somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোঃ নুরউদ্দিন কবির
পজেটিভ সমালোচনা সবসময় মানুষের ভুলকে শুধরে দিতে সাহায্য করে। কোন বিষয়কে উস্কে না দিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করার চেষ্টা করি। দেশকে ভালবাসি, দেশের মানুষকে ভালবাসি।

ফুটবলের দর্শক শ্রেনীবিভাগঃ এরা কারা?

১৩ ই জুলাই, ২০২১ রাত ৯:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুইটা টুর্নামেন্টই শেষ হলো। খেলার মানের কথা বলতে গেলে অনেক সময়ের প্রয়োজন তবে এবার এই দুই টুর্নামেন্টের দর্শক চাহিদা, দর্শক প্রিয়তা, আবেগ এবং উত্তেজনার উপরে ভিত্তি করে দর্শকদের একটা আশ্চর্য শ্রেনীবিভাগ চোখে পড়েছে। তাদের পরিচয়ই সংক্ষেপে বলা যাক।

প্রথম শ্রেনীঃ এই দর্শকদের কথা সবাই জানেনা কারন এরা অত্যন্ত চুপচাপ থাকেন। এরা ফুটবল খেলাটা দেখেন। অনেকে জানেই না এরা কোন দল সাপোর্ট করেন। প্রতি বছরের বেশিরভাগ ক্লাব লীগগুলো সহ টুর্নামেন্টের খেলাগুলো প্রায় সবই এরা দেখেন এবং উপভোগ করেন। উত্তেজনাকে পাশ কাটিয়ে ফুটবলের সৌন্দর্যকে উপভোগ করেন এই শ্রেনীর দর্শকেরা। মাঝে মাঝে বিশ্লেষণ ধর্মী আলোচনা করতে দেখা যায় তাদের।

দ্বিতীয় শ্রেনীঃ এই শ্রেনীর দর্শকরা কিছু দল এবং কয়েকটা ক্লাবের নাম জানেন। বিশ্বকাপ বা উপমহাদেশীয় টুর্নামেন্টে শুধুমাত্র এই পছন্দের দলগুলোর খেলা দেখেন এবং জয়ে আনন্দ পান ও পরাজয়ে খুব দুঃখও পান। এদের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও তেমন একটা ঝগড়া বা তর্কে জড়াননা, সুযোগ পেলে বা প্রয়োজন পড়লে দুই চারটে কথা এরা প্রিয় দল এবং খেলোয়ারকে নিয়ে বলে থাকেন।

তৃতীয় শ্রেনীঃ এই শ্রেণীর দর্শকেরা মাত্র দুইটি দল চেনেন যার মধ্যে একটি দলের সাপোর্ট করেন, খেলা দেখেন এবং ঐ দলের কিছু বা দুইজন বা একজন খেলোয়ারকে চেনেন। পছন্দের দল ছাড়া যে আরেকটি দলকে চেনেন তার সাপোর্টারদেরকে খুজে বেড়ান এবং তাদের প্রতি প্রচুর ঘৃনা প্রকাশ করেন। সুযোগ পেলে তাদের একহাত নিতে ছাড়েন না। ঝগড়া ও তর্ক করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য এবং পরিসংখ্যান সংগ্রহ করতে থাকেন এবং ক্রমাগত নিজের দলকে বড় করে দেখানোর জন্য এবং ঝগড়ায় জেতার জন্য বেশিরভাগ সময়েই মিথ্যা বা আংশিক মিথ্যা বা অপ্রয়োজনীয় তথ্য উপস্থাপন করে অন্য দলটিকে ছোট করবার তীব্র চেষ্টা চালাতে থাকেন। খেলায় হারলে আইডি ডিএক্টিভেট করা সহ অন্ধকার গর্তে লুকান এবং জিতলে যারা গর্তে লুকিয়েছেন তাদের খুজে খুজে তীব্র অপমান করার সুযোগ হারান না।

চতুর্থ শ্রেনীঃ এই শ্রেনীর দর্শকদের সম্পর্কে বলা কঠিন। তারা কি করবে কখন করবে তা অনুমান করা সাধ্যের বাইরে। এরা অবশ্যই মাত্র দুইটি দল সম্পর্কে জানেন এবং দুই দলের দুইজনের নাম জানেন। এই শ্রেনীর বেশিরভাগ মানুষ নিজের পছন্দের দলের খেলাও দেখেন না, শুধু ঘুম থেকে উঠে নিকটস্থ কাউকে খেলার স্কোর জিজ্ঞেস করেই এরা ঝগড়ায় এবং অপমানের খেলায় লিপ্ত হয়ে যান। নিজের পছন্দের দলের প্রধান খেলোয়ারকে ঈশ্বরের সাথে তুলনা করা সহ অপর দলের প্রধান খেলোয়ারকে গরু গাধা ছাগল মনে করেন ও মাঝে মাঝে তার মৃত্যুও কামনা করেন। নিজের প্রিয় দলের খেলোয়াড়েরা কেউ একটু মাটিতে পড়ে গেলেই প্রচন্ড কষ্টে হৃদয়ে তীব্র ব্যাথা অনুভব করলেও অপর দলের কেউ আহত হয়ে ভাঙ্গা মেরুদন্ড নিয়ে মাঠে অসহায়ের মত কাতরালেও তীব্র আনন্দে হাসতে হাসতে বলেন “উচিত শিক্ষা হইছে”। এহেনো নিচু মানসিকতা নিয়ে বেশিরভাগ সময়েই তারা ঝগড়াঝাটি, অশ্লীলতর্ক এবং প্রয়োজন হলে অপর পক্ষের সাপোর্টারদের মা বাপ তুলে গালাগালি করে মনের ঝাল জুড়ান। কিছু কিছু সময় তো মারামারি করে নাক মুখ থোতা ফাটিয়ে এদের স্থান হয় হাসপাতালে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে। এরা কত নিচে নামতে পারে তা বোঝা এবং বলা অত্যন্ত কঠিন ও কষ্টসাধ্য। অপর দলের কোন সাপোর্টার ফেসবুকে কোন পোষ্ট করলেই এরা কমেন্ট বাক্সে ঝাপিয়ে পড়েন বলে এই শ্রেনীর দর্শকদের চিনে নেওয়া খুবই সহজ। নিজের অজান্তেই এরা নিজেদের পরিচয় দিতে থাকেন।
সকল শ্রেনীর দর্শকদের জন্যই ভালবাসা থাকবে আমার। পৃথিবীর সকল প্রাণী সুখী হোক।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০২১ রাত ৯:১১
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একাত্তরের আগের আর পরের জামাত এখনও এক

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০২ রা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮


গোলাম পরওয়ার বলেছে একাত্তরের জামাত আর বর্তমান জামাত এক নয়। অথচ এক। স্বাধীনতার আগের জামাত আর পরের জামাত একই রকম।
একাত্তরের আগে জামাত পাকিস্তানের গো% চাটতো এখনও তাই চাটে। তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সোনার ধানে নোনা জল

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:১২



হঠাৎ একটা তীক্ষ্ণ শব্দে রেদোয়ানের ঘুম ভাঙল। না, কোনো স্বপ্ন নয়; মেঘের ডাক আর টিনের চালে বৃষ্টির উন্মত্ত তান্ডব। বিছানা ছেড়ে দরজায় এসে দাঁড়াতেই এক ঝলক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরহুম ওসমান হাদীর কারণে কবি নজরুলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ইনকিলাব মঞ্চের জাবের সাহেব মাইকের সামনে দাড়িয়ে যখন বললেন , শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের উসিলায় নাকি এদেশের মানুষ আজ কবি নজরুলের মাজার চিনতে পারছে, তখন মনে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের শিক্ষা - ১

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ৯:২৬



সমাজ আমাদের বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে। কখনো ধন-সম্পদ দিয়ে, আবার কখনোবা কপর্দকশূন্যতা দিয়েও! সমাজের এই পরীক্ষায় কেউ জিতেন, আবার কেউবা পুরোপুরি পর্যুদস্ত হয়ে বিদায় নেন এই ধরাধাম থেকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিষন্ন মেঘের ভেলায় ভেসে....

লিখেছেন ইন্দ্রনীলা, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:২৯



তোমাকে শুধু একটাবার বড় দেখতে ইচ্ছা করে...
এই ইচ্ছায় আমি হয়ে যাই একটা ঘাসফড়িং
কিংবা আসন্ন শীতের লাল ঝরাপাতা,
উড়ে যাই ভেসে যাই দূর থেকে দূরে...
অজানায়...

শরতের কাঁশফুলের পেঁজা তুলো হয়ে
ফুঁড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×