ্যুতগুলোতেও নাকি আজকাল চার্জ হচ্ছে না।
ধানের বর্তমান বাজার, উৎপাদনের খরচাপাতি সম্পর্কেও কথা হলো ফয়সাল ভাইয়ের সাথে। তারা প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ১২-১৪ হাজার টাকা খরচ করে ১৮ থেকে ২০ মণ ধান পেয়েছেন। অর্থাৎ ১ মণ ধান উৎপাদন করতে তাদের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬৫০-৭০০ টাকা। কিন্তু এখন ১ মণ ধান ৪৫০-৫০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রতি বিঘায় তাদের ৩-৪ হাজার টাকা লোসকান গুনতে হচ্ছে। সরকার প্রতি মণ ধানের মূল্য ১০৪০ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও বাস্তবায়নে কোনপ্রকার সরকারি পদক্ষেপ নেই। কেনো নেই? জবাব খুজলে দ্যাখা যাবে-
ধানের বেসরকারী এই বাজার মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে দেশের গুটিকয়েক বড়বড় ধনকুবের মিল মালিক। যাদেরকে সরকার কোটি কোটি টাকা লোন দিচ্ছে। এবং সেই লোমের টাকা বিদেশে পাচারের সুযোগও করে দিচ্ছে। অতঃপর আবার কৌশলে রহিম চাচাদের মতো পরিশ্রমী, মহৎ মানুষের রক্ত চুষে চুষে সেই টাকা সরকারি ফান্ডে জমা করছে। কি খাতরনাগ রক্তচোষা জোকদের খপ্পরে পড়েছি আমরা!
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১২:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



