আমার প্রথম মোবাইল কেনার গল্পোটা বেশ জটিল। তখন মোবাইল সিম যে আর বাজারের সিমের মতো সস্তা ছিলো না। একটা সিম চার থেকে পাচ হাজার টাকা, আর ডিমের হালি ছিলো বারো টাকা মাত্র। আমরা সে সময় মিস কল দিয়ে একে আপরকে স্মরন করতাম। আর একবার কল ধরা খেলে খসে যেত ছয়টি টাকা মাত্র -দুইটা ডিমের দাম। আমি যাহোক চেয়ে চিনতে আর টিউশনি করে কিছু টাকা যাও জমালাম, তা দিয়ে একটেল এর আজাদ ভবনে বিরাট লাইন পেরিয়ে সাধের একটেল সিম কিনলাম। তখন একটেল ‘লিঙ্ক টু স্টান্ডারড’ নামে মাত্র (!) আড়াই হাজার টাকার সিম ছেড়েছিলো...... আর তাতেই আমরা পাঙ্খা। সিম ত কিনলাম কিন্তু সেট পাবো কই? নিদেনপক্ষে পনেরো হাজার টাকার ধাক্কা। যা হোক আমার প্রিয় বন্ধু বশির তার বড়লোক দুলাভাইয়ের কাছ থেকে একটা সিমেন্স এর পুরান সেট মানেজ করে দিলো।তবে সেটটার একটা সমস্যা ছিল বটে, রিংটোন ছিলো নষ্ট...... হাতে নিয়ে ঘুরতে হতো যাতে ভাইব্রেশন মিস না যায়। যা হোক নেই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো...... তাও রিংটোন না থাকার যন্ত্রনা ছিলো মনের ভিতরে বটে। একদিন দেখলাম আমার বন্ধু ইরফান আমার মতই একটা পুরোন সেট নিয়ে হাজির...... যা হোক, ওঁরটা নেড়ে চেড়ে দেখি আমার থেকে এককাঠি সরেস, ওঁরটার রিংটোনও
নেই ভাইব্রেশনও নেই! তা হলে কল আসলে বুঝিস কেম্নে? হাতে নিয়ে তাকায় থাকি, কল আসলে back light blink করে তখন বুঝি। হুম...... সারাদিন তাকায় থাকা তো কঠিন বটে!অবশ্য কল খুব একটা আসতোও না...... তাইত কল আসলে আমাদের ভার্সিটির পিলু ভাই খুশিতে হাত তালি দিয়ে উনার কিম্ভুত ব্যক ড্যানস দিয়ে জানান দিতেন কল আসছে...... সে সময় ইত্যদিতে একটা কৌতুক নাট্য দেখিয়েছিলো, এক মুচি আরএক মুচির কাছে মোবাইলে খোজ নিচ্ছে, ফ্রি আছে কিনা? কাস্টমার পাঠাবে তাই... আজ সেই কৌতুক যেন সত্যি আমাদের রোজকার জীবনে।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০১৫ দুপুর ২:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




