
আমি প্রায় বলি থাকি যে আমাদের সময় এ বাংলাদেশের বিজ্ঞান বলে তেমন কিছু ছিল না...।এখনকার ইয়াং ছেলেমেয়েরা সেদিক থেকে অনেক ভাগ্যবান যে তারা উন্নত বিশ্বের বিজ্ঞান কে নিজের চোখে দেখছে এবং অনেক ক্ষেত্রে নিজেরা সমান তালে সেই বিজ্ঞান কে চর্চা ও করছে....তার ই হাত ধরে বাংলাদেশের কোম্পানী সাহস করে কভিড ভ্যাকসিন ও বানাচ্ছে...সবই ঠিক আছে কিন্তু সম্প্রতি তারা প্রানীর উপর পরীক্ষা করার জন্য বন থেকে বানর ধরে আনার যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তাতে তাদের পুরা বিজ্ঞান টা কে 'হাস্যকর' ভাবে উপস্হাপন করছে। পুরা পৃথিবীর সামনে এমন হাস্যকর প্রানীর উপর ভ্যাকসিন ট্রায়াল আর কেউ কখনও দেখে নাই। এই ভ্যাকসিন যদি ইফেক্টিভও হয়, তাদের এই বন থেকে ধরে আনা প্রানীর রেজাল্ট কে বিশ্বাস করার কোন যুক্তি দেখি না। বিশ্বে এমন ট্রায়াল কত সাইন্টিফিক ভাবে করা হয়, তা উনাদের জানার কথা...।বন থেকে ধরে আনা প্রানীর একেকটা একেক রকমের জেনেটিক ব্যাকগ্রাউন্ড.. কারো বয়স কম, কারো বয়স বেশী, কারো হয়ত কোন রোগ আছে কারো হয়ত নেচারালি ভাইরাস এ রেজিস্টেন্ড....প্রানীর ট্রায়াল এর প্রানীর ব্যাকগ্রাউন্ড সবার একরকম না হলে, রেজাল্ট এর যে ভ্যারিয়েশন হবে সেটা আসলেই কি সঠিক ভাবে ইন্টারপ্রেট করা যাবে??? ডাটা পিক এন্ড চুজ হবে না তার গ্যারান্টি কোথায়....তার উপর বানর এর মাঝে কভিড তেমন কোন গুরতর ভাবে ইনফেক্ট করে না খুবই মাইল্ড ইনফেকশন হয়। এর চেয়ে ইদুর জাতীয় প্রানী মানুষের মত কভিড এর ভাইরাসে সংক্রমিত হয়।
আর বানর কে ভাইরাস দ্বারা চ্যালেন্জ করার যে ফ্যাসিলিটি (বিএসএল৩ লেভেল), সেটা কি উনাদের আছে। এই ইনফেক্টেড বানর থেকে মানুষে যে সংক্রমন হবে না তার কি গ্যারান্টি। নাকি উনারা শুধু ভ্যাকসিন দিয়ে তাদের ইমিউনিটি রেসপন্স দেখবেন?? এগুলি জানার অধিকার সবার আছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এর সকল প্রটোকল উন্মুক্তভাবে পাবলিশ করা হয়, যাতে ট্রান্সপেরেন্সী বজায় থাকে।
এত সুন্দর একটা উদ্দোগ, এই একটা সস্তা এপ্রোচ এর জন্য পুরা বিশ্বের কাছে 'খেলো' হয়ে গেল। এখন ভ্যাকসিন ইফেক্টিভ হলেও, তার গ্রহনযোগ্যতা যে একেবারে 'নিল' হয়ে যাচ্ছে সেটা বলাই বাহল্য।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০২১ রাত ৯:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




