১ ।
এক যে ছিল পাখি । সে ছিল মূর্খ । সে গান গাহিত শাস্ত্র পড়িত না । লাফাইত উড়িতে জানিত না আর জানিত না কায়দাকানুন কাকে বলে ।
রাজা তার লোকজনকে ডেকে বললেন এমন পাখিত কাজে লাগে না । অথচ বনের ফল খাইয়া রাজহাটে ফলের বাজারে লোকসান ঘটায় ।
রাজা মন্ত্রীকে ডাকিয়া বললেন পাখিটাকে শিক্ষা দেও ।
২।
রাজা ভাগিনাদের উপরে পড়লো পাখিটাকে শিক্ষা দিবার দায়িত্ব । পন্ডিতেরা বসিয়া অনেক বিচার করলেন । প্রশ্ন এই উক্ত জীবের অবিদ্যার কারণ কী । সিদ্ধান্ত হইল সামান্য খড়কুটা দিয়া পাখি যে বাসা বাঁধে সে বাসায় বেশি বিদ্যা ধরে না । তাই সবার আগে দরকার পাখির জন্য ভালো করে খাঁচা বানানো । রাজপন্ডিতেরা কিছু দক্ষিণা পাইলেন রাজার কাছে তা নিয়ে খুশি মনে বাড়িতে ফিরিয়া গেলেন ।
৩।
স্যাকরা বসিলেন সোনার খাঁচা বানাইতে । খাঁচাটা হইল এমন আশ্চর্য যে খাঁচাটা দেখিবার জন্য দেশ বিদেশ থেকে লোক আসিল ।
কেহ বলে শিক্ষা যোদি নাও হয় খাঁচাত হইল । দেখ হে পাখির কি কপাল ।স্যাকরা থলি বোঝাই করিয়া বকশিশ পাইল । সে খুশি হইয়া তখনি বাড়ি দিকে পাড়ি দিল ।
পন্ডিত বসিলেন পাখিকে বিদ্যা শিখাইতে । আবার পন্ডিতেরা বলিলেন অল্প পুঁথি কর্ম নয় ।
ভাগিনা তখন পুঁথি লেখকদের তলব করিলেন । তারা পুঁথির নকল করিয়া এবং নকলের নকল করিয়া পর্বত প্রমান করিয়া তুলিল । যে দেখিল সে বলিল সাবাস । বিদ্যা আর ধরে না ।
লিপিকের দল পারিতোষিক লইয়া বলদ বোঝাই করিয়া তখনি ঘরের দিকে দৌড় দিল ।
তাদের সংসারে আর টানাটানি রহিল না ।
অনেক দামের খাঁচাটার জন্য ভাগিনাদের খবরদারির সীমা নাই । মেরামত তো লাগিয়াই আছে । তার পরে ঝাড়া মোছা পালিশ করার ঘটা দেখিয়া সকলেই বলিল উন্নতি হইতেছে । লোক লাগিল বিস্তর এবং তাদের উপরে নজর রাখিবার জন্য লোক লাগিল আর বিস্তর ।
তারা মাসকে মাস মুঠা মুঠা তনখা পাইয়া সিন্দুক বোঝায় করিল ।
তারা এবং তাদের মামাতো খুড়তুতো মাসতুতো ভাইরা খুশি হইয়া কোঠা বালাখানায় গদি পাতিয়া বসিল ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



