
উপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে এককোষী প্রানী এ্যামিবার প্রজাতীর Naegleria fowleri কে। এটা উষ্ণ পানিতে বিশেষ করে পুকুর , লেক, নদী, বাড়ীর পানির ট্যাংক, ট্যাপের পানি (যদি ক্লোরিন কম বা না থাকে), সুইমিং পুল (ক্লোরিন কম বা না থাকলে) ইত্যাদি যায়গায় পাওয়া যায়। বাচ্চারা যখন পানিতে খেলা করে বিশেষ করে গরমের সময় , অনেকেই পুকুরের পানি খেয়ে ফেলে ....সাথে সাথে এই এ্যামিবাও গিলে ফেলে...কিন্তু খেয়ে ফেললে কোন সমস্যা না কেননা এরা আমাদের পাকতন্ত্রে বাচতে পারে না কিন্তু এরা যদি কোন ভাবে কারো ব্রেইনে আসতে পারে, তাহলে ই মৃত্যুদন্ড.....এরা কারো ব্রেইনে ঢুকার পর, রোগি বাচার কোন রেকর্ড না বললেই চলে....এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সে ব্রেইন খাওয়া শেষ করে..তাই এদের নাম ই হয়ে গেছে ব্রেইন ইটিং এ্যামিবা। এদের সংক্রমনে পড়ে বিশেষ করে ভাল ভাবে ক্লোরিন ট্রিটমেন্ট না করা সুইমিং পুলে সাতারের পর, সাইনাস দুর করার জন্য কেতলির মত একটা পাত্র (নেটি) থেকে লবন পানি নাকে ঢুকিয়ে ক্লিন করার সময় প্রায় এর দ্বারা আক্রান্ত হয়ে উন্নত বিশ্বে অনেক রোগী মারা যাচ্ছেন.. লবন কে সবসময় বয়েল করা অথবা ফিল্টারড পানিতে ব্যবহার করার জন্য বিদেশে যারা নেটি ইউজ করেন, তাদের মাঝে সচেনতা বাড়াতে সরকার বিশেষ কার্যক্রম নিয়ে থাকে।

গত কয়েক বছর ধরে প্রায় প্রতি বছরেই ১৫-২০ জন মানুষ মারা যাচ্ছেন পাকিস্হানে এই এ্যামিবা দ্বারা...আগেও হয়ত মারা যেত, কিন্তু এখন ডায়াগনসিস করা যায় বলে ধরা পড়ছে...আর এর বিরাট একটা অংশে এই এ্যামিবা ব্রেইনে ঢুকছে অজু করার সময় নাকে পানি নিয়ে বেশী জোরে ভিতরে টানার জন্য। পাকিস্হানে এটা নিয়ে সচেনতা বাড়াতে সরকার ইমাম/চিকিৎসক এদেরকে ট্রেনিং দিচ্ছেন। বিশেষ করে মসজিদের পানিতে ক্লোরিন ট্যাবলেট ব্যবহার করার জন্য ইমামদের প্রশিক্ষন দেওয়া জরুরী...বাংলাদেশেও হয়ত অনেকে মারা যাচ্ছেন কিন্তু এটা কে ডায়াগনসিস করার জন্য যে যন্ত্রপাতী ও এক্সপার্টিজ দরকার সেটা বোধহয় নাই। আর এটার বিরূদ্ধে কোন ঔষুধ ও নাই। সিম্পটম হল মাথা ব্যাথা, জ্বর, nausea (কমন সিম্পটম ঠান্ডা লাগার মত), তাই অনেকেই বুঝতে পারেন না। একবার সিম্পটম আরম্ভ হলে দুই সপ্তাহের মাঝেই অবধারিত মৃত্যু।
Amoeba in Pakistan (Ablution)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


