somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন নাস্তিক মামা এবং এক রুপবতী বালিকার গল্প (১ম ও ২য় পর্ব একত্রে)

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ সকাল ১১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১ম পর্ব:
=====
জনৈক জ্ঞানী নাস্তিক মামা একদা ভ্রমন করিবার জন্য বিমানে উঠিলেন। তিনি লক্ষ করিয়া দেখিতে পাইলেন তাঁহার পাশের সিটে বসিয়া এক রুপবতী বালিকা মনোযোগ দিয়া বই পড়িতেছে। নাস্তিক মামা যার পর নাই আনন্দিত হইলেন। এই বালিকার সহিত গল্প করিয়া ভ্রমনের সময়টুকু কতটা আনন্দদায়ক হইবে তাহা ভাবিয়া তিনি পুলকিত হইলেন।

নাস্তিক মামা গলা খাকরি দিয়া বালিকাটিকে বলিলেন, "তুমি কি আকাশ ভ্রমনের সময়টুকু গল্প করিয়া কাটাইতে চাও? ইহাতে সময় দ্রুত কাটিয়া যাইবে।"

বালিকা সন্দেহের চোখে তাকাইয়া উত্তর দিল, "আপনি কি বিষয়ে গল্প করিতে চান?"

নাস্তিক মামা একটু ভড়কাইয়া গিয়া বলিলেন, " না মানে , ...... এ্য্য....এইধর........ এ্য্য.......সৃষ্টিকর্তা বলিয়া কাহারো অস্তিত্ব নাই, বেহেশত নাই, দোজখ নাই ....... মৃত্যুর পরে কোন জীবন নাই -- এইসব বিষয়ে আরকি।" (কথাটি বলিয়া নাস্তিক মামা কাষ্ঠ হাঁসি হাসিলেন)

বালিকা বলিল, "ওকে ঠিক আছে, আপনার গল্পের বিষয়বস্তু খুবই ইন্টারেস্টিং, কিন্তু তার আগে আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।"

"কি প্রশ্ন?", নাস্তিক মামা সাগ্রহে জানিতে চাহিলেন।

"ছাগল, গরু এবং ঘোড়া - এরা সবাই ঘাস খায় কিন্তু ছাগলের হাগু ছোট ছোট গুটি টাইপ, গরুর হাগু একথাল কাদার মত আবার ঘোড়ার হাগু বেশ শক্ত এবং লম্বাটে সাইজের, একই খাবার খাওয়ার পরেও এদের হাগুর ধরন আলাদা কেন? এই বিষয়ে আপনার কি ধারনা?"

নাস্তিক মামা বালিকার বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন শুনিয়া বেশ খানিকটা সারপ্রাইজড হইয়া উত্তর করিলেন,"....হুম.. আমার এই বিষয়ে কোন ধারনা নাই"

বালিকা বলিল, "এই সাধারন জিনিসটা না জানার পরও আপনি কি সত্যি সত্যি নিজেকে 'সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব বিষয়ক আলোচনার জন্য' যথেষ্ট যোগ্যতা সম্পন্ন মনে করেন?"

(ইহা বলিয়া বালিকা পুনরায় বই পড়িতে আরম্ভ করিল)



২য় পর্ব:
=====

রুপবতী বালিকার নিকট হাতে নাতে ধরা খাওয়ার পরে নাস্তিক মামার আকাশ ভ্রমনের আনন্দ মাটি হইয়া গেল। ট্রানজিট এয়ারপোর্টে তিনি তাহার বন্ধু *বিবর্তনবাদী* মামার নিকট মেইল করিয়া হাগুর ধরন আলাদা হইবার কারন জানিতে চাহিলেন।

*বিবর্তনবাদী* মামা অনেক চিন্তা ভাবনা করিয়া উত্তর দিলেন "বিবর্তনের বিভিন্ন ধারায় তাহাদের হাগুর ধরণ পাল্টাইয়া গিয়াছে।"

নাস্তিক মামা ভাবিলেন এইবার বালিকাকে দেখিয়া লইতে হইবে। তিনি এয়ারপোর্টের ওয়েটিং লাউন্জে বালিকাকে খুঁজিয়া বাহির করিলেন, অতঃপর বালিকার নিকটে গিয়া উচ্চ্স্বরে বলিলেন "বিবর্তনের বিভিন্ন ধারায় তাহাদের হাগুর ধরণ পাল্টাইয়া গিয়াছে।"

ওয়েটিং লাউন্জের যাত্রিরা বিরক্ত হইয়া নাস্তিক মামার দিকে তাকাইল, কিন্তু বালিকা নাস্তিক মামার কথা শুনিতে পাইল না।

ইহাতে নাস্তিক মামা পুনরায় উচ্চ্স্বরে বলিলেন "বিবর্তনের বিভিন্ন ধারায় তাহাদের হাগুর ধরণ পাল্টাইয়া গিয়াছে।"

আসলে বালিকার কানে ইয়ারফোন লাগানো ছিল, ফলে নাস্তিক মামার এই কথাটাও বালিকা শুনিতে পাইল না।

নাস্তিক মামা, অস্থির এবং অধৈর্য হইয়া উচ্চস্বরে ক্রমাগত বলিতে লাগিলেন:

"বিবর্তনের বিভিন্ন ধারায় তাহাদের হাগুর ধরণ পাল্টাইয়া গিয়াছে।"
"বিবর্তনের বিভিন্ন ধারায় তাহাদের হাগুর ধরণ পাল্টাইয়া গিয়াছে।"
"বিবর্তনের বিভিন্ন ধারায় তাহাদের হাগুর ধরণ পাল্টাইয়া গিয়াছে।"
"বিবর্তনের বিভিন্ন ধারায় তাহাদের হাগুর ধরণ পাল্টাইয়া গিয়াছে।"
"বিবর্তনের বিভিন্ন ধারায় তাহাদের হাগুর ধরণ.........

নাস্তিক মামা আর বলিতে পারিলেন না, একজন বৃদ্ধা মহিলা ক্ষিপ্ত হইয়া উঠিয়া আসিয়া ঠাশ করিয়া মামার গালে চড় লাগাইয়া দিলেন এবং আর একবার চেচামেচি করিলে থাপড়াইয়া নাস্তিক মামার পাতলা হাগু ছুটাইয়া দিবেন বলিয়া হুমকি দিলেন।

বৃদ্ধা মহিলার চড়ের আওয়াজে বালিকার চৈতন্য হইল। পাশের একজনকে প্রশ্ন করিয়া সে ঘটনাটি জানিয়া লইল। অতঃপর নাস্তিক মামার দিকে তাকাইয়া বলিল, "একজন বৃদ্ধা মহিলার চড় খেয়েই যদি আপনার শক্ত হাগু পাতলা হয়ে যায়, তাইলে হাগুর ধরন পাল্টানোর জন্য আবার বিবর্তনের দরকার কি?"
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×