somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক কাপ চা

১২ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ১০:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক অনেক আগে যখন আমার বয়স ৩ বছর হবে তখন  থেকেও শুরু চা খাওয়া।এখনও মনে পড়ে সেই দিংুলুর কথা অনেক ছোট ছিলাম জয়েন্ট ফ্যামিলি তে থাকতাম।আপু (চাচাতো বোন) চা দিত।একেবারেই অল্প কিন্তু অতটুকু খেতেই যে নেসাটা মাথায় কাজ করত আম্মা দেখলে দিবে না বলে খাট এর নিচে ও লুকিয়ে রাখছিলাম। আরো অনেক জায়গায় হয়ত বা লুকিয়েছিলাম এখন আর মনে নেই।
তারপর বয়স যখন পঁাচ তখন ঢাকায়।তখন হয়তবা আমার আম্মাজান এর মনে হয়ছিল না ছেলে বড় হয়েছে এখন চা দেয়াই যায়। তখন থেকে পুরোদমে শুরু হলো দিনে এক বেলা।
এরপরে র বছরে বাবার সরকারি চাকরি তে মুন্সিগঞ্জ এ চলে আসলাম। স্কুলে যাওয়া শুরু করলাম।তখন চা খেতাম পড়ার বই টা পাশে নিয়ে।মনে আছে অই ছোটবেলায়ই কি আগ্রহ নিয়ে পড়তেছিলাম বা অন্য কাউকে নিয়ে ভাবতেছিলাম আমি ঠিক জানি না তবে চা টা বইয়ের মাঝে ই ফেলে দিয়েছিলাম।
ক্লাস ফাইভে আমি যখন ঢাকায় তখন বাসায় খবরের কাগজ রাখা শুরু করল।আমি চিন্তা করলাম এবার চায়ের পাশে খবরের কাগজ রেখে চা খাওয়া যাবে নি।এক হাতে চা আর টেবিলে খবরের কাগজ রেখে চা টা এক চুমুক দিয়ে ই মনে হলো না এইভাবে হয় না আসলে আমি পনুরায় চা টা নিয়ে আমার রুমেই এসে পড়লাম।এরপর আর কখনও চায়ের পাশে খবরের কাগজ নেই নি।কেন যেন মনে হয় এত অন্যায় অবিচারের খবরের পাশে চায়ের কাপ তা যায় না।
দুই বেলা চা কবে শুরু করলাম তা ঠিক মনে নেই।হয়ত বা যখন ক্লাস সেভেন ই অথবা যখন অষ্টম শ্রেণিতে।তবে এরপর থেকে দুইবেলায়ই চলছে।সকাল সন্ধ্যা।
এক সময় ই আম্মাজান আবিস্কার করল দুধ চা ভালো না।টিভিতে কোন ডাক্তার বলে বলছে। তো আম্মারে বুঝানের চেষ্টায় লাভ না হলে ও একটা সমোঝতা চুক্টিতে আছি সেটা হলো এক বেলা দুধ চা আর এক বেলা লাল চা।
কলেজ লাইফে এই রুটিনেই আমি চা গিলছি।
এর পর পাবলিক ভার্সিটিতে পড়ার জন্য যখন আমি বাসা থেকে অনেক দূরে তখন চা টা ক্যান্টিনে আর টং এই হত।তখন কিন্তু আমার দুধ চা ছাড়াই চলত না।
একটা সময়ে আমি বুঝলাম টং এ সবাই চা এর সাথে একটা সিগারেট ও খায় ভাগ করে।এটা হয়ত বা অনেক মজার ও হবে।কিন্তু এই  অভাগা তা আর পারলই না।কারন সিগারেট টা মুখে দিলেই মুখ গুলিয়ে আছে।আর ধোঁয়ার গন্ধ টা তো আছেই।
তো আরও দুই বছর পর প্রচন্ড মাথা ব্যাথা হত রাতে।রাতে ভাত খেয়েই চলে যেতাম চা খেতে। একা একা যেতে বিরক্তিকরই লাগত। দুই তিনদিন যাওয়ার পর আমি কিছু বন্ধুও পেয়ে গেলাম যারা ওই সময়ই চা খেতে যায়।তারপর  একসাথে যাওয়া রাতের রাস্তায় হাঁটা আড্ডা দেয়া। একটা সময় ছিল যখন দিন রাত তাদের সাথেই থাকতাম, আড্ডা দিতাম।আমাদের তিনজনের একটা গ্রুপ ও ছিল নাম ছিল কাসেম কার্টেল। কি দিন পার করতাম সেই সময়।বন্ধুত্ব জিনিসটা তখন ই তো বুঝেছি।
জিবনে ভালো দিনগুলোর পর খারাপ দিন ও পার করছি। কিন্তু চা ছাড়া একটি দিনও পার করে নি  আমার জানামতে।
চাও খেয়েছি বহুত ধরনের। লাল চা, দুধ চা, লেবু চা বাদেও গ্রীণ টি, চাইনিজ টি, সাত রঙা চা আরও অনেক।তবে বাসায় বানানো লিকারের  দুধ চা এর কাছে এগুলো কিছুই না।
জীবন তো এখনও শেষ হয় নি।বেচে আছি আরও আনেক বছর।সামনের দিনগুলোতে বউয়ের হাতে গরম চা খাব।বুড়ো বয়সে চিনি ছাড়া চা।যাই হোক সুস্থ সবল আর চা ময় হোক সামনের দিনগুলো।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাবধানের মার্ নেই

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৩১


নিউ ইয়র্ক থেকে ফিরার পথে নিউ আর্ক্ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে যখন এরোপ্লেনে উঠে নির্দিষ্ট সীটের কাছে পৌঁছলাম দেখলাম এক প্রৌঢ় ভদ্রলোক জানালার পাশের সিটটাতে অলরেডি বসে আছেন। আইল ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

হারানো বিজ্ঞপ্তি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩১



অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানানো যাচ্ছে যে, গত প্রায় দুই বছর যাবৎ বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান, বিচার ও বিবেচনা - এই পাঁচজনকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একসময় তাঁরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:২৫


মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

শেখ হাসিনা কি ফিরবেন?
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কখনো কখনো একটি বৈঠকের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে- কোন বৈঠকটি হলো, কোনটি হলো না এবং কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×