ক্ষুদা পেটে বিস্কিট খাওয়ার চেয়ে বড় প্রতারণা ক্ষুদার্ত পেটের সাথে আর কিছু হতে পারেনা। আগের সেই পুরনো দিনগুলোতে যখন মাকে বলতাম, মা ক্ষুদা লাগছে। তখন মায়ের উত্তর ভাঙা রেকর্ডের মত সেই একটাই বাজত। "যা ভাত খা!"
আগের চেয়ে এখন ভাত খাওয়া কিছুটা কমিয়েছি। কিন্তু বাঙালদের কম মানেও তো ২ থালা। যেদিকেই তাকাই শুধু কার্বোহাইড্রেটে ভরা। শরীরের সাথে এখন প্রায়শই জরুরী মিটিংয়ে বসতে হয়। শরীরের প্রমোশন আর আমার ডিমোশনের জন্যেই আজ এই অবস্থা।
ডিমোশনের কথা বলতেই ডিমের কথা মনে পরে গেল।
এই অদ্ভুত এক জিনিস সেই ছোটবেলা থেকেই খেয়ে আসছি। কখনও জীবন খাতায় আবার কখনও হাতের লোকমায়। তবুও এক বিন্দুও অভক্তি আসেনি।
খাওয়া বলতে প্রতিদিন ৩ বেলা খাই। তবে মাঝেসাঝে কোন এক বেলা স্কিপ হয়ে গেলেও গিন্নির হাতের নাশতা দিয়ে সেটা পুষিয়ে যায়।
ইদানীং ভরপেট না খেয়ে কিছুটা পেট খালি রেখে খাওয়ার চেষ্টা করছি। কষ্ট হচ্ছেনা যে তা না। তরকারিটা এত মজা হবার পরেও যখন আরেক চামচ ভাত না নিয়েই খাওয়া শেষ করতে চাই, তখন আমার লোভি বুভূক্ষা চোখ দুটো আর্তনাদ করতে থাকে। ভরপেট খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর উঠানো মুখ আমার লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে খাবারের দিকে। তখন পেটের অবশিষ্টাংশ কিছুটা পানি আর বাকিটা আমার চোখের লোভ গিলেই ভরাট করতে হয়।
যদি বলি আগের মতন এখন আর তেমন অবসর পাইনা তাহলে গিন্নি হয়ত আমাকে এক পসলা বৃষ্টি আর এক চিলতে রোদ দেখিয়ে দিবে। যেহেতু গিন্নিই ঘরের সকল কাজ করেন আর আমি বিছানায় কিংবা ডাইনিং এর চেয়ারে বসে ফাকিবাজিতে ব্যস্ত থাকি তাই আমার অবসর না থাকার কোন কারন থাকতে পারেনা। তবুও কেন যেন মনেহয় কোন অবসর নেই এখন। এমন কোন দিন থাকেনা যেদিন গিন্নি জিজ্ঞেস করেনা যে, কিছু খাইবা? কিন্তু আমার অতৃপ্ত আত্মা যে কি খেলে শান্তি পাবে সেটাই ঠাহর করে উঠতে পারিনা।
বাংলাদেশের যেসব শাক সবজি আর ফল এখানে পাওয়া যায়না শুধু ওগুলোর দিকেই মন পরে থাকে। কিন্তু রিজিক খুব অদ্ভুত জিনিস। যা রিজিকে নেই সেই নিয়ে আফসোস করাও ঠিকনা। এখানে আসার পর গাছ থেকে কমলা ছিড়ে খেয়েছি। অনেক বিদেশি ফল আর খাবারও খেয়েছি। কিন্তু ধুপ করে একটা শব্দ শুনার পর দৌড়ে গিয়ে খুঁজে বের করা পাকা আমের স্বাদ কোথাও পাইনি। এসব পড়ে অনেকে বলবে আদিক্ষেতা করছি। কিন্তু সত্যিই পাইনি।
আমি একটা খাবারের লিস্ট বানিয়েছি। যে খাবারগুলো এখানে পাওয়া যায়না কিংবা খাওয়া সম্ভব নয়, দেশে গিয়ে খাব সেজন্যে এই লিস্ট। চুক্কা পাতা ভর্তা থেকে শুরু করে কাঠাল বিচি দিয়ে খাকরানের তরকারি সবই আছে সেই লিস্টে। জানিনা আবার কবে যাব আর প্রান ভরে খাব। এখানে চালের দাম ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইটের গতিকেও ছাড়িয়ে গেছে। জাপানি চালের চেয়ে বাসমতি চালের দাম কম হওয়াতে এটাই খাই। লং গ্রেইন বাসমতি চালের এত সুন্দর ঘ্রান যে ভাত রাধলেও মনেহয় পোলাও এর সুবাস বেরুচ্ছে! কিন্তু তবুও আমার মন সেই ১৫ বছর আগে খাওয়া ১৪ নাম্বার চালের মোটা ভাতের থালাতেই পরে আছে। নাহ, আর কিছু লিখা যাবেনা। তাহলে সবাই বলবে অনেক বেশি আদিক্ষেতা দেখাচ্ছি!
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



