আমাদের সমাজটা অনেক কুলশিত হয়ে যাচ্ছে। বিয়ের আগে প্রেম নামক ভাইরাসে সমাজের যুবক যুবতিদের চরিত্রহীন করে তুলছে। বর্তমানে অধিকাংশ প্রেম ভালবাসা মানেই হলো প্রতারণা। যে যত বেশী প্রতারণা করতে পারে সে ততবেশী স্মার্ট, সে ততবেশী চালাক। বন্ধু বান্ধব সবাই তাকে বাহ বাহ দিয়ে উৎসাহ দেয়। এই যদি হয় আমাদের নতুন প্রজন্মের স্মার্টনেস! আমাদের সমাজ থেকে কখনো ইবটিজিং/ধর্ষণের মতো বড় বড় অপরাধের মূলোৎপাটন করা সম্ভব না।
নিন্মে এ সংক্রান্ত একটা ঘটনা তুলে ধরা হলো। ঘটনাটি বর্ননা করেন তোফায়েল খান নামক এক ভাই।
একটি দোকানে বসে অপেক্ষা করছি। দোকানের ঠিক
বাইরেই ৫ টা ছেলের দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছে।
কথাবার্তা শুনে বুঝা গেল সবাই বিভিন্ন প্রাইভেট
ভার্সিটির ছাত্র। এদের বয়স হবে ১৯/২০ বছর।
বেশ দূর থেকেই আরেক তরুণের উত্তেজিত চিৎকার
শুনা গেল, “দোস্ত পটাইয়া ফালাইছি।”
ছেলেটি কাছে আসতেই দু’জন জিজ্ঞেস করলো, -
কোনটা পটাইছস ?
- আরে, ওই যে সিটি কলেজের টা। মাত্র
ডেটিং কইরা আসলাম।
- শালা, তুই এই পর্যন্ত কয়টা করলি ? -
বাহুতে ঘুষি মেরে এক বন্ধু জিজ্ঞেস করলো।
- এইটা লইয়া ২৬ টা হইলো !
আরেক বন্ধু ব্যঙ্গ করে জিজ্ঞেস করলো,- তুই
কি ২৬ টা গার্লফ্রেন্ডই একসাথে সামলাছ?
- আরে গাধা, এখন রানিং আছে ৩ টা।
বাকীগুলা তো ব্রেক আপ হইয়া গেছে। কিছু খাইয়া ছাইড়া দিছি, আর কিছু খাইতে দেয়া না দেইখা ব্রেক কইরা দিছি।
তবে এইটার সাথে লং টাইম রিলেশান করুম। বেশ
টাকা পয়সাওয়ালা নাকি শুনলাম।
এই কথাগুলো শোনার পর আমি ছেলেটির চেহারার
দিকে তাকিয়ে দেখলাম এবং ভাবলাম,
- এই ছেলেটিকে হয়তো মা এখনও মুখে ভাত তুলে খাওয়ায় এই ভেবে যে ছেলে আমার এখনও
খোকাই রয়ে গেছে।
- এই ছেলেটির সব আবদার বাবা হয়তো পুরা করেন
কারণ তিনি মনে করেন ছেলেটি তার এখনও যে সেই
ছোট্টটি রয়ে গেছে।
- এই ছেলেটির বোন হয়তো ভাইটিকে প্রচন্ড
ভালবাসে কারণ ভাইটি তাহার কিছুই বুঝে না।
- এই ছেলেকে নিয়ে সমাজ সপ্ন দেখে এরাই
তো আগামীর সম্ভাবনা।
কথোপকথন আমার মনে অনেক গভীর
দাগে কেটেছে। এই তারুণ্যই
কি আমরা চেয়েছিলাম ?? ..... Shame !
Shame !
[লিখাটি ইতিপূর্বে ফেইজবুক ফ্যান ফেইজ The story of break up] এ প্রকাশিত

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




