ছোট থাকতে আমরাই বোধহয় খুব আল্প কিছু ভাগ্যমানদের একজন যারা বিনে পয়সায় ভার্সিটি শিক্ষকের কাছে কিছুটা জ্ঞান অর্জন করেছি। বাবা ভার্সিটি শিক্ষক বিধায় আমাদের সামনে এই সু্যোগ উম্মুক্ত ছিল। তবে বাবা আমাদের পড়াশুনার ব্যপারে আগ্রহী হতেন খুব কমই। স্কুলের শিক্ষক মণ্ডলী কতৃক ব্যপক ভাবে লাল আন্ডা (যদিও তখন আন্ডার ডজন মাত্র ছত্রিশ টাকা ছিল আর এখন মাত্র একশ বিশ টাকা) প্রাপ্ত হলে মা বাবাকে যখন এই বলে খোটা দিতেন--- “পরের ছেলে পেলে তো বেশ মানুষ করছ...... নিজের ছেলের ত গো মুর্খ হওয়া ছাড়া কপালে কোন গতি নেই (অবশ্য গো তথা গরু মহাশয়কে তখন মুর্খ উপাধি দেয়া হলেও আমরা অবশ্য ফেসবুকের কল্যনে আগেই জেনেছি, পৃথিবীর অতি চালাক প্রানী হচ্ছে গরু......কেননা আতি চালাকের গলায় দড়ি এইটা আমাদের মানব সমাজে ব্যপক ভাবে প্রচলিত আর গরু মহাশয়েরও সদা গলায় দড়ি ঝুলায়িত থাকে তাই যুক্তি বিদ্যা অনুষারে...তারা অতি চালাক প্রানী বটে; বর্তমান যুগ হইলে বলা যায় না হাইকোর্টে এই নিয়ে গরু কতৃক মানহানি মামলাও রুজু হয়ে যেতে পারত অথবা হাইকোর্ট থেকে সতঃ প্রনোদিত রায়ও দিয়ে দিত!!!)”, তখন বাবা অগ্নি মূর্তি ধারন করে প্রথমেই কিছু উত্তম মধ্যম দিয়ে বই নিয়ে আসতে বলতেন। অবশ্য উত্তম মধ্যম খাওয়ার পর আমাদের ব্যপক কান্না কাটির কারনে কপালে কিছু চকলেট চিফসও জুটে যেত। বাবা অবশ্যি কিছুক্ষন পড়িয়েই উঠে যেতেন। আম্মা বলতেন এইটুক পড়িয়ে শেষ ...... ওরা আর পরীক্ষায় কি পারবে? বাবা একবার মুখ ফস্কে বলেই ফেলেছিলেন ওরা পারবে না মানে ওদের বাপে পারবে...... আমার ছোট খালা আর চাচাও ছিলেন। সবাই ধরলেন আব্বারে কি বল্লেন দুলাভাই! ওদের বাপে ত পারেই... সেই নিয়ে ব্যপক হাসাহসি। বাবারও না হেসে উপায় ছিলও না......হাসাহাসিতে সে যাত্রা পড়ালেখা থেকে বেচে গেছিলাম বেশ মনে পড়ে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৩:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



